২০১৯-০৩-১৭ ১৯:৫২ বাংলাদেশ সময়
  • আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিবেশীদের সহযোগিতা জরুরি: জারিফ

ইরান সবসময়ই আফগানিস্তানের সরকার ও জনগণকে সহায়তা দিয়ে এসেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ আফগান প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি মোহাম্মদ ওমর দাউদ যেই'র সঙ্গে সাক্ষাতে এ কথা বলেছেন।

দাউদ যেই ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য শনিবার তেহরানে আসেন। তেহরান-কাবুল সহযোগিতা বিস্তারের উপায় নিয়ে তারা কথাবার্তা বলেছেন। এ সাক্ষাতে আফগান প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূতও তার দেশের ব্যাপারে ইরানের সহমর্মিতা ও ইতিবাচক অবস্থানের প্রশংসা করে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার সর্বশেষ অবস্থার বিবরণ তুলে ধরেন। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিও আফগান প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাতে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সাক্ষাতে দু'দেশের কর্মকর্তারা আফগানিস্তানে বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ ও জনগণের ত্যাগের ফল হিসেবে সংবিধান ও বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামো রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তারা টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় আফগানিস্তানের সব পক্ষের অংশ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

ইরান আফগানিস্তানের নিরাপত্তাকে নিজের নিরাপত্তা বলে মনে করে। এ কারণে আফগানিস্তানের সরকার ও জনগণের সহায়তায় এবং দেশটির ঐক্য ধরে রাখার জন্য ইরান সর্বশক্তি নিয়ে এগিয়ে এসেছে। এর আগে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি গত জানুয়ারিতে কাবুল সফরে গিয়ে আফগানিস্তানের জাতীয় ঐকমত্য সরকারের নির্বাহী প্রধান আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতে বলেছিলেন, আফগানিস্তানের জনগণের অংশগ্রহণে চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় দেশটির সরকারের প্রতি ইরানের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

আফগানিস্তানে বিদেশি দখলদারিত্ব ও হস্তক্ষেপের কারণে বহু বছর ধরে সেখানে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এ অবস্থা সেদেশসহ আশেপাশের দেশগুলোর নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের উপস্থিতি আফগানিস্তানের নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মখে ঠেলে দিয়েছে। ইরাক ও সিরিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য আমেরিকা দায়েশ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু ওই ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন তারা দায়েশকে আফগানিস্তানে পাঠিয়েছে। আর সেই অজুহাতে আমেরিকা আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা উপস্থিতি বজায় রেখেছে। আজকে আফগানিস্তানে নিরাপত্তাহীনতার পেছনে মার্কিন হস্তক্ষেপ মূলত দায়ী।

ইরান মনে করে আফগানিস্তানের সব পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা এবং দেশটির সরকারের গঠনমূলক সংলাপ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেবল সেদেশে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা হতে পারে। ইরান চায় সেদেশের শান্তি প্রক্রিয়ায় জনগণের প্রতিনিধির ভূমিকা থাকুক। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৭

ট্যাগ

মন্তব্য