• সিরিয়া-যুদ্ধ মার্কিন-সৌদি-কাতারি খেলা: ফি.টাইমস

কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হামাদ বিন জাসেম বলেছেন, সিরিয়ায় যা ঘটছে তা গণ-বিপ্লব নয়, বরং মার্কিন, সৌদি ও দোহা-সরকারই সিরিয়ার ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে, আর আমার শাসনামলেই তা শুরু হয়েছে।

ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। জাসেম এই পত্রিকার সাংবাদিককে বলেন, আমি এমন কিছু কথা বলতে চাই যা এ পর্যন্ত কেউ বলেনি। জাসেম ২০১২ সালে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘২০১২ সালে যখন সিরিয়ার বিষয়ে কাজ শুরু করি তখন নিশ্চিত ছিলাম যে খুব শিগগিরই কাতার সিরিয়ার পরিস্থিতির ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবে। কারণ, সৌদি সরকার তখনও সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে আগ্রহী ছিল না। কিন্তু পরে সৌদি সরকার নীতি পরিবর্তন করে এবং সিরিয়ায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ইস্যুটি রিয়াদ ও দোহার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে পরিণত হয়।’

জাসেম সিরিয়া-সংকটকে ‘একটি আন্তর্জাতিক খেলা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, মার্কিন, সৌদি ও কাতারের সরকার এই খেলার শরিক এবং রিয়াদই এখানে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

তিনি এ প্রসঙ্গে ফ্রান্সের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোলান দুমা’র একটি বক্তব্য তুলে ধরেন যেখানে দুমা বলেছিলেন ‘আরব-বসন্ত’ শুরুর দুই বছর আগেই ব্রিটেন সিরিয়ায় হামলার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল এবং সিরিয়ার সংকটটি আসলে একটি ষড়যন্ত্রেরই ফসল। আর এই কথিত বসন্তের সময় কাতারও লিবিয়া, মিশর ও ইয়েমেনে ষড়যন্ত্রের একটানা প্রচেষ্টায় জড়িত ছিল বলে জাসেম স্বীকার করেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এইসব বক্তব্য সিরিয়ায় ষড়যন্ত্রকারী ও হস্তক্ষেপকামী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কাজে প্রামাণ্য দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

সিরিয়ার আসাদ সরকার আরব সরকারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে স্বাধীনচেতা ও কট্টর ইসরাইল-বিরোধী হওয়ায় এই সরকার পাশ্চাত্য এবং তাদের স্থানীয় সেবাদাস সরকারগুলোর জন্য চক্ষুশূল হয়েছিল।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় সৌদি সরকারের ভূমিকা প্রকাশ করার জন্য মার্কিন সরকারের ওপর যখন দেশটির নানা মহলের চাপ বাড়ছে তখন সিরিয়া সংকটের পেছনে পাশ্চাত্য ও তাদের কয়েকটি ক্রীড়নক সরকারের যৌথ-ষড়যন্ত্রের খবর ফাঁস হল। অনেকেই বলছেন, মার্কিন সরকার হয়তো সৌদি আরবের বিষয়ে কোনো নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়। #

মু. আমির হুসাইন/২৬

ট্যাগ

২০১৬-০৪-২৬ ০৯:৩৭ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য