• সৌদি আরবের তেল কোম্পানি আরামকোর একটি শোধনাগার
    সৌদি আরবের তেল কোম্পানি আরামকোর একটি শোধনাগার

সৌদি আরবের আল-আরাবিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক বলেছে, যদি আমেরিকা রিয়াদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাহলে তারা ছুরি মেরে নিজেদের অর্থনীতিকে হত্যা করবে। আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দিলে সৌদি আরব ইরানের বন্ধু হবে, তেল বিক্রি করবে চীনা মুদ্রায় এবং দেশের ভেতরে রাশিয়ার সেনা ডাকা হবে বলেও হুমকি দিয়েছে এ গণমাধ্যম।

সৌদি কর্মকর্তারা বলছেন, যদি নিখোঁজ সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে কেন্দ্র করে আমেরিকা রিয়াদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেয় তাহলে সৌদি আরব পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। এ ক্ষেত্রে রিয়াদের হাতে ৩০টি অপশন রয়েছে। আল- আরাবিয়ার মহা ব্যবস্থাপক তুর্কি আদ-দাখিল এ হুমকি দিয়েছেন।

গতকাল (রোববার) এক মতামত কলামে তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে সৌদি আরবের যে প্রভাব রয়েছে শুধু তাই দিয়েই আমেরিকার অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে দেয়া সম্ভব। যদি তেলের দাম ৮০ ডলারে ওঠে তাহলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষিপ্ত হবেন। কিন্তু কেউ একথা উড়িয়ে দিতে পারেন না যে, তেলের দাম ১০০ কিংবা ২০০ ডলার কিংবা তার দ্বিগুণ হবে না। এছাড়া, রিয়াদ সম্ভবত মার্কিন ডলার বাদ দিয়ে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে লেনদেন শুরু করতে পারে। এতে মার্কিন ডলারের আন্তর্জাতিক মুদ্রার মান নস্যাৎ হবে।”

দুবাইয়ের শাসক শেখ রাশিদ আল-মাখতুমের সঙ্গে তুর্কি আদ-দাখিল

আদ-দাখিল আরো বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দিলে ভূ-কৌশলগতভাবে আমেরিকার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে এবং চীন, ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে মিত্রতা করতে পারে। কেউ একথাও উড়িয়ে দিতে পারে না যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তাবুকে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি তৈরি হবে। তাবুক হচ্ছে লোহিত সাগরের তীরে সৌদি আরবের একটি প্রদেশ যেখানে সৌদি আরবের বিশাল তেল স্থাপনা রয়েছে। এছাড়া, জর্দান ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ রুট হচ্ছে তাবুক।

সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় সৌদি আরবের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে আমেরিকা

আদ-দাখিল আরো বলেছেন, ইরানের সঙ্গে মিত্রতা করার পাশাপাশি হিজবুল্লাহ ও হামাসের সঙ্গেও বন্ধুত্ব করা হবে। এছাড়া, আমেরিকা ও তার মিত্রদের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বন্ধ করা হবে। তিনি বলেন, সৌদি আরবের গোয়েন্দা তথ্যের কারণে এ মুহর্তে লাখ লাখ পশ্চিমা নাগরিকের জীবন রক্ষা পাচ্ছে। আদ-দাখিল আরো বলেছেন, যদি নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় তাহলে সৌদি আরব আমেরিকা থেকে কোনো অস্ত্রও কিনবে না। এতে আমেরিকার প্রতিরক্ষা সামগ্রীর দুই-তৃতীয়াংশ বিক্রি বন্ধ হবে। একইসঙ্গে সৌদি আরবের বাজারে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে নিষিদ্ধ করা হবে।#

পার্সটুডে/এসআইবি/১৫

ট্যাগ

২০১৮-১০-১৫ ২১:০৭ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য