প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৩ সেপ্টেম্বর বুধবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম:

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক যুগান্তর
  • অনেক দিন পর প্রধানমন্ত্রীর শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে: মির্জা ফখরুল- দৈনিক ইনকিলাব
  • নাফের হাঁটুজলে লাশ আর লাশ- দৈনিক সমকাল
  • পুরুষ সদস্যদের কোথায় রেখে এসেছেন রোহিঙ্গা নারীরা?- দৈনিক নয়াদিগন্ত
  • সুচির সভাপতিত্বে জাতি নির্মূল উৎসব- দৈনিক মানবজমিন
  • ২ লাখ রোহিঙ্গা শিশু স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে- দৈনিক প্রথম আলো
  • রোহিঙ্গা নিধনে রাজি না হওয়ায় হিন্দুদের হত্যা করছে মিয়ানমার সৈন্যরা- দৈনিক ইত্তেফাক
  • পদ্মা সেতুর মোট ব্যয় ৩০ হাজার কোটি ছাড়াচ্ছে- দৈনিক যায়যায়দিন

ভারতের শিরোনাম:

  • পাহাড় নিয়ে বৈঠক ইতিবাচক, বনধ উঠুক, শান্তি ফিরুক, আহ্বান মমতার- দৈনিক বর্তমান
  • পাহাড় সমস্যা মেটাতে হবে মমতাকেই- দৈনিক আনন্দবাজার
  • পাক অধিকৃত কাশ্মীরের শরণার্থীদের জন্য ২ হাজার কোটির প্যাকেজ মোদির- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • স্কুলে ওরা নিরাপদ তো?‌ সুপ্রিম কোর্টে শুনানি ১৫ই সেপ্টেম্বর- দৈনিক আজকাল

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী- দৈনিক যুগান্তর

আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা দেয়ার মানসিকতা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতার শিকার হয়ে পালিয়ে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সাত-আট লাখ যতই হোক আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার মানসিকতা আমাদের আছে। থাকা-খাওয়াসহ সব ধরনের সহযোগিতার ব্যবস্থা করবে সরকার। তবে অন্য দেশের কোনো নাগরিককে দীর্ঘদিন আশ্রয় দিতে পারব না। চূড়ান্তভাবে মিয়ানমারকে তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। এজন্য জাতিসংঘ ও বিশ্ব নেতাদের সহযোগিতা চাই।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঘোষণা দিয়েছিলেন রেহিঙ্গারা তাদেরই নাগরিক। এখন তারা তাদের নাগরিক হিসেবে অস্বীকার করছেন। বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তাদের দেশ ছাড়া করেছে। মানবিক কারণে প্রতিবেশী হিসেবে আমরা নির্যাতিতদের আশ্রয় দিয়েছি। কারণ ঘর পোড়ানোর যন্ত্রণা আমি অনুধাবন করতে পারি। ১৯৭১ সালে আমাদের ওপরও এরকম বর্বরতা চলেছে।

অনেক দিন পর প্রধানমন্ত্রীর শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে: মির্জা ফখরুল- দৈনিক ইনকিলাব

অনেক দিন পরে হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় জাতীয় সংসদে নিন্দা না জানানোয় সরকারের সমালোচনা করে দলটি। গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১০ কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনার আয়োজন করে যুবদল।

সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী আজকে (গতকাল মঙ্গলবার) কক্সবাজারে গেছেন, উখিয়ায় সফর করেছেন এবং তিনি একটি বিরাট বহর নিয়ে গেছেন। আমরা এখন পর্যন্ত যা খবর পেয়েছি তিনি সেখানে কিছু ত্রাণ বিতরণ করেছেন। আমরা শুনে অন্তত: এইটুকু খুশি হলাম যে এতোদিনে বোধদয় হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী আসলেন, তুরস্কের ফাস্ট লেডি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী আসলেন এবং আজকে (গতকাল) প্রথম জাতিসংঘ থেকে একটা বড় মানবাধিকার টিম আসছেন তারা সেখানে যাবেন। অর্থাৎ সারা বিশ্ব যখন সোচ্চার হচ্ছে, জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল যখন চিঠি দিয়েছেন নিরাপত্তা পরিষদকে যে অবিলম্বে এই গণহত্যা বন্ধ করতে হবে এবং মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তখন আপনি (প্রধানমন্ত্রী) আজকে গেলেন উখিয়াতে।

