পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের একটি মাজারে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৭৫ জন নিহত ও ৩০০ জন আহত হয়েছেন।গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় ওই আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। 

দক্ষিণ পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের সেহওয়ান শরিফ নামক ধর্মীয় শহরে হযরত লাল শাহবাজ কলন্দর (র)’র মাজারে এই সন্ত্রাসী হামলার দায় স্বীকার করেছে তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ তথা আইএসআইএল।  

বিস্ফোরণটি এমন সময় ঘটানো হয় যখন ওই মাজারে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। 

অত্যন্ত জনপ্রিয় এই সুফি সাধকের মাজার এর আগেও কয়েকবার সৌদি মদদপুষ্ট তাকফিরি-ওয়াহাবি গোষ্ঠীগুলোর সন্ত্রাসী হামলার  শিকার হয়েছে।

পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ও প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফসহ দেশটির সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা এবং নানা রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বর্বরোচিত এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। 
পাকিস্তানের দলগুলো আজ শুক্রবার দেশব্যাপী শোক পালন করছে।

গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাকিস্তানে বড় ধরনের সাতটি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। তবে শাহবাজ কলন্দর (র)’র মাজারে সংঘটিত গতকালের হামলাটি ছিল পাকিস্তানে গত এক মাসে সংঘটিত সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা। 

মাত্র ৫ দিনে ৭টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা থেকে বোঝা যায় পাকিস্তানে উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর সন্ত্রাসী তৎপরতা দিনকে দিন ভয়াবহ মাত্রায় জোরদার হচ্ছে। 

দেশটির তালেবান, দায়েশ, লশকরে জাঙ্গাভি ও সিপাহে সাহাবা’র মত উগ্র গোষ্ঠীগুলো যেন ক্রমেই আরও বেপরোয়া হয়ে সন্ত্রাসী তৎপরতা জোরদার করছে। 

পাকিস্তানের নানা গোত্র, জাতি ও সংখ্যালঘু দল বা গোষ্ঠীসহ আপামর জনগণের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়া সত্ত্বেও দেশটির সরকার, গোয়েন্দা এবং নিরাপত্তা বিভাগ সন্ত্রাসবাদকে কঠোর হাতে দমন করতে ব্যর্থ হয়েছে। দেশটির নানা দল ও গোষ্ঠী এ জন্য পাকিস্তান সরকারের দুর্বল নীতিকে দায়ী করছে।

এদিকে, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র সিন্ধু প্রদেশে সন্ত্রাসী হামলায় আফগানিস্তান ও ভারতের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন। কেউ কেউ এ ধরনের দাবিকে ক্ষমতাসীন নওয়াজ শরিফ সরকারের দুর্বলতা ঢাকার চেষ্টা বলে মনে করছেন। 

পাকিস্তানের জনগণ মনে করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দমনের জন্য পাকিস্তান সরকারকে আরও বেশি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে ও আরও বেশি কঠোর হতে হবে।  

সম্প্রতি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সিপাহে সাহাবার নাটের গুরুদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বলে খবর এসেছে। এ খবরের আলোকে অনেকেই বলছেন ইসলামাবাদ উগ্রবাদীদের দমনের ব্যাপারে তেমন একটা আন্তরিক নয়। 

পাকিস্তানের নাগরিকরা বলছেন, যদিও দেশটির সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো বিদেশি সহায়তা পেয়ে আসছে, তা সত্ত্বেও পাকিস্তান সরকার যদি খুব দৃঢ় ইচ্ছা নিয়ে সন্ত্রাসবাদকে সব দিক থেকে মোকাবেলা করতে চায় তাহলে দেশটিতে সন্ত্রাস জিইয়ে রাখার বিদেশী বা শত্রুভাবাপন্ন সরকারগুলোর সব ষড়যন্ত্রই ব্যর্থ হতে বাধ্য। কারণ, জনগণ ধর্মীয় উগ্রতাসহ সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের ঘোর বিরোধী। #

পার্সটুডে/মু.আ.হুসাইন/১৭ 

২০১৭-০২-১৭ ১৯:০৭ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য