সিরিয়ার আকাশে রাশিয়ার একটি আইএল-২০ গোয়েন্দা বিমান ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হওয়ার পর মস্কো ও তেল আবিবের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।

সোমবার রাতে সিরিয়ার আকাশে রুশ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে ১৫ সেনা নিহত হয়। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় ইসরাইলকে দায়ী করেছে। রাশিয়ার এই বিমানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ইসরাইলের কয়েকটি এফ-১৬ বিমান সিরিয়ার ওপর হামলা চালানোর সময় সিরিয় ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলি বিমানের ওপর আঘাত হানলে রুশ ওই বিমানটি ধ্বংস হয়। 

সিরিয়ায় রাশিয়ার ব্যাপক সেনা উপস্থিতি রয়েছে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে। দামেস্কের পুরনো মিত্র মস্কো আসাদ সরকারের অনুরোধে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দমনের জন্য দেশটিকে ব্যাপক সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। রুশ সামরিক বিমানগুলো লাতাকিয়া প্রদেশে সিরিয়ার একটি বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করছে। 

ইসরাইল-বিরোধী আসাদ সরকারে অনুরোধে ইরানও সিরিয়ায় সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে। একইভাবে সন্ত্রাস দমনে সিরিয়ার আসাদ সরকারকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে লেবাননের হিজবুল্লাহও।

 কিন্তু সিরিয়ায় ইরানি ও হিজবুল্লাহর উপস্থিতির বিরুদ্ধে বিষোদগার করে আসছে ইসরাইল। রাশিয়া যাতে সিরিয়ায় ইরান ও হিজবুল্লাহর সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে ইসরাইলের পক্ষে অবস্থান নেয় সেজন্য নানা ধরনের প্রচারণা ও কূটনৈতিক তৎপরতাও চালিয়ে এসেছে তেল-আবিব। কিন্তু মস্কোকে রাজি করাতে পারেনি তেল-আবিব।
এ অবস্থায় সিরিয়ায় ইরান ও হিজবুল্লাহর সামরিক উপস্থিতি মোকাবেলার অজুহাত দেখিয়ে প্রায়ই দেশটিতে হামলা চালাচ্ছে দখলদার ইসরাইল। সম্প্রতি এ ধরনের হামলা জোরদার করে দখলদার ইসরাইল। আর এরই প্রেক্ষাপটে রুশ গোয়েন্দা বিমান ধ্বংসের এই ঘটনা ঘটল।

রাশিয়া এ ঘটনায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইসরাইলের এফ-সিক্সটিন জঙ্গি বিমানগুলো সিরিয়ার লাতাকিয়ায় অভিযান চালানোর মাত্র এক মিনিট আগে রাশিয়াকে এ বিষয়ে অবহিত করে। ইসরাইলি জঙ্গি বিমানগুলো এমন সময় ওই রুশ বিমানটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছিল যখন বিমানটি লাতাকিয়ার বিমান ঘাঁটিতে ফিরে আসছিল। ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন ফ্রান্সের একটি যুদ্ধ-জাহাজ ইসরাইলের এই অভিযানে সহায়তা দিয়েছে বলে জানা গেছে। 

 সিরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কে বিরোধ ঘটানোর জন্যও ইসরাইল এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সের্গেই শুয়িগু ইসরাইলের এ তৎপরতাকে রুশ-ইসরাইলি  সহযোগিতার লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, মস্কো বিদ্বেষমূলক এই ঘটনার জবাব দেয়ার অধিকার রাখে।

সিরিয়ায় ইরান ও ইসরাইলের দ্বন্দ্বে নিরপেক্ষ ভূমিকা রেখে আসছে রাশিয়া। রুশদের ধারণা এ নিরপেক্ষতার কারণে ইসরাইল কখনও সিরিয়ায় রুশ সামরিক টার্গেট বা উপস্থিতির কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি-নীতি পদদলনে অভ্যস্ত ইসরাইল যে তার স্বার্থে যে কোনো নিরপেক্ষ শক্তির ওপরও সহজেই আঘাত হানতে পারে তা সোমবারের ঘটনায় আবারও প্রমাণ হল।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরাইলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, মস্কো সিরিয়ায় তার সেনাদের রক্ষার জন্য দরকারি যে কোনো পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ইসরাইলি আচরণের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, সিরিয়ার রুশ সেনাদের নিরাপত্তা বাড়ানো হবে। রাশিয়া হয়ত এখন থেকে এটা উপলব্ধি করছে যে সিরিয়ায় ইসরাইলি আগ্রাসনের বিষয়ে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানো দরকার। এ ব্যাপারে রাশিয়ার এতদিনকার নমনীয় নীতি ইসরাইলের ঔদ্ধত্য ও দাম্ভিকতা দিনকে দিন বাড়িয়ে দিয়েছে।  #

পার্সটুডে/এমএএইচ/১৯ 

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন      

ট্যাগ

২০১৮-০৯-১৯ ১৯:০৭ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য