নাফের হাঁটুজলে লাশ আর লাশ- দৈনিক সমকাল

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর কতটা সহিংসতা চলছে, তার প্রমাণ বেরিয়ে আসছে ধীরে ধীরে। বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা রাখাইন প্রদেশের এক পাহাড়ি নদীর হাঁটুজলে ভাসছে লাশের পর লাশ_ এমন খবর দিয়েছে রোহিঙ্গা ভিশন টিভি নামের একটি আরাকান চ্যানেল। ছোট্ট নদীটি নাফ নদের কোনো শাখা হবে বলেই ধারণা প্রত্যক্ষদর্শী দলের। চলতি মাসের ৯ তারিখে ওই টিভি চ্যানেলটি ছোট্ট ওই নদীতে ভাসমান পচাগলা লাশের ছবিও প্রকাশ করে। গা শিউরে ওঠার মতো ওইসব ছবিতে মিলছে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের উগ্র বৌদ্ধদের মানবতাবিরোধী বর্বর কার্যকলাপ।

আরাকান টিভি তথা রোহিঙ্গা ভিশন টিভি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকা মংডুর শাহাব বাজারে ভাসমান লাশে ভর্তি একটি নদীর সন্ধান পেয়েছে রোহিঙ্গারা। ঘটনাচক্রেই মিলেছে এর সন্ধান। রোহিঙ্গাদের একটি দল বাংলাদেশে পালিয়ে আসার আগে গোপনে নিজেদের গ্রাম থেকে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে আসতে গিয়ে পাহাড়ি পথে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। দূর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে সামনে যেতে যেতে একটি নদীর পাড়ে গিয়ে থামে তারা। বাতাসে দূর্গন্ধ ভেসে আসায় নদীর পাড় ধরে এগিয়ে যায় রোহিঙ্গারা। এ সময় ছোট্ট পাহাড়ি নদীর হাঁটুজলে লাশের পর লাশ ভাসতে দেখে ভড়কে যায় দলটি।

প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গাদের ওই দলটি জানিয়েছে, নারী, শিশু ও পুরুষের অগণিত লাশ পড়ে আছে ওই নদীতে। লাশের গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে। শেয়াল-কুকুরের খাওয়া লাশের হাড়গোড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিলের ধারে ও নদীর পাড়ে। সব লাশই রোহিঙ্গার বলে জানান তারা। তাদের ধারণা ৫০০-এর চেয়ে কম হবে না লাশের সংখ্যা।

পুরুষ সদস্যদের কোথায় রেখে এসেছেন রোহিঙ্গা নারীরা?- দৈনিক নয়াদিগন্ত

সপ্তাহ খানেক আগে টেকনাফের কুতুপালং ক্যাম্পে এসেছেন আলমাস খাতুন। এখনো থাকার বন্দোবস্ত হয়নি। ক্যাম্পে এক পরিচিতজনের সাথে আছেন। জানতে চেয়েছিলাম তার সাথে পরিবারের আর কে কে এসেছেন বাংলাদেশে। আলমাস খাতুন বলেন, তার স্বামী এবং একমাত্র ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এরপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের ধরে নিয়ে গেছে। তিনি জানেন না আদেৌ তারা বেঁচে আছেন কিনা।

আলমাস খাতুনের মত অনেক নারী ও শিশু বাংলাদেশের কক্সবাজার এলাকার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবারের পুরুষ সদস্যরা তাদের সাথে আসেনি। তাহলে তাদের পরিণতি কী হয়েছে? রাখাইন রাজ্য থেকে আসা আরেকজন নারী শরণার্থীর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। আমার সাথে কথা বলার সময় তিনি কান্নায় ভেংগে পড়ছিলেন। এই নারী বলছিলেন তার স্বামী এবং তার তিন ছেলেকে তার সামনেই হত্যা করা হয়েছে। দুই ছেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় পিছন থেকে গুলি করা হয়। সেখানেই মৃত্যুর কোলে লুটিয়ে পড়ে।

