২০১৬-১০-২৫ ০৬:৩৯ বাংলাদেশ সময়
  • হামাসের শীর্ষস্থানীয় নেতা ফাতহি হাম্মেদ
    হামাসের শীর্ষস্থানীয় নেতা ফাতহি হাম্মেদ

ইহুদিবাদী ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রী এভিগদোর লিবারম্যান ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনকে ধ্বংস করে ফেলার যে হুমকি দিয়েছেন হামাস তাকে ‘বাজে কথা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

ফিলিস্তিনের আল-কুদস পত্রিকায় সোমবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে লিবারম্যান বলেছেন, ভবিষ্যতে গাজা উপত্যকার বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ হলে হামাসকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে ফেলবে তেল আবিব। এ ছাড়া, হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াকে হত্যা করার পাশাপাশি এই সংগঠনকে নিরস্ত্র করারও হুমকি দেন তিনি।

লিবারম্যানের এ হুমকিকে ‘অর্থহীন’ আখ্যা দিয়ে হামাসের মুখপাত্র হাযেম কাসেম  বলেছেন, ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধের জন্য আইনসম্মতভাবে সমরাস্ত্র ধারণ করেছে তার সংগঠন। তিনি বলেন, “ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আইনসম্মত প্রতিরোধের উপকরণ হিসেবে আমাদের কাছে ভূগর্ভস্থ টানেল, রকেট ও সমরাস্ত্র রয়েছে।”

হামাসের শীর্ষস্থানীয় নেতা ফাতহি হাম্মাদও ইসরাইলি যুদ্ধমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, “লিবারম্যানই প্রথম কোনো ইসরাইলি যুদ্ধমন্ত্রী নয় যে ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করে ফেলার হুমকি দিল। তার আগে আরো বহু যুদ্ধমন্ত্রী এরকম হুমকি দিয়েছে যাদের কেউ আর এই পৃথিবীতে বেঁচে নেই। তাদের মধ্যে সর্বশেষ ছিল শিমন পেরেজ যে এখন জাহান্নামের সমাধিতে অবস্থান করছে। কাজেই আমরা ভয় পাই না এবং এটি হচ্ছে গাজার পক্ষ থেকে লিবারম্যানের প্রতি একটি শক্তিশালী বার্তা।”

ফিলিস্তিনের তথ্য মন্ত্রণালয়ও ইসরাইলি যুদ্ধমন্ত্রীর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, যুদ্ধ না থাকায় ‘খুনি’ লিবারম্যান দীর্ঘদিন কথা বলার সুযোগ পাচ্ছিল না। গণমাধ্যমে প্রচার পাওয়ার লক্ষ্যে সে এই হুমকি দিয়েছে।

২০০৭ সাল থেকে গাজা উপত্যকার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে ইসরাইল। এর ফলে ওই উপত্যকার অর্থনীতি ধ্বংস হতে বসেছে এবং সেখানকার ১৫ লাখ ফিলিস্তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ছাড়া, গত নয় বছরে গাজার বিরুদ্ধে তিনবার ভয়াবহ আগ্রাসন চালিয়েছে তেল আবিব। নতুন করে আবার গাজার নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর পাশবিক হামলা চালানোর ক্ষেত্র সৃষ্টির জন্য ইসরাইলি যুদ্ধমন্ত্রী এ বক্তব্য দিয়েছেন বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৫

 

ট্যাগ

মন্তব্য