বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন : কোনো ব্যক্তি যদি সকাল ও সন্ধ্যা এভাবে অতিবাহিত করে যে পরকালই তার সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে আল্লাহ্ তার অন্তরকে অমুখাপেক্ষী করে দেন এবং তার কাজকে সহজ করে দেন। আর দুনিয়ায় সব রিজিক লাভ না করা পর্যন্ত তার মৃত্যু হয় না। আর যে ব্যক্তির সকাল ও সন্ধ্যা অতিবাহিত হয় এভাবে যে দুনিয়া অর্জনই হয় তার সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য আল্লাহ্ তখন তার চোখের সামনে অভাব রাখেন, আর তার কাজকে বিশৃঙ্খল করে দেন। আর দুনিয়া থেকে সে কিছুই লাভ করে না শুধু তার জন্য নির্ধারিত অংশটুকু ছাড়া। 

রাসূলে পাক বলেন : আমি কি তোমাদেরকে সংবাদ দেব না যে, তোমাদের মধ্যে কোন্ ব্যক্তির চরিত্রের সঙ্গে আমার চরিত্রের বেশি মিল রয়েছে? সবাই বলল : অবশ্যই, হে রাসূলুল্লাহ্! তখন তিনি বললেন : তোমাদের মধ্যে যে অন্যদের চেয়ে বেশি সচ্চরিত্রবান এবং বেশি শৌর্যবান ও নিজ আত্মীয়দের সঙ্গে বেশি সদাচারী, আর যারা সন্তুষ্ট ও ক্রুদ্ধ উভয় অবস্থায় নিজের পক্ষ থেকে অন্যদের চেয়ে বেশি মাত্রায় ন্যায়বিচার মেনে চলে। 

মহানবী বলেছেন : যে ব্যক্তি খায় এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে নীরব তথা অকৃতজ্ঞ রোজাদারের চেয়ে উত্তম। 

রাসূলে পাক বলেছেন : আল্লাহর জন্য মুমিনের সাথে মুমিনের বন্ধুত্ব হলো ঈমানের একটি বড় শাখা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ভালোবাসে ও আল্লাহর জন্য ঘৃণা করে আর আল্লাহর জন্য দান করে এবং আল্লাহর জন্যই দান থেকে বিরত থাকে সে হলো নির্বাচিত বান্দাদের মধ্যে একজন। 

তিনি আরো বলেছেন : আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর বেশি প্রিয় যে তাঁর বান্দাদের জন্য অন্যদের চেয়ে বেশি উপকারী আর বেশি মাত্রায় ন্যায় প্রতিষ্ঠাকারী এবং সদাচার ও সৎকর্মই যার পছন্দনীয় বিষয়। 

মহানবী আরো বলেছেন : যে ব্যক্তি নমনীয়তা থেকে বঞ্চিত সে সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত।মহানবী বলেছেন : মুমিন হলো সদাচারী এবং হাসিখুশি আর মুনাফিক হলো অভদ্র ও রুক্ষ। 

আল্লাহর সর্বশেষ নবী বলেছেন: উপহার তিন ধরনের : উপহারের বিনিময়ে উপহার, কৃত্রিম উপহার এবং আল্লাহর জন্য উপহার।তিনি আরো বলেছেন : ধন্য সেই ব্যক্তি যে বর্তমান ভোগ-বিলাসকে পরিহার করে এমন প্রতিশ্রুতির আশায় যা দেখে নি। 

এক ব্যক্তি মহানবীকে তাঁর উম্মতের জামায়াতের অর্থ কী তথা ‘সেই দল, আল্লাহর সাহায্য যাদের সাথে রয়েছে, তারা কারা?’- এই প্রশ্ন করলে তার উত্তরে তিনি বলেন: আমার উম্মতের জামায়াত হলো হকপন্থীরা, হোক তারা সংখ্যায় মুষ্টিমেয়।

 বিশ্বনবী (সা.) আরো বলেছেন : তোমাদের কেমন লাগবে যখন তোমাদের নারীরা নষ্টা হবে, যুবকরা অনাচারী হবে, তোমরা সৎ কাজে আদেশ করবে না এবং অসৎ কাজে নিষেধ করবে না? বলা হলো : হে রাসূলুল্লাহ্! এমন কি হবে? বললেন : হ্যাঁ, এর চেয়েও খারাপ হবে। তোমাদের কেমন লাগবে যখন মন্দের দিকে আদেশ করা হবে আর ভালো থেকে ফিরিয়ে আনা হবে? আরজ করা হলো : হে রাসূলুল্লাহ্! এমন কি হবে? বললেন : হ্যাঁ, এর চেয়েও খারাপ হবে। তোমাদের কেমন লাগবে যখন তোমরা ভালোকে মন্দ আর মন্দকে ভালো বলে বিবেচনা করবে? 

