২০১৯-০৩-১৮ ১৮:৫৫ বাংলাদেশ সময়
  • মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি
    মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেয়ার জন্য এখন সিরিয়ায় অবস্থান করছেন। রাজধানী দামেস্কের বৈঠকে আরো যোগ দেবেন ইরাক ও সিরিয়ার সেনাপ্রধানরা।

সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার উপায় নিয়ে তিন দেশের সেনাপ্রধান আলোচনা করবেন। ইরান, ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিস্তার এবং এ অঞ্চলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা রোধে এই তিন দেশের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার বিষয়ে কথাবার্তা হবে। এ ছাড়া, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টিও খতিয়ে দেখবেন এই তিন দেশের সেনাপ্রধানগণ।

ইরান, ইরাক ও সিরিয়ার সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ পশ্চিম এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বিরাট ভূমিকা রেখেছে। এমন সময় এ সাফল্য এসেছে যখন দায়েশ বিরোধী কথিত মার্কিন সামরিক জোট বড় বড় কথা বললেও সন্ত্রাসীদের নির্মূলে তারা কোনো সহযোগিতাতো করেনি বরং দায়েশ বিরোধী যুদ্ধে তারা বাধা দিয়েছে। রুশ গবেষণা ও নীতি নির্ধারণী পরিষদের প্রধান ভ্লাদিমির জাখারোভা সন্ত্রাসীদের প্রতি মার্কিন সমর্থনের কারণ সম্পর্কে বলেছেন, "মধ্যপ্রাচ্যে আরো বেশি উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য সন্ত্রাসীদেরকে ওয়াশিংটনের সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থন অনেক বেড়েছে।" রাশিয়ার এ কর্মকর্তা আরো বলেছেন, "সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের কথার ওপর আস্থা রাখা যায় না। যেহেতু ইরাক ও সিরিয়া সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসী হামলার স্বীকার সে কারণে পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও এ অঞ্চলে তাদের মিত্রদের তৎপরতার ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।"

এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশ ও প্রতিরোধকামী শক্তিগুলোর যৌথ প্রচেষ্টায় ইরাক ও সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসীরা প্রায় নির্মূল হওয়ার পথে। এ অবস্থায় সিরিয়া সরকারের অনুমতি ছাড়াই যেসব বিদেশি সেনা সেখানে মোতায়েন রয়েছে তাদেরকে অবশ্যই আজ হোক কাল হোক সিরিয়া ছাড়তে হবে। এ কারণে দামেস্কে পৌঁছেই ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি বলেছেন, ইরাক, ইরান ও সিরিয়ার সেনা প্রধানদের বৈঠকে সিরিয়ায় অবৈধভাবে মোতায়েন বিদেশি সেনা বহিষ্কারের ব্যাপারে আলোচনা হবে।

 পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান ও রাশিয়ার সহযোগিতায় সিরিয়া ও ইরাকে দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাফল্য সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। ইরান, ইরাক ও সিরিয়ার পারস্পরিক সহযোগিতা ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে। তাদের মতে এই তিন দেশের সমন্বয় এবং তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বিরাট ভূমিকা রাখবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করার জন্য অবশ্যই এ অঞ্চলের দেশগুলোকে সামরিক ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হতে হবে। ইরান, ইরাক ও সিরিয়ার পারস্পরিক সহযোগিতার কারণেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাফল্য এসেছে। এ অবস্থায় দামেস্কে এই তিনি দেশের সেনা প্রধানদের বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৮

ট্যাগ

মন্তব্য