২০১৯-০৩-১৪ ১৯:০৮ বাংলাদেশ সময়
  • মার্কিন সিনেট
    মার্কিন সিনেট

মার্কিন সিনেটের প্রতিনিধিরা একটি প্রস্তাব পাশ করেছেন যেখানে ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি সমর্থন বন্ধ করে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবের পক্ষে ৫৪ ভোট এবং বিপক্ষে ৪৬টি ভোট পড়ে।

এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য তিনটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। প্রথমত, অবশ্যই প্রতিনিধি পরিষদের অনুমতি লাগবে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেট দলের সদস্যরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় সেখানে এ প্রস্তাব পাশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি পাশ হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাতে ভেটো দিতে পারেন। তৃতীয়ত, ট্রাম্প ওই প্রস্তাবে ভেটো দিলেও তা বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন লাগবে। তবেই দেশটির সরকার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি সমর্থন স্থগিত রাখবে। কিন্তু কংগ্রেসের দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন পেতে ব্যর্থ হলে সৌদি আরবের প্রতি মার্কিন সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হবে কিনা সে বিষয়টি বাদ দিয়ে বলা যায়, এ প্রস্তাবের মাধ্যমে কিছু বার্তা দেয়া হয়েছে। যেমন এ প্রস্তাবের মাধ্যমে ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অপরাধযজ্ঞ ও মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতি আমেরিকার প্রভাবশালী বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সমর্থনের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এর আগেও মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন সদস্য ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমেরিকার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের মুসলিম সদস্য এলহান ওমর সৌদি আরবকে মানবাধিকার পরিষদের সবচেয়ে বড় অপব্যবহারকারী হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মানবাধিকারের চাইতেও অস্ত্র নির্মাতাদেরকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

মার্কিন সিনেটে এই প্রস্তাব পাশের আরেকটি বার্তা হচ্ছে, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে আমেরিকার ভেতরে তীব্র মতপার্থক্য বিরাজ করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার কেবিনেটের সদস্যরা সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করলেও ডেমোক্রেট দলের বেশিরভাগ সদস্য ও রিপাবলিকান দলের অনেকে রিয়াদের সঙ্গে বিরাজমান সহযোগিতা বন্ধ করে দিয়ে দেশটির ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

বর্তমান অবস্থা থেকে বোঝা যায়, মার্কিন সিনেটের বেশিরভাগ সদস্য সৌদি আরবের ওপর চাপ বাড়ানো এবং দেশটিকে সহায়তা দেয়া বন্ধ করে দেয়ার বিষয়টিকে সমর্থন করেন।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশের ঘটনা থেকে আরেকটি যে বিষয় ফুটে উঠেছে তা হচ্ছে ওয়াশিংটনের কাছে সৌদি পেট্রো ডলারের গুরুত্ব কমে গেছে। বিশেষ করে সৌদি পেট্রো ডলার ও সৌদি লবিং গ্রুপের প্রভাব ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে আমেরিকায়।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এসব বার্তা থেকে বোঝা যায়, যুবরাজ বিন সালমানের পরবর্তী রাজা হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন এত সহজ হবে না। কারণ পেট্রো ডলারের বিনিময়ে তিনি চেয়েছিলেন সৌদি আরবের রাজা হওয়ার স্বপ্নসাধ পূরণ করতে। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৪

 

 

ট্যাগ

মন্তব্য