• আরব লীগের বৈঠক
    আরব লীগের বৈঠক

আরব লীগের বৈঠকে কাতার ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কূটনীতিকদের মধ্যে তীব্র বাগযুদ্ধ হয়েছে। মিশরের রাজধানী কায়রোয় আরব লীগের বৈঠকে কাতারের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুলতান বিন সা’দ আল-মুরাইখির সঙ্গে সৌদি জোটের কূটনীতিকদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।

গত ৫ জুন কাতারের ওপর সৌদি নেতৃত্বাধীন চার আরব দেশ অবরোধ আরোপ করার প্রায় সাড়ে তিন মাসের মাথায় এসে এ ঘটনা ঘটল। মুরাইখি বলেন, কিছু সরকার সমর্থিত পাগলা কুকুর তার দেশের বিরুদ্ধে মিডিয়া প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি  আরো বলেন, “এমনকি পশুরাও অবরোধ থেকে বাদ যায় নি; আপনারা সেগুলোকে নির্মমভাবে বের করে দিয়েছেন।” একথার মাধ্যমে তিনি মূলত দোহার ওপর অবরোধ আরোপের পর কাতার-সৌদি সীমান্তে উট বের করে দেয়ার ঘটনা তুলে ধরেন।

এ সময় মুরাইখি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রশংসা করে বলেন, এটা হচ্ছে একটি সম্মানিত দেশ এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন অবরোধের পর তেহরান-দোহা সম্পর্ক উষ্ণ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সৌদি সরকার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন  হামাদ আলে সানিকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করেছে।

কাতারের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এসব কথায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন আরব লীগে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আহমেদ আল-কাতান, মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শুকরি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনোয়ার গারগাশ। এ সময় দুপক্ষের কূটনীতিকদের মধ্যে এতটাই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় যে, কাতারের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সৌদি রাষ্ট্রদূত পরস্পরকে বলেন- “চুপ”। 

সৌদি রাষ্ট্রদূত সতর্ক করে বলেন, ‌ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের জন্য শিগগিরি কাতারকে দুঃখিত হতে হবে। তিনি বলেন, “কাতারের ভাইয়েরা যদি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক করে তারা লাভবান হয়েছেন বলে মনে করেন তাহলে আমি বলব তারা সবদিক দিয়েই ভুল হিসাব করেছেন।"

মুরাইখির বক্তব্যকে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অগ্রহণযোগ্য ও ভিত্তিহীন অপমান বলে মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি আবারো সন্ত্রাসবাদের প্রতি কাতারের সমর্থনের  কথা উল্লেখ করেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী গারগাশ বলেন, “শান্তির বিষয়ে কাতারের অনাগ্রহের কারণে পারস্য উপসগারীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে এখনো বিভাজন চলছে। তিনি বলেন, কাতারের দিক ঠিক করা দরকার এবং যতক্ষণ কাতার চার আরব দেশের প্রতি আগ্রাসী মনোভাব বাতিল না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার সঙ্গে আমাদের  বর্তমান নীতি অনুসরণ করব।”#

পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/১৩   

২০১৭-০৯-১৪ ০২:০৯ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য