তিনি আরো বলছিলেন পৃথিবীতে এখন আমার কেউ নেই। সব শেষ হয়ে গেছে। গত ২৫শে অগাষ্ট হতে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শরণার্থী বাংলাদেশে এসেছে বলে ধারণা করছে ত্রাণ সংস্থাগুলো। কিন্তু স্থানীয় মানুষ এবং জনপ্রতিনিধিরা বলছে শরণার্থীর সংখ্যা আসলে সাড়ে ৫ লাখের বেশি। এই বিপুল সংখ্যাক শরণার্থীর বড় অংশই নারী এবং শিশু।

সুচির সভাপতিত্বে জাতি নির্মূল উৎসব- দৈনিক মানবজমিন

গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে। নারীদের গণহারে ধর্ষণ করা হচ্ছে। নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হচ্ছে শিশুদের। আর এই জাতি নির্মূল উৎসবে ‘সভাপতিত্ব’ করছেন অং সান সুচি। গত তিন সপ্তাহ ধরে সিস্টেমেটিক্যালি বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমার বেসামরিক সাধারণ মানুষকে গলা কেটে হত্যা করছে। এসব মানুষ রোহিঙ্গা মুসলিম। এমন পরিস্থিতিতে তারা পালিয়ে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাবে তাদের সংখ্যা কমপক্ষে তিন লাখ ১৩ হাজার। সীমান্ত অতিক্রমের সময়ও তাদের গুলি করছে মিয়ানমারের সেনারা। বাচ্চা ছেলেকে কোলে নিয়ে আসছিলেন নূর সায়মন নামে এক নারী। তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর একজন সাংবাদিককে বলেছেন, বৌদ্ধরা আমাদের গুলি করে হত্যা করছে। জ্বালিয়ে দিয়েছে বাড়িঘর। আমাকেও গুলি করে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। আমার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করেছে সেনাবাহিনী।

অং সান সুচি একজন বিধবা। তিনি মিয়ানমারের সামরিক জান্তাদের রক্তচক্ষুকে পাত্তা দেন নি। এজন্য তাকে মোট ১৫ বছর জেলে থাকতে হয়েছে। তিনি গণতন্ত্রের পক্ষে প্রচারণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। আধুনিক সময়ের ইতিহাসে তিনি একজন ‘হিরো’ ছিলেন। এখন তিনি মিয়ানমারের কার্যত নেত্রী। তার দেশে ধূসর চামড়ার রোহিঙ্গাদের ওপর নিষ্পেষণ চালানো হচ্ছে। তাদের টেররিস্ট আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, তারা অবৈধ অভিবাসী। এটা স্পষ্টত জাতি নির্মূল। এজন্য মিয়ানমারের হয়ে অং সান সুচিকেই প্রধানত কৈফিয়ত দিতে হবে। জাতি নির্মূল বললে কমই বলা হয়। সর্বশেষ সহিংসতা শুরুর আগে ইয়েলের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে নৃশংসতা চালানো হয় তাকে গণহত্যা হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

২ লাখ রোহিঙ্গা শিশু স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে- দৈনিক প্রথম আলো

মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে ২ লাখের বেশিই শিশু, যা এবার আসা মোট শরণার্থীর ৬০ শতাংশ। শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এসব শিশু স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে। জরুরি ভিত্তিতে এসব শিশুর সাহায্যের দরকার। বাংলাদেশে ২ লাখ রোহিঙ্গা শিশুর ঝুঁকিতে থাকার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। ইউনিসেফের শিশু সুরক্ষা প্রধান জ্যঁ লিবে গতকাল মঙ্গলবার কক্সবাজার থেকে এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন।

এবার মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ঢল অভূতপূর্ব উল্লেখ করে জ্যঁ লিবে বলেন, ‘শুধু ৪ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর এই ৬ দিনেই বাংলাদেশে এসেছে ২ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা। লোকজনের আসার এই ঢল খুব শিগগির কমবে এমন কোনো ইঙ্গিত আমরা দেখছি না। এটি একটি ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট, যার মূলে আছে শিশু। প্রাথমিক উপাত্ত অনুযায়ী শরণার্থীদের ৬০ শতাংশ শিশু।’

