২০১৯-০৩-২২ ১৮:৪৩ বাংলাদেশ সময়
  • ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ফার্সি নববর্ষ বা নওরোজ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ইরানের সঙ্গে পাশ্চাত্যের আচরণ ও দেশের অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়াসহ চলমান নানা বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।

বিশেষ করে তিনি ইরানের পররাষ্ট্র নীতি, পাশ্চাত্যের আচরণ এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার ব্যাপারে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি প্রতিরোধমূলক অর্থনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে পাশ্চাত্যের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার আশা সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে হবে এ কথা উল্লেখ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, পাশ্চাত্যের অতীত আচরণের অভিজ্ঞতা থেকে প্রমাণিত হয়েছে, তাদের কাছ থেকে ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছুই আশা করা যায় না এবং তারা পেছন থেকে ছুরি মেরেছে। এ অবস্থায় তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা কিংবা আন্তরিকতা আশা করা যায় না।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার বক্তব্যে পাশ্চাত্যের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের সীমারেখার বিষয়েও বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, যারা অনবরত ইরানি জাতিকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে তারা আসলে মনস্তাত্বিক যুদ্ধে লিপ্ত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমেরিকার একজন এক নম্বর বোকা ব্যক্তি বলেছিলেন, ইরান যদি পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যায় তাহলে দেশটির জনগণের রুটি কেনার সামর্থ্যও থাকবে না এবং মানুষ রাস্তায় নেমে এসে বিদ্রোহ শুরু করবে। আরেক জন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছিলেন, আমরা ২০১৯ সালের ক্রিসমাস তেহরানে উৎযাপন করব। মার্কিন কর্মকর্তাদের এসব কথাবার্তা বোকামিপূর্ণ অথবা মনস্তাত্বিক যুদ্ধ অথবা উভয়ই।"

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, খোদ আমেরিকার অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্বীকার করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সশস্ত্র যুদ্ধ কোনো কাজে আসবে না এবং এ যুদ্ধে কেবল আমেরিকাই দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বা ধ্বসে পড়বে। খ্যাতনামা মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান মার্ক ব্লামের এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ইরান এমন এক নজিরবিহীন শক্তিতে পরিণত হয়েছে যে হামলা চালিয়ে ওই দেশটির সরকার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা যাবে না।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইউরোপ, আমেরিকাসহ পাশ্চাত্য বিশ্ব বলদর্পিতা, অযৌক্তিক ও স্বেচ্ছাচারী নীতি গ্রহণ করেছে। মানবাধিকার ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে তাদের দ্বিমুখী আচরণ আজ সবার কাছেই স্পষ্ট। এ ব্যাপারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, সৌদি আরব এ অঞ্চলের সবচেয়ে নিকৃষ্ট, জুলুমবাজ, দুর্নীতিপরায়ণ ও পরনির্ভরশীল একটি সরকার। পাশ্চাত্য এ ধরণের একটি সরকারের কাছে পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র সুবিধা দিচ্ছে কারণ সৌদি আরব তাদের ওপর নির্ভরশীল। এ থেকে বোঝা যায় ষড়যন্ত্র ও শয়তানি ইউরোপ ও আমেরিকার স্বভাবের সঙ্গে মিশে আছে।

পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, এ ব্যাপারে ইউরোপের দায়িত্ব ও কর্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। ইরান ও ইউরোপের মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক চ্যানেলকে তিনি মশকরা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এটি হাস্যকর এবং এর কোনো অর্থ নেই। #       

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২২

ট্যাগ

মন্তব্য