• ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন
    ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন

ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তির জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও যেসব শর্ত দিয়েছেন তার বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি সোমবার বুয়েন্স আয়ার্সে জি২০’ভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের অবকাশে বলেন, পম্পেও’র দেয়া শর্তগুলো একটি চুক্তির মধ্যে নিয়ে আসা অসম্ভব ব্যাপার।

মাইক পম্পেও সোমবার ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের কঠিনতম নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের হুমকি দিয়ে তেহরানের সঙ্গে নতুন যেকোনো চুক্তি সইয়ের জন্য ১২টি শর্ত আরোপ করার কয়েক ঘণ্টা পর জনসন এ প্রতিক্রিয়া জানান। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি চুক্তির মধ্যে এতগুলো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়।

জনসন বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দেশটির কথিত অসদাচরণ, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কথিত নাশকতামূলক তৎপরতা, পরমাণু কর্মসূচি ইত্যাদি সবকিছু একটি চুক্তিতে আনতে গেলে তা হবে মারাত্মক কঠিন কাজ।

পম্পেও সোমবার ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেন

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর পরিবর্তে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বর্তমান পরমাণু সমঝোতাকে ‘অনেক ভালো চুক্তি’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে একদিকে বিশ্ব নিশ্চিত হয়েছে যে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে না।  এ সমঝোতা থেকে আমেরিকা বেরিয়ে যাওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে গত ৮ মে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে তার দেশকে বের করে নেন। ২০১৫ সালে পাশ্চাত্যের সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত ওই সমঝোতা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদিত হওয়ার ফলে এটি একটি আন্তর্জাতিক আইন হিসেবে বিবেচিত।

আমেরিকা এ সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেলেও এতে স্বাক্ষরকারী তিন ইউরোপীয় দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি বলেছে, আমেরিকাকে ছাড়াই তারা এটি বাস্তবায়ন করে যাবে। তবে তেহরান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, ইরানের কাঙ্ক্ষিত স্বার্থ রক্ষিত না হলে এ সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে দেশটি পূর্ণ মাত্রায় তার বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি আবার শুরু করবে। #

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২২

ট্যাগ

২০১৮-০৫-২২ ০৫:১৮ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য