কোন্দল ও মতবিরোধের প্রেক্ষাপটে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসি'র ৩৮ তম শীর্ষ বৈঠক গতকাল (মঙ্গলবার) কুয়েতে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে।

দুই দিন ধরে এই বৈঠক চলার কথা থাকলেও তা গতকালই শেষ হয়েছে। এর কারণ কেবল কাতার ও কুয়েতের আমির ছাড়া এই জোটভুক্ত অন্য দেশগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা জোটের বৈঠকে আসেননি। এর আগে কখনও এতো কম সময়ে তথা একদিনেরও কম সময়ে পিজিসিসি'র শীর্ষ বৈঠক শেষ হয়নি। 

পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ-ভুক্ত দেশ সৌদি আরব, আমিরাত ও বাহরাইনের রাজতান্ত্রিক সরকার-প্রধানরা অনেক আগেই বলেছিলেন যে, যেসব বৈঠকে কাতারের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবে সেসব বৈঠকে তারা যোগ দেবেন না। এই সরকারগুলো কাতারের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্বে কুয়েতের নিরপেক্ষ অবস্থানেও সন্তুষ্ট ও খুশি নয়।  

পিজিসিসি'র মধ্যে কোন্দল ও বিচ্ছিন্নতা আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।  ফিলিস্তিন ও ইয়েমেন সংকট বিষয়ে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এই জোট। গতকালের এ বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার আরও এক বড় কারণ হল জোটটির কোনো কোনো দেশের প্রতিনিধি অতীতের মতই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে সংগ্রামী শক্তিগুলোর বিপক্ষে মিথ্যাচার ও অপবাদ প্রচার করেছেন। আর এসব কারণে অনেক বিশ্লেষক পিজিসিসি'-কে এক অথর্ব পরিষদ বলে উল্লেখ করে আসছেন অনেক আগ থেকেই।

২০১৭ সালের জুন মাসে সৌদি আরব, বাহরাইন, আরব আমিরাত ও মিশর কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করায় পিজিসিসি রাজনৈতিক সংকটের শিকার হয়।

কাতার গত ছয় মাস ধরে ওই দেশগুলোর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার শিকার হওয়া সত্ত্বেও নতি স্বীকার করেনি। অন্য কথায় কাতারের ওপর তাদের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

মনে করা হচ্ছে দোহা ও রিয়াদের মধ্যে বিরোধ চলতে থাকলে পিজিসিসি ভেতর থেকেই ধসে পড়বে। আর এই ধস নামার লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে গেছে ১৯৮১ সালে গঠিত পরিষদটির গতকালের বৈঠকেই। আমিরাত ও সৌদি আরব সামরিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খাতসহ নানা খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার জন্য যৌথ কমিটি গঠন করে পিজিসিসি'র বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে বলে খবর দিয়েছে কোনো কোনো সংবাদ-মাধ্যম। 

আসলে সৌদি সরকার নানা ধরনের ধ্বংসাত্মক জোট ও গোষ্ঠী গড়ে তোলায় আঞ্চলিক জোট ও সহযোগিতার সংস্কৃতি মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। পিজিসিসি দোহা ও রিয়াদের চলমান বিরোধ নিরসনে ব্যর্থ হওয়ায় এই জোটের মৃত্যু বা বিলুপ্তি ত্বরান্বিত হচ্ছে মাত্র।

অবশ্য এই জোটের অকার্যকর ভূমিকার জন্য রিয়াদই দায়ী বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। রিয়াদের হস্তক্ষেপকামী ভূমিকা ও অযৌক্তিক মোড়লীপনা যে কেবল দোহার সমালোচনার শিকার হয়েছে তা নয়, কুয়েত এবং ওমানও সৌদি সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্তগুলোর সহযোগী হতে রাজি হয়নি। আর এ জন্যই ওমান ও কুয়েত দোহা-রিয়াদ মতবিরোধে রিয়াদের পক্ষ নেয়নি এবং রিয়াদের ক্রীড়নক কোনো কোনো সরকারের বিপরীতে কাতারের সঙ্গে সম্পর্কও ছিন্ন করেনি। ফলে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদে গড়ে উঠেছে নানামুখী মেরুকরণ যার প্রভাবে এ পরিষদের বৈঠকগুলো হয়ে পড়েছে দুর্বল ও দায়সারা গোছের।  # 

পার্সটুডে/এমএএইচ/৬         
 

২০১৭-১২-০৬ ১৮:০৮ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য