প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম:

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • সব রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী- প্রথম আলো
  • মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রস্তাব পাস- দৈনিক সমকাল
  • রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করাতে হবে : মির্জা ফখরুল- দৈনিক নয়াদিগন্ত
  • রোহিঙ্গা নির্যাতন বাংলাদেশের ওপর বার্মার ‘ইনডাইরেক্ট অ্যাটাক’: অর্থমন্ত্রী- দৈনিক ইত্তেফাক
  • রোহিঙ্গা শিবিরে সরাসরি ব্যক্তিগত ত্রাণে আপত্তি- দৈনিক মানবজমিন
  • নেপথ্যে রাখাইনে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা: রোহিঙ্গাশূন্য করতেই নির্যাতন- দেনিক যুগান্তর
  • রাখাইনে জাতিগত নিধন চলছে: জাতিসংঘ- দৈনিক যায়যায়দিন
  • সাজানো ছবিতে রোহিঙ্গাদের দায়ী করার ব্যর্থ চেষ্টায় মিয়ানমার!- দৈনিক ইনকিলাব

ভারতের শিরোনাম:

  • বাংলায় সংগঠন বাড়াতে কর্মীদের ঘুরিয়ে পালটা প্রতিরোধের দাওয়াই অমিতের- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • লাইনের ফাটল পরীক্ষা দেখে বিস্মিত রেলমন্ত্রী, নয়া প্রযুক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত- দৈনিক বর্তমান
  • নীতীশের বিধায়ক পদ খারিজের আবেদন- দৈনিক আজকাল
  • বিশ্ববাজারে দাম কমলেও ভারতে তেল মহার্ঘই- দৈনিক আনন্দবাজার

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

সব রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী- প্রথম আলো

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মিয়ানমার থেকে আসা সব রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে হবে৷ ওই দেশে নিরাপদ অঞ্চল গঠন করে তাদের সুরক্ষা দিতে হবে৷ কারণ, রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি করেছে মিয়ানমার৷ তাদেরই এর সমাধান করতে হবে৷ প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে৷

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে রোহিঙ্গা-বিষয়ক সাধারণ আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন৷ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ করতে ও তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের প্রস্তাব পাস করেছে জাতীয় সংসদ৷

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিচ্ছে৷ তবে তাদের সবাইকে ফেরত নিতে হবে। প্রয়োজনে মিয়ানমারের ভেতর নিরাপদ অঞ্চল গঠন করে নিরাপত্তা দিতে হবে। কফি আনান কমিশন যে সুপারিশ করেছিল, তা বাস্তবায়ন করতে হবে৷ কারণ, এটা তাদের সরকারই গঠন করেছে৷ এতে কোনো সমস্যা থাকলে আলোচনা করতে পারে৷

মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রস্তাব পাস- দৈনিক সমকাল

বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া ও তাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রস্তাব জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ প্রস্তাব পাস হয়।

এর আগের মাগরিবের নামাজের বিরতির পরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন সরকারি দলের ডা. দীপু মনি।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করাতে হবে : মির্জা ফখরুল- দৈনিক নয়াদিগন্ত

Image Caption

রোহিঙ্গা সঙ্কটকে একটি জাতীয় সমস্যা আখ্যা দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে। এ নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই না। আমরা চাই সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এ সঙ্কট মোকাবিলা করতে। কারণ এটা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আগ্রাসন।

তিনি আজ সোমবার এক সভায় সরকারের উদ্দেশে বলেন, রোহিঙ্গাদেরকে স্থায়ীভাবে আশ্রয় দিতে বলছি না। তাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দেয়া হোক। পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করতে হবে। এছাড়া বিএনপি ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার ছাড়া আগামী নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বলে বিএনপির অন্যান্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

আজ বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ১০ম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি।

রোহিঙ্গা নির্যাতন বাংলাদেশের ওপর বার্মার ‘ইনডাইরেক্ট অ্যাটাক’: অর্থমন্ত্রী- দৈনিক ইত্তেফাক

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা মুসলামনদের ওপর নির্যাতনকে বাংলাদেশের ওপর বার্মার ‘ইনডাইরেক্ট অ্যাটাক’বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুর মুহিত।  

তিনি বলেন, ‘ইট ইজ অ্যান অ্যাটাক অন বাংলাদেশ। এটা বার্মার ইনডাইরেক্ট অ্যাটাক অন বাংলাদেশ এবং এটাকে প্রতিহত করতে হবে। সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। মিয়ানমার সরকারের এ আচরণের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া যায়, তা পুরো বিশ্বকেই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে।’  

