• সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের চূড়ান্ত পরাজয়ের আশঙ্কায় ট্রাম্পের ঘুম হারাম

সিরিয়ার সেনাবাহিনী গত দুই বছরে বিদেশী মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় ধরণের সাফল্য অর্জন করেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্ত্রাসীদের হটিয়ে দিতে সিরিয়ার সেনাবাহিনী সক্ষম হয়েছে।

যুদ্ধে পরাজিত হয়ে সন্ত্রাসীরা সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে সিরিয়ার সরকারি ও মিত্রবাহিনী বিদেশিদের মদদপুষ্ট এসব সন্ত্রাসীদের কবল থেকে ইদলিব মুক্ত করার জন্য ব্যাপক সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রস্তুতি পাশ্চাত্য বিশেষ করে আমেরিকাকে চিন্তিত করে তুলেছে। সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের চূড়ান্ত পরাজয়ের ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে তার গভীর উদ্বেগের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। তিনি সন্ত্রাস কবলিত ইদলিবে হামলা চালানোর ব্যাপারে সিরিয়ার সেনাবাহিনীকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার টুইট বার্তায় ইদলিব প্রদেশে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইদলিবে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযান বিপর্যয় ডেকে আনবে। একই সঙ্গে তিনি এ অভিযানকে বড় ধরণের ভুল অভিহিত করে ইরান ও রাশিয়াকেও সতর্ক করে দিয়েছেন।

আমেরিকা ও তার মিত্ররা গত ক'দিন ধরে ইদলিবে সিরিয় সেনাদের সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোর জন্য নানা হুমকি ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। তারা হুমকি দিয়েছে, সিরিয় সেনারা যদি ইদলিবে রাসায়নিক হামলা চালায় তাহলে আমেরিকা সিরিয়ায় হামলা চালাবে। এ অবস্থায় ইদলিবে সিরিয় সেনাদের সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোর জন্য সন্ত্রাসীরা রাসায়নিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যাতে আমেরিকা সিরিয়ায় হামলার অজুহাত পায়। সন্ত্রাসীরা নিজেরা রাসায়নিক হামলা চালিয়ে তার দায়ভার সিরিয়া সেনাবাহিনীর ওপর চাপানোর পরিকল্পনা করেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, "আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স নিজেরাই রাসায়নিক হামলার নাটক সাজিয়ে ফের সিরিয়ার বিরুদ্ধে বড় ধরণের সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে গত এপ্রিলেও একই নাটক সাজিয়ে এই তিন দেশ সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে ছিল।"

সিরিয়ার সেনাবাহিনী

যাইহোক, সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের চূড়ান্ত পরাজয়ের আশঙ্কায় আমেরিকা ও তার মিত্রদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আমেরিকা, ইউরোপের কয়েকটি দেশ ও রাজতন্ত্র শাসিত কয়েকটি আরব দেশ ২০১১ সালে সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দেয়। এই দেশগুলো সিরিয়া সরকারের পতনের জন্য সন্ত্রাসীদেরকে অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দেয়। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল এ অঞ্চলে ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ শক্তিগুলোকে নির্মূল করা। ইসরাইল বিরোধী যুদ্ধের ফ্রন্ট লাইনে থাকার কারণে সিরিয়াকে টার্গেট করা হয়। কিন্তু বর্তমানে যুদ্ধের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ সিরিয়ার সরকার ও তার মিত্রদের অনুকূলে। সুইডেনের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ অ্যারোন লাউন্ড বলেছেন, শত্রুরা সিরিয়ার প্রেসিডেন্টকে পরাজিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বর্তমানে সিরিয়ার সন্ত্রাসীরা একেবারে দুর্বল হয়ে পড়েছে। সিরিয়া সরকার তার মিত্র অর্থাৎ রাশিয়া, ইরান ও হিজবুল্লাহর সহযোগিতায় ইদলিবে চূড়ান্ত বিজয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশ্চাত্যের অব্যাহত হুমকি দামেস্ককে তার অবস্থান থেকে সরাতে পারবে না বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।#          

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৪

ট্যাগ

২০১৮-০৯-০৪ ১৮:৫৭ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য