• গাড়িতে নিহত শিশুদের রক্তাক্ত লাশ
    গাড়িতে নিহত শিশুদের রক্তাক্ত লাশ

ইয়েমেনে আবারও হত্যা করা হয়েছে এক ঝাঁক নিষ্পাপ শিশুকে। স্কুলবাসে করে কুরআনের ক্লাসে যাওয়ার সময় সৌদি হামলায় তাদের প্রাণহানি ঘটেছে। আল-মাসিরা টিভি চ্যানেলে নিহত শিশুদের ছবি ও ভিডিও সম্প্রচার করা হচ্ছে। এসব ভিডিও দেখলে যেকোনো পাষণ্ডের চোখের কোণেও অশ্রু জমার কথা। কিন্তু আগ্রাসীদের হৃদয় যেন একবারের জন্যও কাঁপছে না। সেখানে একের পর এক শিশুহত্যা চলছেই।

টিভি ফুটেজে দেখা গেছে, স্কুল ড্রেস পরা হতাহত শিশুদের নিয়ে দৌড়াচ্ছে তাদের স্বজনরা। এক বাবা তার ক্ষত-বিক্ষত সন্তানের নিথর দেহ নিয়ে ছুটছেন এ আশায় যে, দ্রুত চিকিৎসা পেলে হয়তো এখনও বেঁচে যাবে তার আদরের সন্তান। এসব দৃশ্য এতটাই মর্মান্তিক যে, এগুলোর ওপর বেশিক্ষণ চোখ রাখার উপায় নেই। আহত শিশুদের অনেকেই নির্বাক হয়ে গেছে। সারা শরীর থেকে রক্ত ঝরলেও তাদের মুখে কোনো শব্দ নেই। ভয় আর প্রচণ্ড ব্যথায় তারা মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।

আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি জানিয়েছে, হতাহত শিশুদের সবারই বয়স ১৫ বছরের কম। গতকাল (বৃহস্পতিবার) স্কুল ছাত্রদের বহনকারী বাসটি যখন সা’দা প্রদেশের দাহিয়ান মার্কেটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনি সেটাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় সৌদি জঙ্গি বিমান।

আহত এক শিশুকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে

আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে বেসামরিক নাগরিকদের অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে বলে উল্লেখ করেছে রেডক্রস। ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ এ হামলাকে ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে ঘটনাটির পূর্ণ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। কিন্তু সৌদি আরব বলছে, তারা কোনো অন্যায় করে নি।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। আগ্রাসীরা যাতে আর এ ধরণের অপরাধ না করে সেজন্য সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে বলেছেন তিনি।

২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে সৌদি আরব ও তার কয়েকটি মিত্রদেশ ইয়েমেনের ওপর সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদিকে ক্ষমতায় পুনর্বহালের জন্য সামরিক আগ্রাসন শুরু করলেও সৌদি আরব সে লক্ষ্য অর্জন করতে পারে নি।#

পার্সটুডে/এসএ/১০

২০১৮-০৮-১০ ০৬:৩২ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য