• হজবাণীতে সৌদি বিষয়ে সর্বোচ্চ ইরানি নেতার মন্তব্য যৌক্তিক : বিশ্ব সুন্নি-ওলামা সমিতি

বিশ্ব বিপ্লবী সুন্নি-ওলামা ইউনিয়নের প্রধান শেইখ মাহের হামুদ ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এবারের হজবাণীর প্রশংসা করে বলেছেন, এই বাণীতে গত বছরের হজের সময় মিনায় সৌদিদের সৃষ্ট গণহত্যার প্রেক্ষাপটে সৌদি নীতির বাস্তবসম্মত সমালোচনা করা হয়েছে। 

তিনি বলেছেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে ইমাম সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর এ বছরের হজবাণীতে সৌদিদের যেসব সমালোচনা করা হয়েছে তা যথাযথ এবং গত বছরের কুরবানি ঈদের দিন শুরুর প্রথম কয়েক ঘণ্টায় সংঘটিত মিনা ট্র্যাজেডির আলোকে ভারসাম্যপূর্ণ।
শেইখ মাহের প্রশ্ন করেন: কোথায় তদন্ত-কমিটি? কি ছিল তদন্তের ফলাফল? কী ছিল ওই ভিড়ের কারণ? তা কি একজন রাজপুত্রের চলাচলের কারণে না অন্য কোনো কারণে ঘটেছিল? কেনো মুসলিম বিশ্ব নীরব রয়েছে? মুসলিম বিশ্বের সব দেশের লোকেরাই কি সেখানে কুরবানি হয়নি? তাহলে কেন ইরান ছাড়া অন্যরা নীরব?কেনো মুসলিম বিশ্বের সরকারগুলো মিনা ট্র্যাজেডিতে নিহত নিজ নাগরিকদের ব্যাপারে প্রশ্ন করেনি? লাশগুলোর পরিচয় শনাক্ত না করেই কেনো দাফন করা হয়েছিল ও হাজিদের লাশ কন্টেইনারে (ট্রাকে)কেনো এমনভাবে জড়ো করা হয়েছিল যেন সেসব ছিল পচে যাওয়া পণ্য কিংবা মাটির নীচে পুঁতে ফেলার জন্য আনা আবর্জনা?!.. এবং এমন আরও অনেক বৈধ প্রশ্ন। 
তিনি আরও বলেছেন, মিনা ট্র্যাজেডির পর সৌদি-ইরান আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু সৌদি সরকার অযৌক্তিক নানা শর্ত আরোপ করায় ইরানিরা এ বছর হজে যেতে পারেনি। 
শেইখ মাহের বলেন, ইরানের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে যেন মিনা ট্র্যাজেডির জন্য তারাই ছিল দায়ী এবং ইরানিরা যেন কুরবানি হয়নি। আর গণমাধ্যমেও এমনভাবে প্রচারণা চালানো হয়েছে যেন ইরানিরাই হজে বাধা সৃষ্টি করেছে; আর এ ধরনের নাটক হাস্যকর ও কান্না-উদ্রেককারী বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।  

তাই এটা স্পষ্ট যে, ইরানিরা মিনা ট্র্যাজেডির তদন্তের ফল জানতে চাওয়ায় এবং এই ট্র্যাজেডির কারণ ও এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর উপায় সম্পর্কে প্রশ্ন করায় তাদের শাস্তি দেয়া হয়েছে।
শেইখ হামুদ আরও বলেছেন, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা জনাব খামেনেয়ীর হজবাণী ইসলাম-সম্মত ও উপদেশপূর্ণ এবং যে ঘটনা ঘটেছে তার প্রেক্ষাপটে একজন দরদি মানুষ হিসেবেই তিনি এতে বক্তব্য রেখেছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সৌদি মুফতিরা এর অযৌক্তিক ও অকার্যকর জবাব দিয়েছেন।
বিশ্ব বিপ্লবী সুন্নি-ওলামা ইউনিয়নের প্রধান বলেছেন, কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই হজের পথ সবার জন্য খোলা রাখা উচিত। ইরানিদেরকে 'অগ্নি-উপাসক', 'ফার্স', 'সাফাভি' ইত্যাদি বলে বা তাদের সম্পর্কে অশোভনীয় উক্তি করে এই স্পষ্ট বাস্তবতাকে বদলানো যাবে না যে ইরান কোনো গোত্রীয় ও মাজহাবি ঝোঁক ছাড়াই লেবানন ও ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলনকে সহায়তা দিচ্ছে এবং ইসরাইলের সহযোগীদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হচ্ছে। 
ইরান নিজের সম্প্রসারণকামী লক্ষ্যে প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে-এমন অভিযোগ গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
শেইখ হামুদ আরও বলেছেন, বিশ্বের সুন্নি আলেম-সমাজ ও  ইসরাইল-বিরোধী প্রতিরোধের সমর্থকদের পক্ষ হতে বলছি, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত কুল-কিনারাহীন একটি সাগরের মত এবং অতীতের মতই আমরা কাউকে আহলে সুন্নাতের নাম ভাঙ্গিয়ে এমন বক্তব্য দেয়ার অনুমতি দেব না যাতে শিয়া মুসলমানদেরকে ভিত্তিহীন চিন্তা বা কল্পনার ভিত্তিতে ‘বিপদ’ বলে তুলে ধরা হয়।
তিনি আরও বলেছেন, সাম্রাজ্যবাদীদের মোকাবেলার ক্ষেত্রেও আমরা একই নীতিতে বিশ্বাসী। ইরানিরা ফিলিস্তিন ইস্যুকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার যে নীতির কথা বলে তা ইসলাম-সম্মত এবং ইরানিরা তা একনিষ্ঠ ও আন্তরিকভাবে বাস্তবায়ন করছে, অথচ অন্যরা ফিলিস্তিনি ইস্যুকে ভুলে গেছে এবং এ জন্য লোক-দেখানো অশ্রুপাত করছে বা কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন করছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এবারের হজবাণী বিশ্লেষণ করতে গিয়ে শেইখ হামুদ আরও বলেছেন, মাজহাবগত ফিতনা বা বিভেদ দূর করার জন্য চেষ্টা চালানো ও মুসলিম জাতি আর মাজহাবগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করা এখন সবচেয়ে বড় ফরজ কাজ। কারণ, গত কয়েক দশকে যা কিছু গড়ে উঠেছে, মুসলমানদের মাজহাবগত, গোত্রীয় বা জাতিগত ও রাজনৈতিক বিভেদ আর হানাহানির কারণেই তার প্রায় সবই ধ্বংসের মুখে রয়েছে এবং অন্যান্য জাতির কাছে মুসলমানরা উপহাসের পাত্র হয়ে উঠছে।
শেইখ হামুদ আরও বলেছেন, যারা ইসলাম ও মুসলমানদের ভালবাসেন তাদের উচিত এইসব ফিতনা থামানোর কাজে সাহায্য করা এবং যেসব কাজ হৃদয়গুলোকে পরস্পরের কাছে আনে ও নানা সারি বা শ্রেণীকে ঐক্যবদ্ধ করে সেসবে মনোনিবেশ করা। ঐক্যের আহবান থেকে কাউকেই বাদ রাখা উচিত হবে না বলেও ইসরাইলি দখলদারিত্ব ও সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী বিশ্ব সুন্নি-ওলামা ইউনিয়নের সভাপতি জোর দেন। #  

পার্সটুডে/মু.আ.হুসাইন/৯ 
   

ট্যাগ

২০১৬-০৯-০৯ ২০:১৯ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য