জ্যঁ লিবে জানান, বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এবার তাঁরা বিপুল সংখ্যায় শিশুদের দেখতে পেয়েছেন। এদের অনেকেই কয়েক দিন ঘুমাতে পারেনি, এরা দুর্বল ও ক্ষুধার্ত। এ ধরনের দীর্ঘ আর চ্যালেঞ্জিং যাত্রা শেষে এসব শিশু দুর্বল হয়ে পড়েছে, তাই তাদের স্বাস্থ্যসেবা জরুরি। শিশুরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ায় তাদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবাটাও জরুরি। এখানে অনেক প্রসূতি মাকেও তাঁরা দেখেছেন এবং অনেক শিশু এখানে জন্ম নিয়েছে বলে শুনেছেন। জরুরি ভিত্তিতে ২ লাখ শিশুর সহায়তা প্রয়োজন। মানবিক সংকটের পুরোভাগে আছে শিশুরা। এরা অবিশ্বাস্য ঝুঁকিতে আছে।

রোহিঙ্গা নিধনে রাজি না হওয়ায় হিন্দুদের হত্যা করছে মিয়ানমার সৈন্যরা- দৈনিক ইত্তেফাক

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে এ পর্যন্ত আট শতাধিক হিন্দু আরকান ছেড়ে বাংলাদেশের উখিয়ায় অবস্থান নিয়েছেন। রোহিঙ্গা মুসলিমদের মতো তারাও নৃশংসতার স্বীকার হয়ে বাংলাদেশে আসছেন বলে জানালেও কিছু সূত্রে ভিন্ন তথ্য মিলেছে। সূত্র মতে, সৈন্যরা হিন্দু যুবকদের রাখাইন যুবকদের সাথে তাল মিলিয়ে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন ও জবাইয়ে অংশ নিতে বাধ্য করছে। আর কেউ তাতে রাজি না হলেই তাকে হত্যা করছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, রাখাইন রাজ্যেও মংডু জেলার গ্রাম ফকিরা বাজার, রিকটা, চিয়ংছড়িসহ কয়েকটি এলাকায় অন্তত ৮৬ জন হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই যুবক। আরো অনেকে ইতিমধ্যে হত্যার স্বীকার হতে পারে। আর এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে আটশতাধিক হিন্দু। যাদের একটি অংশ কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের লোকনাথ মন্দির ও সংলগ্ন একটি ফার্মের খালি ঘরে আশ্রয় নিয়েছে। আরো শতাধিক হিন্দু পরিবার সীমান্তের ওপারে কাছাকাছি এলাকায় আটকে আছে।

হিন্দুদের কেন নির্যাতন : এখনো পর্যন্ত পাওয়া খবর মতে, রাখাইনের এবারের নৃশংসতার পুরোটাই মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির উপর। তাহলে কেন হিন্দুদের হত্যা করা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনুপ্রবেশকারী কয়েকজন রোহিঙ্গা ও হিন্দুর সাথে কথা বলে জানা গেছে, সেখানকার ‘টাটমাডো’  (সৈন্য) নিজেরা রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের পাশাপাশি রাখাইন যুবকদেরও অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন করাচ্ছে। আর এই হিন্দু যুবকদেরও একাজে যুক্ত করতে চাইছে। সৈন্যরা তাদের অস্ত্রও সরবরাহ করছে, জবাই করতে বলছে, রোহিঙ্গাদের ঘরে আগুন দিতে বলছে। গুটিকয়েক হিন্দু প্রাণভয়ে এতে রাজি হলেও বেশিরভাগই তা করতে অসম্মতি জানাচ্ছেন। আর যারা মানেন নি তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, নারী ও স্ত্রীদের নির্যাতন করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার শর্তে অনেককে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।

