২০১৮-১২-১১ ১৯:২৭ বাংলাদেশ সময়

ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিষদ এক বিবৃতিতে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা অব্যাহত থাকায় এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হল।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে হত্যা নির্যাতনে জড়িত থাকার দায়ে সেনাবাহিনীর কোনো কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আরো বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া, রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলমান অপরাধযজ্ঞের বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিষদ মিয়ানমারের সাত সেনা কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিদেশে তাদের সম্পদ আটকের পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলোতে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর আগে জাতিসংঘের ফ্যাক্টফাইন্ড কমিটি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মিয়ানমারের সেনা প্রধানসহ আরো পাঁচ জেনারেলকে বিচারের আহ্বান জানিয়েছিল।

গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধরা নতুন করে হামলা চালিয়ে ছয় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং এতে আহত হয় আরো আট হাজার মানুষ। এ ছাড়া, দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীতে পরিণত হয়। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিষদের নিষেধাজ্ঞার রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলমান অপরাধযজ্ঞ রোধে এ বিবৃতি তেমন কোনো ভূমিকা রাখবে না।

ইউনিসেফ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের দুরবস্থার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, এ অবস্থায় শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং নানা ধরণের অসুখে ভুগছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনিসহ অন্য কর্মকর্তারা বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে মিয়ানমারের রাখাইনে মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলমান জুলুম নির্যাতন অবসানে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তারা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বরং তারা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে গিয়ে কেবল লোক দেখানো দুঃখ প্রকাশ এবং সেলফি তুলেছে। অথচ অসহায় শরণার্থীরা আশা করেছিল বৃহৎ শক্তিগুলো মুসলমানদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের হত্যা নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে।

যাইহোক, মিয়ানমারে তেল সম্পদ থাকায়, ফসল উৎপাদনে দেশটির মাটি অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় এবং সমুদ্র বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব থাকায় এ দেশটির ওপর প্রভাব বিস্তারের জন্য চীন ও পাশ্চাত্যের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। এ প্রতিযোগিতায় ভারতও এগিয়ে থাকার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পদক্ষেপ গ্রহণকে আর্থ-রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১১    

 

ট্যাগ

মন্তব্য