২০১৯-০৩-১৫ ১৬:০৬ বাংলাদেশ সময়
  • প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলা
    প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলা

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কিত বার্ষিক প্রতিবেদনে আবার দাবি করেছে, ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

মার্কিন সরকার বিশ্বব্যাপী তার সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যকামী নীতি বাস্তবায়নের অশুভ উদ্দেশ্যে প্রতি বছর মানবাধিকারের মতো একটি মানবিক বিষয়কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

আমেরিকা এমন সময় প্রতি বছর এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে যখন একটি দেশের পক্ষ থেকে অন্য দেশগুলোর মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করার কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃত রীতি নেই। বিশেষ করে আমেরিকা যখন নিজে দেশটির ভেতরে ও বাইরে নির্বিচারে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে যাচ্ছে তখন অন্য দেশগুলোর বিশেষ করে ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে কথা বলার কোনো অধিকার তার নেই।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি যেমনটি বলেছেন, আমেরিকার প্রতিবেদনে ইরানের যেসব ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও বানোয়াট। আর মানবাধিকার লঙ্ঘনে আমেরিকার মতো যে দেশটির কালো ইতিহাস রয়েছে তার পক্ষে এসব ঘটনা নিয়ে কথা বলা মানায় না।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বর্তমানে মানবাধিকার আসলে ইরানের মতো স্বাধীনচেতা দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার লক্ষ্যে পশ্চিমা দেশগুলোর একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।  

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের পাশাপাশি ইউরোপীয় পার্লামেন্টও বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তাদের ভাষায় ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতির সমালোচনা করেছে।  ওই পার্লামেন্ট এমন সময় ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতির সমালোচনা করল যখন মাত্র কয়েকদিন আগে ইউরোপের প্রাণকেন্দ্র প্যারিসে ফ্রান্সের পুলিশ সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। পুলিশের হামলায় বিক্ষোভকারীদের চোখসহ অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। মানবাধিকারের দিক দিয়ে আমেরিকাসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের পরিস্থিতিও তথৈবচ।

ইয়েমেনে সৌদি আরবের পাশবিক হামলায় পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে আমেরিকা

ইয়েমেনে সৌদি আরবের ভয়াবহ আগ্রাসনে পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে আমেরিকার অব্যাহত সমর্থন, সৌদি ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগজি’র বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করা, আমেরিকার রাজনৈতিক ও সামরিক পৃষ্ঠপোষকতায় ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইহুদিবাদীদের পাশবিক নৃশংসতা ইত্যাদি হচ্ছে মানবাধিকারের ব্যাপারে পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বৈত আচরণের সামান্য কয়েকটি প্রমাণ।

বিশ্লেষকরা আরো বলছেন, আন্তর্জাতিক বিষয়াদিতে ইরান স্বাধীনচেতা দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে বলে তেহরান আমেরিকার চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছে। ওয়াশিংটন চায়, মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলো যেভাবে পাশ্চাত্যের তাবেদারি করছে ইরানও তেমনি পশ্চিমা দেশগুলোর পদলেহন করুক। কিন্তু আমেরিকার সে আশা কোনোদিনও পূরণ হবে না।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ইসলামি শিক্ষার আলোকে প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী মানবাধিকার পরিস্থিতিকে মূল্যায়ন এবং সে অনুযায়ী কাজ করে। ইরানের সব ক্ষেত্রে বিশেষ করে নারীদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে ইরান সর্বোচ্চ উপায়ে মানবাধিকার রক্ষা করছে। এ অবস্থায় পশ্চিমা দেশগুলো এভাবে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একের পর এক হস্তক্ষেপ করুক তেহরান তা পছন্দ করে না। #
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৫    

ট্যাগ

মন্তব্য