• ড. আলী আকবর বেলায়েতি
    ড. আলী আকবর বেলায়েতি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আলী আকবর বেলায়েতি বলেছেন, "আমেরিকা ফোরাত উপকূলীয় সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলকে খণ্ড-বিখণ্ড করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তবে ওয়াশিংটনের এ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হবে না।" তিনি লেবাননে অনুষ্ঠিত প্রতিরোধকামী আলেমদের আন্তর্জাতিক জোটের সম্মেলনে যোগদান শেষে গতকাল (শুক্রবার) দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার নাবি বেরির সঙ্গে সাক্ষাতে এ কথা বলেছেন। 

আলী আকবর বেলায়েতি প্রতিরোধকামী আলেমদের আন্তর্জাতিক জোটের সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় বলেছিলেন, ফিলিস্তিন সমস্যা সবসময়ই মুসলিম বিশ্বের প্রধান সমস্যা হয়ে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি বলেন, আপোষ নয় বরং ফিলিস্তিন মুক্তির একমাত্র পথ প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগ্রামীদের ওপর ইসরাইলের চাপ সৃষ্টির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সম্প্রতি যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল হামাসকে তিনটি শর্ত দিয়েছে। প্রথম শর্ত, হামাসকে অবশ্যই নিরস্ত্র হতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত, ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তৃতীয় শর্ত হচ্ছে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। জবাবে হামাস বলেছে, ইসরাইলের দেয়া প্রথমত ও দ্বিতীয় শর্ত আমাদের জন্য রেডলাইন অর্থাৎ কোনোভাবেই তা মেনে নেয়া সম্ভব নয়। আর হামাসের একটি উচ্চ পদস্থ প্রতিনিধি দল সম্প্রতি তেহরান সফর করে ইসরাইলের তৃতীয় শর্তের নেতিবাচক জবাব দিয়েছে।

এদিকে, দৈনিক রাই আল-ইয়াওম মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলবিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রাম জোরদার হওয়া সম্পর্কে এক প্রতিবেদনে লিখেছে, আমরা সবাই জানি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সিরিয়ার সেনা ও প্রতিরোধকামী স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর ধারাবাহিক সাফল্যে দখলদার ইসরাইল ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। আমরা এটাও জানি সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রায় শেষ হতে চলেছে এবং দেশটির সরকারও নিজেদের অবস্থানকে সুসংহত করতে সক্ষম হয়েছে। আর গত প্রায় পাঁচ-ছয় বছর ধরে চলা দুঃখ-দুর্দশার অবসান ঘটতে চলেছে।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকা ও ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ শক্তিগুলোর তৎপরতা জোরদারের পরিণতির বিষয়টি ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছে। এ কারণে তারা নানা কৌশলে প্রতিরোধ শক্তিকে দুর্বল করার এবং ফিলিস্তিন ইস্যুটিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি এ ব্যাপারে বলেছেন, আমেরিকা ফোরাত উপকূলে সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলকে খণ্ড-বিখণ্ড করার ষড়যন্ত্র আঁটছে। কিন্তু আমরা এ নিশ্চয়তা দিতে পারি আমেরিকার ওই ষড়যন্ত্র কখনই বাস্তবায়িত হবে না।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী প্রতিরোধকামী আলেমদের আন্তর্জাতিক জোটের দ্বিতীয় সম্মেলন উপলক্ষে সংস্থার মহাসচিব শেখ মাহের হামুদের কাছে পাঠানো বার্তায় বলেছেন, 'ইসরাইলি আগ্রাসন রোধে মুসলিম দেশগুলোর ধর্মীয় নেতারা, বুদ্ধিজীবী, চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবিদরা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে পারেন।'

যাইহোক, সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতা জিহাদকে পরিপূর্ণ করে তোলে। ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিনের ঘটনাবলীতে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টার লেবানন ও সিরিয়া সফরও ওই কূটনৈতিক তৎপরতারই অংশমাত্র যা কিনা যুদ্ধের ময়দানে বিজয়ে ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। # 

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/৪

 

২০১৭-১১-০৪ ১৮:৩৮ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য