২০১৯-০৯-০১ ১৯:৫১ বাংলাদেশ সময়
  • আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
    আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বিভিন্ন ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ইরানকে 'সহযোগিতা' করার লোকদেখানো ইচ্ছাও পোষণ করেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতাও বিভিন্ন বক্তব্যে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ সংকটগুলো তুলে ধরেছেন এবং ট্রাম্পের বক্তব্যের বলিষ্ঠ জবাব দিয়েছেন।

ট্রাম্প: আমরা (ইরানের উপর) সর্বোচ্চ পর্যায়ের অর্থনৈতিক অবরোধ চাপিয়ে দিব। তারা সবজায়গায় ভয়ভীতি ও সমস্যা সৃষ্টি করছে। আপনারা যদি ইরানকে দেখতে চান, তাহলে শুধু ইরানকে দেখেন, দেখতে পাবে তারা কিনা করছে। তারা একটি সন্ত্রাসী জাতি। ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত অবরোধ অনেক কঠিন ও শক্তিশালী। 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা: কেউ যেন আমেরিকার বাহ্যিক অবস্থা দেখে ভয় না পায়। তারা যেভাবে হৈ-চৈ করে ও দেখানোর চেষ্টা করে প্রকৃতপক্ষে তাদের শক্তি এর থেকে অনেক কম। আমেরিকার অভ্যন্তরীণ সমস্যা এখন বহুগুণ বেশি; সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইত্যাদি সমস্যায় তারা জর্জরিত। আমেরিকার কৃষিমন্ত্রানালয় সরকারীভাবে ঘোষণা করেছে, চার কোটি দশ লাখ মার্কিনী খাদ্য সংকটে ভুগছে ও অভুক্ত অবস্থায় জীবন-যাপন করছে। এরপরও তারা লোক দেখানো হৈ চৈ করছে এবং এ ধরণের একটি সরকার ইরানি জাতির উপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। অথচ তাদেরই দেয়া তথ্য অনুযায়ী সে দেশে চার কোটি দশ লাখ মার্কিনী অভুক্ত রয়েছে। ওই লোকের নিজের দেশে কত হাজার হাজার সমস্যা রয়েছে, লাখ লাখ কোটি অর্থ তারা ঋণী।

এখন যদি আমেরিকার সামাজিক অবস্থা দেখেন, তাহলে দেখবেন আমেরিকার ৪০% শিশুর জন্ম হয়েছে অবৈধভাবে। বাইশ লাখ আমেরিকান এখন জেলে জীবন-যাপন করছে। জনসংখ্যা অনুপাতে এতবেশি কারাবাসী অন্য কোনো দেশে নেই। বিশ্বে মাদকাসক্তে আসক্ত লোকের সংখ্যায় আমেরিকার অবস্থান সবার শীর্ষে। এগুলো হল সামাজিক সমস্যা। তারা সমস্যায় জর্জরিত। বিশ্বের ৩১% গোলাগুলি আমেরিকায় সংঘটিত হয়ে থাকে। প্রত্যেকদিন শুনবেন বা দেখবেন অমুক স্কুলে, অমুক খেলার মাঠে, অমুক মেট্রো স্টেশনে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গত আট মাসে আমেরিকার রাস্তায় ৮৩০জন মার্কিনী পুলিশের হাতে নিহত হয়েছে। যাদের সামাজিক অবস্থা এমন! তারা আবার ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে হুমকি দেয়। মানুষের অন্তর কাঁদে এমন দেশের (আমেরিকার) জনগণের জন্য। এমন দেশের এমন প্রেসিডেন্ট হয়েছে, যে প্রকৃত সত্য ও বাস্তবতা থেকে অনেক দুরে।

ট্রাম্প: তারা প্রত্যেক সপ্তাহের ছুটির দিনে এমনকি পুরা সপ্তাহ বিক্ষোভ করে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা: তারা দাবি করে প্রত্যেক শুক্রবার তেহরানে বর্তমান (ইসলামি)  শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল হয়। এই হচ্ছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট! প্রথমত, এদিন শুক্রবার না শনিবার, আর তেহরান না প্যারিসে এ বিক্ষোভ হয়। প্রায় ৩০ কোটিরও বেশি মানুষের ভাগ্য এ ধরণের একজন প্রেসিডেন্টের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। এসবই আমেরিকার রাজনৈতিক পতনের ইঙ্গিত  দেয়। যার সম্পর্কে আমেরিকার মধ্যেই বিভিন্ন কথা শোনা যায়। যার মানসিক ভারসাম্য, চিন্তাগত ভারসাম্য, চরিত্রগত ভারসাম্য সম্পর্কে অনেক কথা প্রচলিত আছে।

ট্রাম্প: প্রকৃতপক্ষে আমরা চাই ইরানকে সহযোগিতা করতে। ইরানের ক্ষতি করার কোনো চেষ্টা আমরা করছি না। আমরা চাই তারা (ইরান) শক্তিশালী ও মজবুত দেশে পরিণত হোক। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে তারা শক্তিশালী হোক।  

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা: তারা ইরানের জন্য মায়াকান্না করে, আর বলে আমরা ইরানের ভালো ও সফলতা কামনা করি; ইরানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। (আমি বলব:) আগে আপনাদের নিজেদের অবস্থাকে ভাল করেন।#

পার্সটুডে/ মো.আবুসাঈদ/আশরাফুর রহমান/১

ট্যাগ

মন্তব্য