২০১৭-০৭-১৫ ১৮:০৩ বাংলাদেশ সময়

সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্টিফ্যান ডি মিস্তোরা এক সংবাদ সম্মেলনে সন্ত্রাসীদের সিরিয়ায় পাঠানো বন্ধ করার আহবান জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা চালানোর আহবান জানিয়ে তিনি সন্ত্রাসীদের অর্থ ও অস্ত্র দেয়া বন্ধ করাসহ সিরিয়া বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদে পাশ হওয়া সব প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্টিফ্যান ডি মিস্তোরা এমন সময় এসব বক্তব্য দিয়েছেন যখন সেদেশে তৎপর সন্ত্রাসীদের প্রতি আমেরিকার সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। আমেরিকা সন্ত্রাসীদেরকে ভালো ও খারাপ এ দুই ভাগে বিভক্ত করে সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের অস্ত্রে সজ্জিত করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে, আমেরিকার বহু পুরানো 'ভ্যাটারন্স সোলজার' সাময়িকীর সম্পাদক ও লেখক গর্ডন ড্যাফ আমেরিকাকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রধান সমর্থন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি তার এক নিবন্ধে বলেছেন, "ইরাক ও সিরিয়ায় তৎপর দায়েশসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা আমেরিকার সেনাবাহিনীর মাধ্যমে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়েছিল।" তিনি বলেন, "আমেরিকা এবং সৌদি আরব এখনো মধ্যপ্রাচ্যের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।"

বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিফ্যান ডি মিস্তোরার বক্তব্য প্রকৃতপক্ষে জাতিসংঘেরই বক্তব্য। আসলে বাইরের দেশগুলো সিরিয়াকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের মুখোমুখি দাঁড় করানোর জন্য সেখানে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। সিরিয়া সংকটের দিকে নজর দিলে দেখা যায়, প্রথমদিকে সরকার বিরোধী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশকে অজুহাত করে পাশ্চাত্য ২০১১ সালের মার্চ থেকে ওই দেশটিতে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে চলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে বিভক্ত করার জন্য পাশ্চাত্য যে নীল নকশা এঁটেছে সিরিয়া সংকটকে তারই আলোকে মূল্যায়ন করতে হবে। সিরিয়ায় বিদেশি হস্তক্ষেপ, সন্ত্রাসীদের অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ এবং বিভিন্ন দেশ থেকে সিরিয়ায় ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের পাঠানো এসবই পাশ্চাত্যের দেশগুলো বিশেষ করে আমেরিকার পরিকল্পনা অনুযায়ীই করা হচ্ছে।

বিদেশি ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ কিছুদিন আগে বলেছেন, "ইউরোপীয় সরকারগুলো যদি সত্যিই সিরিয়ার জনগণকে সাহায্য করতে চায় তাহলে তাদের উচিত সর্বপ্রথম সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থন দেয়া বন্ধ করা।"

মধ্যপ্রাচ্য থেকে উত্তর আফ্রিকা পর্যন্ত ইসলামী জাগরণ শুরু হওয়ার পরপরই সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশের সহযোগিতায় পাশ্চাত্য ওই জাগরণ ঠেকানোর জন্য উঠেপড়ে লাগে এবং সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে তারা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেয়। সিরিয়ার ঘটনাবলী থেকে বোঝা যায়, সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে ওই দেশটিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ব্যাপারে এটা পাশ্চাত্যের বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশ। সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূতও এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

যাইহোক, সিরিয়ার সেনা ও গণবাহিনী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিরাট সাফল্য অর্জন করেছে এবং এখন তারা ওই দেশ থেকে সন্ত্রাসীদের পুরোপুরি নির্মূল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সমাজ সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের পাঠানোর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে সবাই আশা করছে। #              

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/১৫

 

ট্যাগ

মন্তব্য