• (বামে) অং সান সু চি (ডানে) রোহিঙ্গা শরণার্থীরা
    (বামে) অং সান সু চি (ডানে) রোহিঙ্গা শরণার্থীরা

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চালানো সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি’র পদত্যাগ করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জেইদ রা’আদ আল হুসাইন।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও গণধর্ষণের দায়ে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ ছয় শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাকে দায়ী করে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের রিপোর্ট প্রকাশের দুই দিন পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। রোহিঙ্গা সংকটে শান্তিতে নোবেল জয়ী সু চি’র ভূমিকাকে ‘গভীর অনুশোচনীয়’ বলেও উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘের বিদায়ী এই মানবাধিকার প্রধান।

জেইদ রা’আদ আল হুসাইন

মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হতেই স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেন, তার দেশ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যেসব ভুয়া অভিযোগ এ পর্যন্ত করেছে, সেগুলো তদন্তের জন্যও মিয়ানমার একটি কমিশন গঠন করেছে। 

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়, যাকে জাতিগত নিধন অভিযান বলছে জাতিসংঘ। সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে সাত লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। 

রোহিঙ্গা নারী ও শিশু

এ সম্পর্কে জেইদ রা’আদ আল হুসাইন বিবিসিকে বলেন, “ওই সময় সু চি কিছু করার মতো অবস্থানে ছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীর পক্ষে সাফাই না গেয়ে চুপ থাকতে পারতেন। সবচেয়ে ভালো হতো, তিনি যদি পদত্যাগ করতেন।”

তিনি আরও বলেন, “মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের ভূমিকা নেয়ার দরকার ছিল না তার। তিনি হয়তো বলতে পারতেন, আমি দেশের নামমাত্র নেত্রী হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থাকলেও এই পরিস্থিতিতে তা চলবে না।”

সিডনিতে সু চি'র নোবেল পদক কেড়ে নেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ

এদিকে, বুধবার নরওয়ের নোবেল কমিটি জানিয়েছে, মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির নোবেল পদক কেড়ে নেয়া হবে না। কমিটি জানায়, অং সান সু চি শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন ১৯৯১ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য তার লড়াইয়ের জন্য। এছাড়া নোবেল পদকের নিয়ম অনুযায়ী, এ পুরস্কার প্রত্যাহারের কোনও সুযোগ নেই।

সোমবার (২৭ আগস্ট) জাতিসংঘের তদন্তকারী কর্মকর্তারা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে ‘রোহিঙ্গা গণধর্ষণের’ পাশাপাশি ‘গণহত্যার অভিপ্রায়ের’ দায় দিয়ে অভিযোগ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। ওই প্রতিবেদনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফসহ ছয় শীর্ষ জেনারেলের নাম উল্লেখ করে তাদের আন্তর্জাতিক আইনে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানায় জাতিসংঘ।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩০

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

 

 

২০১৮-০৮-৩০ ১২:১৬ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য