তিনি আরো বলেছেন, আমার উম্মত থেকে নয়টি ক্ষেত্রে শাস্তি তুলে নেয়া হয়েছে : ভুল-প্রসূত কর্ম, বিস্মৃতিজনিত কর্ম, এমন বিষয় যা তার ওপর জোর কোরে চাপিয়ে দেয়া হয়, যে বিষয়ে সে জ্ঞান রাখে না, যার সামর্থ্য তার নেই, যে বিষয়ে সে নিরুপায় হয়ে পড়ে, হিংসা যা অপ্রকাশিত রয়েছে ও বাস্তব রূপ লাভ করে নি, অশুভ ভাগ্য পরীক্ষা, আর বিশ্বের স্রস্টা ও সৃষ্টির বিষয়ে প্ররোচনামূলক চিন্তা যতক্ষণ না সেটাকে মুখে ও ভাষায় প্রকাশ করে। 

মহানবী (সা.) আরো বলেছেন: যখন আমার উম্মতের মধ্যে দুই শ্রেণী ভালো হয় তখন আমার উম্মত ভালো থাকে, আর যদি তারা খারাপ হয় তা হলে আমার উম্মতও খারাপ থাকে। আরজ করা হলো : হে রাসূলুল্লাহ্! তারা কারা? বললেন : ফকিহ বা ইসলামী আইনবিদ আর শাসকরা। 

মহানবী বলেছেন : বুদ্ধিমত্তায় পূর্ণতম মানুষ হলো তারা, যারা আল্লাহকে বেশি ভয় করে চলে এবং তাঁর আনুগত্য করে। আর বুদ্ধিমত্তায় ত্রুটিপূর্ণতম মানুষ হলো তারা যারা শাসককে বেশি ভয় করে চলে এবং তার আনুগত্য করে।তিনি আরো বলেছেন, তিন শ্রেণীর ব্যক্তির সাথে ওঠাবসা অন্তরকে মেরে ফেলে : বখাটেদের সাথে চলাফেরা, নারীদের সাথে কথা বলা, আর বিত্তবানদের সাথে ঘোরাফেরা করা।

বিশ্বনবী (সা.) বলেন : যখন আল্লাহ্ কোনো উম্মতের ওপর ক্রুদ্ধ হন এবং তাদের ওপর শাস্তি নাজিল করেন, তখন তাদের দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়, তাদের আয়ু কমে যায়, তাদের ব্যবসায় লাভ হয় না, তাদের ফলমূল ভালো হয় না, তাদের নদী-নালাগুলো পানিতে পূর্ণ থাকে না, তাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয় না, এবং তাদের দুষ্টরা তাদের ওপর কর্তৃত্বশীল হয়।

মহানবী (সা.) আরো বলেছেন : যখন আমার পরে ব্যভিচার বেড়ে যাবে তখন আকস্মিক মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে যাবে। আর যখন ওজনে কম দেয়া হবে তখন আল্লাহ্ তাদের দুর্ভিক্ষ ও অনটনের শিকার করবেন, আর যখন যাকাত দেয়া হবে হবে না, তখন মাটি চাষাবাদ, ফসলাদি এবং খনিজ থেকে কল্যাণ দানে কার্পণ্য করবে, আর যখন বিচারে অন্যায় রায় প্রদান করবে তখন তারা অত্যাচার ও শত্রুতায় পরস্পরের সহযোগী হবে, আর যখন চুক্তিভঙ্গ করবে তখন আল্লাহ্ শত্রুদেরকে তাদের ওপর কর্তৃত্বশীল করবেন। আর যখন আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে তখন মাল-সম্পদ দুষ্টদের হাতে পড়বে। আর যখন সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করার দায়িত্ব পালন করবে না এবং আমার আহলে বাইতের মধ্য থেকে পুণ্যবানদের অনুসরণ করবে না তখন আল্লাহ্ তাদের থেকে দুষ্টদেরকে তাদের ওপর ক্ষমতাসীন করে দেবেন। তখন তাদের মধ্যে সৎ লোকেরা দোয়া করলেও তাতে জবাব বা সাড়া পাবে না।#

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আশরাফুর রহমান/১৫ 

২০১৬-১১-১৫ ১৪:২৭ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য