সোমবার সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গভর্নিং বডির সভাশেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।  অর্থমন্ত্রী বলেন রোহিঙ্গাদের নিয়ে যে নীতিমালা আছে সরকার সে অনুযায়ী কাজ করছে। তাদের আশ্রয়ও দিচ্ছি এবং তাদের জন্য মিয়ানমারে একটা জোন করারও দাবি করছি।

রোহিঙ্গা শিবিরে সরাসরি ব্যক্তিগত ত্রাণে আপত্তি- দৈনিক মানবজমিন

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নেয়া এলাকাগুলোতে ত্রাণের জন্য রীতিমতো হাহাকার  চলছে। আরাকান সড়কের পাশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা গাড়ি দেখলেই ছুটে আসছে। খাদ্য, বস্ত্র পাওয়ার জন্য যারপরনাই চেষ্টা করে চলেছেন তারা। কিন্তু সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে যেসব ত্রাণ যাচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই নগণ্য। অনেক চেষ্টা করে একজন পাচ্ছেন, অন্যজন ব্যর্থ মনোরথে খালি হাতে ফিরছেন। তিনি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছেন। গত কয়েক দিন ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালি, থাইংখালি ও পালংখালী এলাকায়।

সরকারের তরফে অবশ্য বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের এমন ত্রাণ তৎপরতায় উপকারের চেয়ে বিশৃঙ্খলাই বেশি হচ্ছে। ত্রাণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বয়ের মধ্যে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বলা হয়েছে, এখন থেকে বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেয়া ত্রাণ সরাসরি বিতরণের সুযোগ না দিয়ে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে জমা নেয়া হবে। সরকারি ত্রাণ তহবিলে জমা পড়া এসব ত্রাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে উখিয়া, টেকনাফসহ রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিতরণ করা হবে।

নেপথ্যে রাখাইনে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা: রোহিঙ্গাশূন্য করতেই নির্যাতন- দেনিক যুগান্তর

মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের নির্যাতনে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ৮০ ভাগই নারী, শিশু ও বৃদ্ধ। বাকি ২০ ভাগ শিশু ও বয়স্ক পুরুষ। ১০-৪৫ বছর বয়সী সুস্থ বালক থেকে পুরুষের সংখ্যা খুবই কম। এ বয়সী ছেলেদের সীমান্ত অতিক্রম করতে দেয়া হয়নি। রাখাইনের বিভিন্ন গ্রামে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সামনে কিশোর-যুবকদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ছেলেশিশুদের ঘরে বন্দি করে আগুন দেয়া হয়েছে। বাড়িঘরের সঙ্গে ছেলেসন্তানও পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। আর কিছু ধরে নিয়ে বন্দি করে রেখেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। মূলত রাখাইনকে রোহিঙ্গাশূন্য করতেই বর্বর নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

দেশ ছেড়ে আসা পরিবারের সদস্যরা জানেন না তাদের কি হয়েছে, বেঁচে আছেন না মরে গেছেন। বেঁচে থাকলে স্বামী-সন্তানরা কবে ফিরবেন সেই প্রত্যাশায় আছেন রোহিঙ্গা নারীরা। এদিকে সংখ্যায় খুবই কম হলেও কিছু পুরুষ আত্মগোপনে চলে গেছেন। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

রাখাইনে জাতিগত নিধন চলছে: জাতিসংঘ- দৈনিক যায়যায়দিন

সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর পদ্ধতিগতভাবে জাতিগত নিধন অভিযান চালানোর জন্য মিয়ানমারের কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান জায়েদ রাদ আল হোসেইন।

সোমবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) প্রধান বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে মানবাধিকারবিষয়ক তদন্তকারীদের রাখাইনে ঢুকতে দিচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি দেখে এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে যে, সেখানে সুস্পষ্টভাবে জাতিগত নিধন অভিযান চলছে।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সীমান্তরক্ষী পুলিশের (বিজিপি) ওপর হামলা চালায় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরা। এ হামলার ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়। এর মধ্যে ১২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর ও বাকিরা আরসার সদস্য। এরপর মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী রাখাইনে বিতাড়ন অভিযান শুরু করে। তারা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও তাদের ঘরবাড়িতে অগি্নসংযোগ করছে।

