২০১৮-১১-০৬ ১৯:৫৮ বাংলাদেশ সময়
  • ইরান-বিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা: গর্জন তীব্র, নেই  অর্জন!

তেহরানের ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন সরকার। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের এবারের নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে সবচেয়ে ব্যাপক।

ইরানকে মার্কিন সরকারের দাবি-দাওয়া মেনে চলতে বাধ্য করার আশা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন গতকাল অর্থাৎ ৫ নভেম্বর (সোমবার) থেকে এই নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ছয় বৃহৎ শক্তির স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা বাতিল করার পর থেকে একতরফা পুরনো নিষেধাজ্ঞাগুলো ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নতুন কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পিউ গতকাল বলেছেন, নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলোর লক্ষ্য হল ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করা। নতুন এক পরমাণু-সমঝোতা স্বাক্ষর ও 'স্বাভাবিক' আচরণ করতে ইরানকে বাধ্য করাও এসব নিষেধাজ্ঞার অন্যতম উদ্দেশ্য বলে তিনি দাবি করেন।

ইরানের মত বিপ্লবী ও সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী সরকারের ক্ষেত্রে 'স্বাভাবিক আচরণ' বলতে মার্কিন শাসকরা নতজানু বা সেবাদাস সরকারগুলোর মত আচরণই আশা করে থাকেন। 

ইরানের ইসলামী সরকার ও জনগণের ঐক্যই মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলোকে ব্যর্থ করছে  

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের ৭০০ ব্যক্তি, কোম্পানি, ব্যাংক, বিমান ও জাহাজকে নতুন এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে। ফলে গত দুই বছরেরও কম সময়ে ট্রাম্প সরকারের পক্ষ থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন ইরানের নানা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৯০০-তে উন্নীত হল। এ ছাড়াও মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের আড়াই' শ ব্যক্তি ও তাদের সম্পদকে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করেছে। 

ইরানি নেতৃবৃন্দ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প সরকারের ইরান-বিরোধী নানা নিষেধাজ্ঞা ও এ সংক্রান্ত ঘোষণাগুলোর উদ্দেশ্য হল মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ জোরদার তথা ইরানি নেতৃবৃন্দ ও জনগণকে ভীত-সন্ত্রস্ত এবং হতাশ করে দেয়া। 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, মার্কিন সরকার ইরান-বিরোধী নিষেধাজ্ঞাগুলোকে বড় করে তুলে ধরার জন্য ইসলামী এই দেশটির একটি ডুবে যাওয়া জাহাজ ও একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যাংককেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যোগ করেছে যা মার্কিন সরকারের অসহায়ত্বেরই প্রমাণ। 

বহু স্বাধীনচেতা দেশই ইরান-বিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলোকে অন্যায়, অবৈধ ও আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী বলে উল্লেখ করে আসছে। রাশিয়া, চীন ও ইউরোপীয় জোট এসব নিষেধাজ্ঞাগুলোর বিরোধিতা করছে।

ইরানের তেল-রপ্তানিকে পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে মার্কিন সরকারই স্বীকার করেছে

ইরানের সঙ্গে ছয় বৃহৎ শক্তির স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতার প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদন থাকায় ইরান-বিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলোর কোনো আন্তর্জাতিক বৈধতা নেই। আর এ জন্যই হেগের আন্তর্জাতিক আদালতও ইরান-বিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলোকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছে। কিন্তু হেগের আদালতের রায়ের পরও বলদর্পি ট্রাম্প-সরকার ইরান-বিরোধী নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রেখেছে। 

ইরান-বিরোধী নিষেধাজ্ঞাগুলোর ইতিহাস থেকে এটা স্পষ্ট মুক্তিকামী ও বিপ্লবী ইরানি জাতি এবং দেশটির স্বাধীনচেতা ইসলামী সরকার অতীতের মতই ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়চেতা নানা পদক্ষেপ নিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলোকে ব্যর্থ করবে।

গত মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল সোমবার থেকে ইরানের তেল ও ব্যাংকিং খাতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।

তবে চীন, রাশিয়া ও তুরস্কসহ বিশ্বের বহু দেশ বলেছে, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তারা ইরানের কাছ থেকে তেল আমদানির পাশাপাশি বাণিজ্যিক লেনদেন আগের মতই অব্যাহত রাখবে।  #

পার্সটুডে/এমএএইচ/৬
    


 

ট্যাগ

মন্তব্য