• আমির হাতামি (ডানে) ও নুরুদ্দিন চানিক্‌লি
    আমির হাতামি (ডানে) ও নুরুদ্দিন চানিক্‌লি

ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করার পর চলমান পরিস্থিতিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি ও তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নুরুদ্দিন চানিক্‌লি টেলিফোনে আলাপ করেছেন। দু জনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্প ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘বড় ভুল’ বলে উল্লেখ করেন।

ফোনালাপে দুই মন্ত্রী ইরান ও তুরস্কের সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ঘটনাবলী নিয়ে কথা বলেন। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বার বার মার্কিন নীতির ব্যর্থতা বিশেষ করে ইরাক ও সিরিয়ায় উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের পতন এবং ইরাকের কুর্দিস্তানকে বিভক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে আমেরিকা। পাশাপাশি লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির পদত্যাগের ঘটনায় মার্কিন নীতি ব্যর্থ হয়েছে। এসব ব্যর্থতা ঢাকতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসময় বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্প ট্রাম্প

জেনারেল আমির হাতামি ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের নিন্দা ও সমালোচনা করে বলেন, মার্কিন পদক্ষেপের কারণে ইহুদিবাদী ইসরাইল নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর আরা বর্বরতা চালাতে উৎসাহী হবে।

টেলিফোনালাপে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তেহরান ও আংকারার মধ্যে সামরিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ইরাক ও সিরিয়ায় দায়েশ সন্ত্রাসীদের পতন সম্ভব হয়েছে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং ইরাক, সিরিয়া ও তুরস্কের মধ্যে যোগাযোগের কারণে। দু দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরো বাড়ানোর আহ্বান জানান ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

মার্কিন ও ইসরাইল-বিরোধী বিক্ষোভ

ফোনালাপে তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী নূরুদ্দিন চানিক্‌লি ইরান ও তুরস্কের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করে বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাবলীতে ইরান ও তুরস্কের মধ্যে আরো সামরিক সহযোগিতা জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এমন কোনো শক্তি নেই যে, ইরান ও তুরস্কের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপকে তিনি মারাত্মক ভুল বলে অভিহিত করেন এবং বিশ্বের কোনো মুসলিম দেশের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হবে না মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের ওই ঘোষণায় এরইমধ্যে সারাবিশ্বে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বহু মুসলিম দেশে ট্রাম্পের ছবি এবং কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর পাশাপাশি ফিলিস্তিনের জনগণ সৌদি রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের ছবি পুড়িয়েছেন।#

পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/১২

 

২০১৭-১২-১৩ ০০:০০ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য