সাজানো ছবিতে রোহিঙ্গাদের দায়ী করার ব্যর্থ চেষ্টায় মিয়ানমার!- দৈনিক ইনকিলাব

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সৃষ্ট সহিংসতায় রোহিঙ্গারাই নিজেদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে বলে দাবি করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আর তাদের এই দাবিকে সত্য প্রমাণ করতেই আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমের একদল সাংবাদিককে। তাঁদের হাতে সাজানো ছবি তুলে দেওয়া হয়। সেই কারসাজি অবশ্য ধোঁকা দিতে পারেনি বিবিসির সাংবাদিক জনাথন হেডসহ অন্য সাংবাদিকদের।

বিবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিনিধি জনাথন হেড জানতেন, এই ধরনের সরকারি সফরে সরকার যা দেখাতে চায়, তা-ই দেখতে হয়। তবে কখনো কখনো সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বোঝা যায় অনেক কিছু।

জনাথন হেড বলেন, প্রথমে তাঁদের রাখাইনে মংডুর একটি স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে বাস্তুহারা হিন্দু পরিবারগুলো ঠাঁই নিয়েছে। পুরো স্কুলটি ঘিরে রেখেছে সশস্ত্র পুলিশ। এখানে আশ্রয় নেওয়া সবাই একই কথা বলছেন রোহিঙ্গারা তাদের ওপর আক্রমণ করেছে, তারা পালিয়ে এসেছে। এর আগে জনাথন হেড বাংলাদেশ সীমান্তে পালিয়ে আসা রাখাইনের হিন্দু বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তাঁরা সবাই জনাথনকে বলেন, রাখাইনদের আক্রমণে তারা পালিয়ে এসেছেন। কারণ, তাঁরা রোহিঙ্গাদের মতোই। মংডুর স্কুলটি পরিদর্শনের পর জনাথনের মনে প্রশ্ন জাগে, আসল সত্যটা কী? কিছুক্ষণের মধ্যে জেনেও ফেলেন সত্যটা। সরকারি বেষ্টনীর মধ্যেই স্কুলে আশ্রিত একজনের বক্তব্য নেন জনাথন। ওই ব্যক্তি বলেন, সেনারা গ্রামের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। তবে দ্রুত ওই ব্যক্তিকে শুধরে দেন পাশের জন। তাতেই আসল সত্যটা বুঝে নেন বিবিসির এই সাংবাদিক।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর

বাংলায় সংগঠন বাড়াতে কর্মীদের ঘুরিয়ে পালটা প্রতিরোধের দাওয়াই অমিতের- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

বিজেপি কর্মীরা মার খাচ্ছেন। এই কথা তিনি শুনতে বাংলায় আসেননি। পালটা কোনও প্রতিরোধ হয়েছে কি? এভাবেই রাজ্য নেতৃত্বর দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন অমিত শাহ। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি বুঝিয়ে দিয়েছেন রাজ্য পালাবদলের স্বপ্ন দেখতে হলে সংগঠন মজবুত করতে হবে। অমিত শাহ মনে করেন বাংলায় ক্ষমতা এলেই সাফল্যের আকাশ ছুঁতে পারবে গেরুয়া শিবির।

পূবের বিহার, ঝাড়খণ্ড, আসাম দখলে। এবার লক্ষ্য বাংলার মসনদ। তার আগে ২০১৮-তে পঞ্চায়েত ভোট এবং ২০১৯-এ লোকসভা ভোটে হয়ে যাবে ড্রেস রিহার্সাল। তার আগে রাজ্য বিজেপি কতটা তৈরি। তা বুঝতে তিন দিনের বাংলা সফরে অমিত শাহ। চলতি সফরে দলীয় নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয় মধ্য কলকাতার হো-চি-মিন সরণির আইসিসিআরে। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, কেন্দ্রের দুই মন্ত্রী ও বিজেপি নেতাদের সঙ্গে রূদ্ধদ্বার বৈঠকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি তাদের মন খুলে কথা বলতে বলেন। সুযোগ পেয়ে রাজ্য নেতারা বলতে থাকেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়ে রাজ্যে দুর্নীতি হচ্ছে। কেউ বলেন তৃণমূলের হাতে মার খাচ্ছেন বিজেপি কর্মীরা।

লাইনের ফাটল পরীক্ষা দেখে বিস্মিত রেলমন্ত্রী, নয়া প্রযুক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত- দৈনিক বর্তমান

