বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন : নিশ্চয় বড় বিপদের জন্য রয়েছে বড় পুরস্কার। তাই যখন আল্লাহ্ কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন তখন তাকে বিপদগ্রস্ত করেন। এ অবস্থায় যে ব্যক্তি অন্তর থেকে খুশি থাকে তার জন্য আল্লাহর কাছে রয়েছে সন্তুষ্টি আর যে রেগে যায় তার জন্য রয়েছে ক্রোধ। 

তিনি আরো বলেছেন : আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক বা শির্ক করো না, এমনকি যদি আগুনেও পোড় এবং শাস্তির মুখোমুখি হও। ফলে তোমার অন্তর ঈমানে অবিচল হবে। আর তোমার বাবামায়ের আনুগত্য করো এবং তাদের সঙ্গে সদাচার করো, তাদের জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর। আর ফরয নামাযকে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করো না। কারণ, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ফরয নামাযকে ত্যাগ করে সে আল্লাহর আশ্রয় থেকে বিতাড়িত। আর মদ ও অন্য কোনো নেশা-দ্রব্য পান করো না, কারণ, এ দু’টি হলো সকল অনিষ্টের চাবিকাঠি।

বনি তামীমের জনৈক ব্যক্তি যাকে আবু উমাইয়্যা নামে ডাকা হতো, হুজুর (সা.)-এর কাছে এসে বলল : হে মুহাম্মদ! আপনি মানুষকে কিসের দিকে আহ্বান জানান? উত্তরে রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেন : “আমি আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাই অন্তর্দৃষ্টিসহ- আমি ও যারা আমাকে অনুসরণ করেছে তারাও।” (ইউসুফ:১০৮) আমি তাঁর দিকেই আহ্বান জানাই যিনি তোমার থেকে ক্ষতিকে দূর করে দেন যখন তা তোমাকে স্পর্শ করে এবং তুমি তাঁকে ডাক। আর বিপদগ্রস্ত অবস্থায় তুমি যদি তাঁকে ডাক, তা হলে তোমাকে সাহায্য করেন। আর নিঃস্ব অবস্থায় তুমি যদি তাঁর কাছে সাহায্য চাও, তা হলে তোমাকে অভাবমুক্ত করে দেবেন।

এরপর লোকটি বলল : হে মুহাম্মদ! আমাকে উপদেশ দিন। তখন তিনি বললেন : ক্রুদ্ধ হবে না। সে বলল : আরো কিছু বলুন। তিনি বললেন: মানুষের জন্য সেটাই পছন্দ করো, যা তোমার নিজের জন্য পছন্দ করো। সে বলল : আরো কিছু বলুন। তিনি বললেন : মানুষকে গালমন্দ করো না। এতে তারা তোমার শত্রুতে পরিণত হবে। সে বলল : আরো কিছু বলুন। তিনি বললেন : উপযুক্ত পাত্রদের উপকার করতে কার্পণ্য কোরো না।

সেই ব্যক্তি বিশ্বনবী (সা.)-কে আরো বললেন : আরো কিছু বলুন। তিনি বললেন : মানুষকে ভালোবাসবে, তা হলে তারাও তোমাকে ভালোবাসবে। আর তোমার ভাইয়ের সাথে প্রসন্ন মুখে সাক্ষাত করো। আর অসদাচারণ করো না, তা হলে তা তোমাকে ইহকাল ও পরকাল (উভয় জগতের কল্যাণ) থেকে বঞ্চিত করবে। আর পায়ের গোঁছার মাঝখান পর্যন্ত লম্বা জামা পড়বে। আর নিজের জামা ও পায়জামাকে এত দীর্ঘ করো না যে তা মাটিতে ঘেঁষে যায়। কারণ, এ কাজ হলো অহংকারের পরিচায়ক। আর আল্লাহ্ অহংকারীকে পছন্দ করেন না। 

তিনি আরো বলেন : নিশ্চয় আল্লাহ্ ঘৃণা করেন বৃদ্ধ ব্যভিচারীকে, বিত্তবান অত্যাচারীকে, অহংকারী গরীবকে এবং নাছোড়বান্দা ভিক্ষুককে। আর নিষ্ফল করেন প্রচার করে বেড়ানো দানশীলদের পুরস্কারকে আর ঘৃণা করেন এমন ফুর্তিবাজকে যে বেপরোয়া ও মিথ্যাচারী।

তিনি আরো বলেন : যে ব্যক্তি নিজেকে নিঃস্ব হিসাবে প্রকাশ করে সে অভাবগ্রস্ত হয়।

বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন : মানুষের সাথে মানিয়ে চলা ঈমানের অর্ধাংশ। আর তাদের সঙ্গে নরম ব্যবহার হলো সুখী জীবনের অর্ধাংশ।

