২০১৯-০৪-২৪ ১৭:৩০ বাংলাদেশ সময়
  • ডোনাল্ড ট্রাম্প
    ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ছয় মাসের জন্য দেয়া ছাড় আর নবায়ন করা হবে না বলে মার্কিন সরকার যে ঘোষণা দিয়েছে সে ব্যাপারে ইউরোপ এখনো নিষ্ক্রিয় রয়েছে। তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই মার্কিন এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার এ ঘোষণায় কেবল দুঃখ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনির মুখপাত্র মায়া কাচিয়ানচিজ সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরানের থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ছয় মাসের জন্য দেয়া ছাড় নবায়ন না করার মার্কিন সিদ্ধান্তে ব্রাসেলসে মর্মাহত। কারণ এ পদক্ষেপ অন্য সব কিছুর চেয়ে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতাকে দুর্বল করবে। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, মার্কিন একতরফা সিদ্ধান্তের নিন্দা না জানিয়ে ইউরোপ কেবল দুঃখ প্রকাশ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কেবলই দুঃখ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে লন্ডন।

এর আগে আমেরিকা যখন গত বছরের ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল তখনও ইউরোপীয়রা ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য কেবল নিন্দা জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখনো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওয়াশিংটনের বেআইনি দাবিদাওয়া মেনে নিতে বাধ্য করার জন্য  ইরান বিরোধী আরো কঠোর অবস্থান নিলেও ইউরোপ কেবল দুঃখ প্রকাশ করেই ক্ষান্ত রয়েছে। অবশ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশেষ করে জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্স এখনো পরমাণু সমঝোতার প্রতি সমর্থন দেয়া অব্যাহত রেখেছে। ইউরোপ পরমাণু চুক্তিকে বহুপক্ষীয় সমঝোতার দৃষ্টান্ত বলে মনে করে যা কিনা দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা ইরানের পরমাণু বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে। তারা এ চুক্তিকে আন্তর্জাতিক যে কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য ভাল দৃষ্টান্ত বলে মনে করে। এ কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনির মুখপাত্র মায়া কাচিয়ানচিজ বলেছেন, ইউরোপ পরমাণু সমঝোতায় অটল থাকবে কারণ এর প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেরও অনুমোদন রয়েছে যা কিনা পশ্চিম এশিয়াসহ সারা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য জরুরি।

মারিয়া যাখারোভা

এদিকে, রাশিয়া ইরানের থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ছয় মাসের জন্য দেয়া ছাড় আর নবায়ন না করার মার্কিন ঘোষণার বিরোধিতা করেছে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া যাখারোভা বলেছেন, যে কোনো উপায়ে ইরানকে চাপে রাখার চেষ্টা ওয়াশিংটনের বহু পুরানো নীতি। তিনি বলেন, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবেই আমেরিকা দেশটির তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে আমেরিকা ইরানের সরকার ও জনগণকে টার্গেট করেছে।

এদিকে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু বলেছেন, আমেরিকা ইরানের কাছ থেকে কেনা বন্ধ করে অন্য দেশ থেকে তেল নেয়ার যে প্রস্তাব দিয়েছে তা হাস্যকর। তিনি বলেন, তুরস্ক কার কাছ থেকে তেল কিনবে তা বলে দেওয়ার অধিকার রাখে না আমেরিকা। #  

 পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৪

 

ট্যাগ

মন্তব্য