২০১৯-০৯-১১ ১৭:৩৮ বাংলাদেশ সময়
  • সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি
    সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি চীনা সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আজ বেইজিং সফরে গেছেন।

আঞ্চলিক ঘটনাবলী নিয়ে মতবিনিময় এবং প্রতিরক্ষাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার করাই ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রধানের চীন সফরের প্রধান উদ্দেশ্য। ইরান ও চীনের সম্পর্ক যতটা না সামরিক তার বেশি অর্থনৈতিক। কিন্তু তারপরও এ দু'দেশের মধ্যে যে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রয়েছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। ইরানের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী দেহকানির ২০১৪ সালে চীন সফরের সময় তেহরান-বেইজিং কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে উঠে।

এরপর ২০১৬ সালের ডিসেম্বর চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর তেহরান সফরের সময় ইরানের সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সাক্ষাতের পর এ সহযোগিতা আরো এগিয়ে যায়। সে সময় চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী জাঙ্গ ওয়ান চুয়ান ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সামরিক সহযোগিতা বিস্তারে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি আরো বলেছিলেন, "আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা ক্ষেত্রে চীন ও ইরানের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে যা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বিস্তারের পথ খুলে দিয়েছে।"

চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর তেহরান সফরকালে দু'দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা বিষয়ক চুক্তি সই হয় যা কিনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণে নয়া অধ্যায়ের সূচনা করে। বিশেষ করে সামরিক ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ, সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াই, মধ্যপ্রাচ্যকে নিরাপত্তাহীন করে তোলার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রভৃতি বিষয়ে দুই দেশ সহযোগিতা করতে সম্মত হয়। অব্যাহত সফর বিনিময়ের অংশ হিসেবে গত বছরও ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির হাতামি চীন সফর করেন।

পর্যবেক্ষকরা ইরান ও চীনের সামরিক কর্মকর্তাদের ঘন ঘন সফরকে বিশেষ বার্তা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, চীন ও রাশিয়ার মতো বৃহৎ দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সহযোগিতা আমেরিকার একতরফা নীতি মোকাবেলায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এর যথেষ্ট প্রভাব বা গুরুত্ব রয়েছে। ইরান ও চীনের সামরিক কর্মকর্তাদের সফর বিনিময়ের গুরুত্ব সম্পর্কে গ্লোবাল টাইমস এক প্রতিবেদনে লিখেছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে সামরিক বিষয়ে এ দুদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রয়েছে।

সমরবিদরা বলছেন, বর্তমানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সামরিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তেহরান-বেইজিং সহযোগিতা থেকে দুদেশই উপকৃত হতে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরসহ এর আশে পাশের এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা দু'দেশের জন্যই জরুরি। এ কারণে ইরানের সেনাবাহিনী প্রধানের বেইজিং সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১১

ট্যাগ

মন্তব্য