তিনি বলেন : আল্লাহর প্রতি ঈমানের পর সবচেয়ে বড় বুদ্ধিমত্তার কাজ হলো মানুষের সাথে মানিয়ে চলা যতক্ষণ না কোনো অধিকার ত্যাগ করা হয়। আর পুরুষের জন্য কল্যাণকর হলো তার দাড়ি হালকা রাখা। 

তিনি বলেন : আমার জন্য মূর্তি পূজা নিষিদ্ধ হওয়ার পর সবচেয়ে কড়াকড়িভাবে যেটা নিষেধ করা হয়েছে তা হল মানুষের সঙ্গে বিবাদ করা।

মহানবী আরো বলেন : যে ব্যক্তি মুসলমানকে ফাঁকি দেয় কিংবা তার ক্ষতি করে অথবা তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।

মহানবী (সা.) মসজিদুল খিফ-এ দাঁড়িয়ে বললেন : আল্লাহ্ প্রফুল্ল করেন সেই বান্দাকে যে আমার কথা শুনে তা স্মৃতিতে ধরে রাখে এবং যে শোনে নি তার কাছে পৌঁছে দেয়। কত জ্ঞান প্রচারকারীর চেয়ে ঐ ব্যক্তি বেশি ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন যার কাছে সে জ্ঞানকে পৌঁছায়। কত জ্ঞানের বাহক রয়েছে যে আদৌ জ্ঞানী নয়।

মহানবী (সা.) আরো বলেছেন: তিনটি বিষয়ে কোনো মুসলমানের অন্তরে বিদ্বেষ থাকতে পারে না : আল্লাহর জন্য কাজে একনিষ্ঠতা, মুসলিম নেতৃবৃন্দের জন্য কল্যাণকামিতা এবং তাদের ঐক্যের অপরিহার্যতা। সব মুমিনই ভাই ভাই। তাদের রক্ত (মর্যাদার দিক থেকে) পরস্পর সমান। অন্যদের বিপরীতে তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবে আর তাদের অঙ্গীকার পালনের প্রচেষ্টা চালাবে এমনকি যদি তাদের নিম্নশ্রেণীর কোন লোকও (তাদের ভিন্ন অন্যের সাথে) কোন বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। 

তিনি বলেন : আল্লাহ্ ঐ বান্দাকে অনুগ্রহ করেন যে হয় উত্তম কথা বলে এবং লাভবান হয়, অথবা মন্দ থেকে নীরব থাকে, ফলে নিরাপদ থাকে।

বিশ্বনবী (সা.) বলেন : তিনটি জিনিস যার মাঝে থাকে তার ঈমানের বৈশিষ্ট্য পূর্ণাঙ্গ হয় : যার সন্তুষ্টি তাকে বাতিল বা মিথ্যার দিকে নেয় না, আর যখন রাগ হয় তখন তার রাগ তাকে সত্য ও ন্যায় থেকে বিচ্যুত করে না, আর যখন ক্ষমতা পায় তখন যা তার প্রাপ্য নয় তার দিকে হাত বাড়ায় না।

বিশ্বনবী (সা.) আরো বলেন : নামাযের অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা নামাযের বাইরে কুরআন তিলাওয়াতের চেয়ে উত্তম। (প্রথম দিকের মুসলমানদের মধ্যে এ পন্থা চালু ছিল যে, নফল নামাযের মধ্যে কোরআন পাঠ ও হিফজ করার অনুশীলন করত। নফলের পেছনে হিকমত ছিল এটাই। আর এ কারণে তা ফোরাদা বা একাকী পড়া আবশ্যক যাতে মনোসংযোগ বজায় থাকে।) আল্লাহর যিকর সাদাকার চেয়ে উত্তম। আর সাদাকাহ্ রোযার চেয়ে উত্তম। আর রোযা হলো ভালো কাজ। এরপর বলেন : কাজ ছাড়া কোনো কথা নেই। আর কোনো কথা ও কাজ নেই নিয়ত ছাড়া। আর কোনো কথা, কাজ এবং নিয়তই নেই সঠিক পন্থা তথা ধর্মীয় বিধান-সম্মত হওয়া ছাড়া।

মহানবী (সা.) আরে বলেছেন : ধীরতা আল্লাহর থেকে আর তাড়াহুড়া শয়তানের থেকে। #

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আশরাফুর রহমান/১০

 

২০১৬-১০-১০ ১৯:৪৫ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য