পদ্মা সেতুর মোট ব্যয় ৩০ হাজার কোটি ছাড়াচ্ছে- দৈনিক যায়যায়দিন

পদ্মা সেতুর কাজ এগিয়ে চলছে পুরো দমে। সেই সঙ্গে কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছে এর ব্যয়। তৃতীয় দফায় আরও ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বাড়ানো হচ্ছে স্বপ্নের এ সেতুর নির্মাণ ব্যয়। এ দফায় ব্যয় বাড়ার ফলে পদ্মা সেতুর ব্যয় দাঁড়াবে সব মিলিয়ে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

সর্বশেষ পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের মূল ডিপিপির (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনার) থেকে ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ অতিরিক্ত এ ব্যয় বাড়ছে। মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ সূত্র এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০০৭ সালে একনেক ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পটি অনুমোদন করেছিল। পরে নকশা পরিবর্তন হয়ে দৈর্ঘ বেড়ে যাওয়ায় নির্মাণ ব্যয়ও বেড়ে যায়। ২০১১ সালে ২০ হাজার ৫০৭ কোটি ২০ লাখ টাকার সংশোধিক প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায়। 

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর

পাহাড় নিয়ে বৈঠক ইতিবাচক, বনধ উঠুক, শান্তি ফিরুক, আহ্বান মমতার- দৈনিক বর্তমান

পাহাড়ের শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে উত্তরকন্যার ‘ফলোআপ মিটিং’ ইতিবাচক পরিবেশেই শেষ হল। মঙ্গলবারের এই বৈঠকে একদিকে যেমন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাসহ পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের চা-বাগানের শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষ সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি দাবিসনদ মেনে নিয়ে সরকারের মনোভাব বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তেমনই আবার ‘অখণ্ড বাংলা’র বার্তা দিয়েও সবাইকে সমঝে দিয়েছেন তাঁর কড়া অবস্থান।

পাহাড়বাসীকে টানা দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা করতে মমতা যেমন বন্ধ প্রত্যাহার করার আবেদন করেছেন, তেমনই আবার বাসিন্দাদের আবেগকে সম্মান দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের কথাও বলেছেন। তাঁর কথায়—পাহাড় আমরা ছাড়ছি না, পাহাড়ও আমাদের ছাড়বে না! আজকের বৈঠক ইতিবাচক হয়েছে। পাহাড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দ্রুত ফিরুক। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, সমস্যা সমাধানে আগামী ১৬ অক্টোবর ফের বৈঠক হবে নবান্নে।

পাহাড় সমস্যা মেটাতে হবে মমতাকেই- দৈনিক আনন্দবাজার

দার্জিলিং সমস্যা নিয়ে কেন্দ্র নাক গলাবে না। সমস্যার সমাধান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই করতে হবে। মঙ্গলবার কলকাতায় এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ । এ দিন সন্ধ্যায় কলকাতা বন্দরের অতিথিশালায় আনন্দবাজার পত্রিকাকে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে অমিত পাহাড় প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘এটা তো আইনশৃঙ্খলার সমস্যা। যা রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত। ওঁকেই (মুখ্যমন্ত্রী) এটা সামলাতে হবে।’’

কিন্তু তৃণমূলের তো অভিযোগ, গোর্খা আন্দোলনের পিছনে বিজেপির উসকানি রয়েছে। যা শুনে অমিতের প্রতিক্রিয়া, ‘‘আমরা কী করেছি? যা খুশি বললেই হল! আর ওঁর কথায় কী যায় আসে।’’অমিত শাহ কলকাতায় যে দিন এ কথা বলছেন, সে দিনই পাহাড়ের দলগুলির সঙ্গে শিলিগুড়িতে ‘উত্তরকন্যা’য় বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে  ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের দাবি তুলেছে কোনও কোনও দল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে অমিতকে প্রশ্ন করা হয়, ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমেই কি সমাধান সূত্র মিলতে পারে?