আদ্যিকালের ধ্যানধারণা নিয়ে যেভাবে লাইনে ফাটল রয়েছে কি না পরীক্ষা করা হয়, তা দেখে অবাক নতুন রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। রেলমন্ত্রকের দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েকদিন আগে প্রথমবার শহরে এসে একটি অনুষ্ঠানে সেকথা খোলাখুলি জানিয়েছেন তিনি। যাত্রী সুরক্ষায় আগামী দিনে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী।

রেল সূত্রের খবর, মন্ত্রকের দায়িত্ব নিয়েই তিনি রেল বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করে একগুচ্ছ নির্দেশ ইতিমধ্যেই দিয়েছেন। শহরে এসে পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব এবং মেট্রো রেলের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেও বুঝিয়ে দিয়েছেন যাত্রী সুরক্ষায় কোনও আপস করা হবে না। শহরের অনুষ্ঠানে ঠিক কী বলেছিলেন রেলমন্ত্রী? রেল সূত্রের খবর, মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এখনও পর্যন্ত লাইন ধরে হেঁটে লাইনে শব্দ করে বোঝা হয় কোনও ফাটল রয়েছে কি না। এ কথা বলার পরই মন্ত্রী এই কাজে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তাতে রেলের ব্যয়ও সাশ্রয় হবে বলে মত মন্ত্রীর। যাত্রী পরিষেবায় বর্তমানে রেলকে যে ভরতুকি দিতে হয়, সেই প্রসঙ্গ তুলে খোদ রেলমন্ত্রী বলেছেন, নিজেদের দক্ষতার অভাবকে যাত্রীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া যায় না। অর্থাৎ, রেলের দক্ষতা আরও বাড়ানো গেলে ভরতুকি কমানো যায় বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী।

নীতীশের বিধায়ক পদ খারিজের আবেদন- দৈনিক আজকাল

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের বিধায়ক পদ ‌খারিজ করার দাবি–সংক্রান্ত এক জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতে সোমবার বিহারের রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী চার ‌সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে হবে কমিশনকে। নির্বাচনী হলফনামায় নিজের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলাগুলির উল্লেখ করেননি নীতীশ, এই অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম এল শর্মা।

শর্মার অভিযোগ, ১৯৯১ সালের একটি খুনের মামলায় নীতীশের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছিল। নিম্ন আদালত তাঁর বিরুদ্ধে বিচার–প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশও দিয়েছিল। তার পর বিষয়টি হাইকোর্টে ঝুলে রয়েছে। এত সব সত্ত্বেও ২০০৪ ও ২০১২ সালের নির্বাচনে ভোটে লড়ার সময় কমিশনে নীতীশ যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, তাতে সেই বিষয়টি গোপন করেছেন তিনি। যেহেতু সজ্ঞানে তথ্য গোপন করা হয়েছে, তাই সাংবিধানিক পদে থাকার কোনও অধিকার নেই নীতীশের।

বিশ্ববাজারে দাম কমলেও ভারতে তেল মহার্ঘই- দৈনিক আনন্দবাজার

গত ১৬ জুন থেকে রোজই দাম বদলাচ্ছে পেট্রোল ও ডিজেলের। কখনও অল্প কমছে। বেশিরভাগ দিনই কয়েক পয়সা করে বাড়ছে। হিসেব বলছে, ১৬ জুন থেকে ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পেট্রোলের দাম ৭ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। আর ডিজেলের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ৮ শতাংশের বেশি। সোমবার কলকাতায় পেট্রোলের দাম ছিল লিটার প্রতি ৭৩.০৫ টাকা। ১৬ জুন যা ছিল ৬৮.০৬ টাকা। অর্থাৎ লিটারে প্রায় ৫ টাকা দাম বেড়েছে। ডিজেলেও একই সময়ে ৪.৫৮ টাকা দাম বেড়েছে।

রাজনৈতিক লড়াইয়ের সুরও চড়েছে। তেলমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে স্বাধীন প্রতিমন্ত্রী থেকে ক্যাবিনেট মন্ত্রী হয়েছেন। তাঁর যুক্তি, পেট্রোল বা ডিজেল, কোনওটারই দাম এখন আর সরকার নিয়ন্ত্রণ করে না। তেল সংস্থাগুলিই আন্তর্জাতিক বাজারদরের নিরিখে দাম ঠিক করে। কংগ্রেস নেতা মণীশ তিওয়ারির কটাক্ষ, ‘‘পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ানোর জন্যই ধর্মেন্দ্রর পদোন্নতি হল।’’

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১২

 

২০১৭-০৯-১২ ১৪:৩০ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য