২০১৯-০১-১১ ১৮:২৩ বাংলাদেশ সময়

ইরান সম্পর্কে মার্কিন সরকারের আতঙ্ক ছড়ানোর বিষাক্ত প্রচারণা আবারও জোরদার হচ্ছে।  মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক টুইট-বার্তায় দাবি করেছেন, বিশ্ব ইরানের হুমকিগুলোর ব্যাপকতা বুঝতে পেরেছে!

ইসলামী ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবে ক্ষুব্ধ পম্পেও এর আগে গতকাল (বৃহস্পতিবার) কায়রোয় বলেছেন, তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের চলমান নিষেধাজ্ঞাগুলো 'ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন নিষেধাজ্ঞা'। ইরানের আচরণ কথিত 'স্বাভাবিক রাষ্ট্রের মত না হওয়া পর্যন্ত' দেশটির ওপর আরও কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

'স্বাভাবিক আচরণ করা' বলতে মার্কিন সরকার বাস্তবে তাদের সেবাদাস হওয়াকে বুঝিয়ে থাকেন। কিন্তু ইসলামী বিপ্লবের ওপর অবিচল ইরানকে আবারও সেবাদাস করার যে স্বপ্ন মার্কিন সরকারগুলো বিগত ৪০ বছর ধরে দেখে আসছে তা স্বপ্নই হয়ে আছে। তাই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের ক্ষোভ ও অনুতাপ কেবলই বাড়ছে। 

মার্কিন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অতীতেও বার বার এ ধরনের চোখ-রাঙ্গানো  বক্তব্য রেখেছেন। 

আসলে পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের প্রভাব ও শক্তিমত্তা এ অঞ্চলে মার্কিন সরকার ও তার মিত্রদের হিসাব-নিকাশকে ওলট-পালট করে দিয়েছে। তাই যুদ্ধবাজ মার্কিন সরকার ইরানকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরে এ অঞ্চলের সেবাদাস আরব সরকারগুলোর সহায়তায়  রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে।

কিন্তু এ অঞ্চলে মার্কিন সেনাসহ বিজাতীয় শক্তিগুলোর উপস্থিতি অশান্তি, বিভেদ ও সহিংসতা ছাড়া কখনও অন্য কিছু বয়ে আনেনি। মার্কিন সরকার যখনই যে কোনো দেশে হস্তক্ষেপ করেছে সেখানে অসন্তোষ, দমন-পীড়ন ও সহিংসতা ছাড়া আর কিছুই দেখা যায়নি বলে পম্পেওর বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ। 

অন্যদিকে ইরানের যে আঞ্চলিক প্রভাব তা বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার সেবায় নিবেদিত।  ইরানের সহায়তায় সিরিয়া ও ইরাকে তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের পরাজয়ই এর অন্যতম বড় প্রমাণ। 

ইরান কোনো একদিন কথিত স্বাভাবিক আচরণ তথা সেবাদাসসূলভ আচরণ করবে ও পম্পেওর সাম্প্রতিক দাবি অনুযায়ী তেহরান একটি আরব সেবাদাস সরকারের মানবাধিকারের মডেল অনুসরণ করবে বলে যে স্বপ্ন মার্কিন সরকার দেখছে সেই দিনটি কখনও আসবে না বলে জারিফ উল্লেখ করেছেন।    

২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন হামলার ফলেই এ অঞ্চলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের উৎপত্তি ঘটেছে এবং হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে সম্প্রতি মার্কিন অধ্যাপক স্টিফেন ওয়াল্টও উল্লেখ করেছে মার্কিন ফরেন পলিসি নামক সাময়িকীতে।

ইরানি জাতি আর কখনও বিজাতীয় শক্তির হাতে অপমান হতে আগ্রহী নয় ও বিজাতীয়দের লেজুড়ও হতে তারা চায় না, বরং তারা সম্মান ও গৌরবের শীর্ষ পর্যায়ে যেতে চায় বলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী প্রায়ই উল্লেখ করে থাকেন। ইরানের বিপ্লবী জাতির হাতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ঐতিহাসিক পরাজয় ঘটবে বলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/১১

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন  

ট্যাগ

মন্তব্য