পাক অধিকৃত কাশ্মীরের শরণার্থীদের জন্য ২ হাজার কোটির প্যাকেজ মোদির- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

কাশ্মীর সমস্যা মেটাতে সবরকম রাস্তা খোলা রাখতে চাইছে কেন্দ্র। চারদিনের কাশ্মীর সফরে গিয়ে এই বার্তা বার বার দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেই বার্তার রেশ ধরেই এবার কাশ্মীরের যুবকদের সামনে কর্মসংস্থানের ইঙ্গিত দিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল উন্নয়নের প্রসঙ্গ। উঠে এল পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের পুর্নবাসনের জন্য প্যাকেজের কথাও।

সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বার বার রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামিল হয়েছে জম্মু কাশ্মীরের যুবকরা। ফলে দূরত্ব বেড়েছে ক্রমশ। সেই দূরত্ব অতিক্রম করতেই উপত্যকার যুবকদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করছে কেন্দ্র। রাজনাথ তাঁর বক্তব্যে জানান, উপত্যকার অভিবাসী যুবকদের জন্য প্রায় ৩০০০ চাকরির ব্যবস্থা করছে কেন্দ্র।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অভিবাসীদের পুর্নবাসনের জন্য প্রায় ২০০০ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর আশা, পুর্নবাসনের জন্য এই প্যাকেজ কাশ্মীরের উদ্বাস্তু মানুষদের উন্নয়নে কাজে লাগবে। নতুন জীবন খুঁজে পাবেন তাঁরা। উল্লেখ্য গিলগিট, বালুচিস্তান সহ পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষ এই প্যাকেজের আওতায় আসবে। পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে পালিয়ে ভারতে এসে বসবাস শুরু করেছে, এমন কয়েক হাজার শরণার্থী পরিবারকে চিহ্নিত করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।

স্কুলে ওরা নিরাপদ তো?‌ সুপ্রিম কোর্টে শুনানি ১৫ই সেপ্টেম্বর- দৈনিক আজকাল

প্রদ্যুম্ন ঠাকুর হত্যাকাণ্ডে স্তম্ভিত গোটা দেশ। স্কুলে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্কুলে শিশুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশিকা আছে। শিগগির তা কার্যকর করার আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন দুই মহিলা আইনজীবী আভা শর্মা এবং সঙ্গীতা ভারতী। অতিরিক্ত কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা সংযোজনের আবেদনও করেছেন। তাঁদের দাবি, স্কুলে যাওয়ার জন্য শিশুরা স্কুল বাস বা অন্য গাড়িতে বসলেই তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব স্কুলের। ১৫ সেপ্টেম্বর আবেদনের শুনানি। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি অমিতাভ রায়, এ এম খানউইলকর–এর বেঞ্চে মামলার শুনানি হবে। একই আবেদন জানিয়েছেন রায়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নিহত ছাত্রের বাবা বরুণ ঠাকুর। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র, সিবিআই, সিবিএসই এবং হরিয়ানা সরকারকে নোটিস পাঠিয়েছে। দুটি আবেদনের শুনানি একসঙ্গে হবে।

এদিকে, তদন্ত শুরুর পর স্কুলবাসের চালকের বয়ান বদলে ধোঁয়াশা বাড়ছে। তাঁর প্রথম বয়ান ছিল, ‘‌প্রদ্যুম্নকে যে ছুরি দিয়ে খুন করা হয়েছে সেটি বাসের যন্ত্রপাতির মধ্যে ছিল না। যন্ত্রপাতির ব্যাগ নাড়াচাড়া করলেও তার মধ্যে ছুরি দেখেননি। বাসের কন্ডাক্টরও চুপচাপ শান্ত প্রকৃতির।’‌ পরে বয়ান বদল করেন। বলেন, ‘‌ছুরি অশোক এনেছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ আর পুলিস তাঁকে এ কথা বলতে বাধ্য করেছে।’‌ পুলিস আসার আগেই ঘটনাস্থলে রক্ত ধুয়ে ফেলা হয়েছিল কেন?‌ প্রমাণ লোপাটের দায়ে স্কুলও অভিযুক্ত। শিশুর জলের বোতল ও ব্যাগে লেগে থাকা রক্তের দাগও মুছে দেওয়া হয়েছে। যা থেকে প্রমাণ হয়, একাধিক ব্যক্তি এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে লিপ্ত। এ ছাড়া, আরও কিছু প্রমাণ লোপাট করা হয়েছে।

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! আবারও আমরা কথাবার্তার আসর নিয়ে হাজির হবো আগামীকাল। ততক্ষণ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৩

 

২০১৭-০৯-১৩ ১১:১৫ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য