মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও গণধর্ষণের দায়ে দেশটির সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংসহ ছয় শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানিয়েছেন মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের চেয়ারপারসন মারজুকি দারুসমান। তিনি এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে বলেছেন, মিয়ানমারের এসব সেনা কর্মকর্তা রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন, হত্যা, নারীদের ওপর যৌন নির্যাতনসহ নানা অপরাধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং যারা এখনো বেঁচে আছে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এ কারণে তাদেরকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গত ৬০ এর দশক থেকে সেদেশের সরকার পরিচালনা করে আসছে। একইসঙ্গে তারা উগ্র বৌদ্ধদের সহযোগিতায় স্থানীয় রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা ও জুলুম নির্যাতন চালিয়ে আসছে এবং তখন থেকেই মুসলমানদেরকে তাদের জায়গা জমি থেকে বিতাড়নের কাজ শুরু করে। গত বছরের ২৫ আগস্ট নতুন করে আরাকান রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। এতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের হামলায় হাজার হাজার মুসলমান হতাহত এবং নতুন করে প্রায় দশ লাখ মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে।

রোহিঙ্গা মুসলমান শরণার্থী

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছে। যদিও আন্তর্জাতিক সমাজ ও মুসলিম দেশগুলো মিয়ানমারের সেনা ও উগ্র বৌদ্ধদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে কিন্তু এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে সকলের প্রত্যাশা।

গত ৮০'র দশক থেকে মিয়ানমারের সামরিক সরকার দাবি করে আসছে রোহিঙ্গা মুসলমানরা বাংলাদেশি নাগরিক এবং মিয়ানমারে তাদের কোনো নাগরিক অধিকার থাকতে পারে না। গত শনিবার বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী তাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা ও জুলুম নির্যাতনের ব্যাপারে জাতিসংঘের নীরবতা ও উদাসীনতার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। এ থেকে বোঝা যায়, রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষায় জাতিসংঘ আজ পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাঁচটি দেশের ১৩২ জন সংসদ সদস্য নতুন করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর হত্যা নির্যাতন শুরুর এক বছর পূর্তিতে রোহিঙ্গা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে উত্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। মালয়েশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্য চার্লিস সান্টিয়াগো বলেছেন, "রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমার সেনাদের হত্যা নির্যাতনের বিষয়টি হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে উত্থাপন করা উচিত। কারণ মুসলমানদের পক্ষে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া সম্ভব নয়।"

যাইহোক, জাতিসংঘের নীরবতার কারণে মিয়ানমারে এখনো মুসলমানদের বিরুদ্ধে বর্বরতা অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংস্থা আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সংসদ সদস্যরা পদক্ষেপ নেয়ায় রোহিঙ্গা সংকটের অবসানের ব্যাপারে কিছুটা আশার আলো দেখা দিয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৮

 

ট্যাগ

২০১৮-০৮-২৮ ১৮:২৪ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য