• আশুরার পূর্বরাতে এক শোকসভায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
    আশুরার পূর্বরাতে এক শোকসভায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

৯ মহররম মহান তাসুয়া বা আশুরার পূর্ব দিন। ১৩৭৮ বছর আগে এই দিনে অর্থাৎ ৬১ হিজরির নয়ই মহররম কুফায় ইয়াজিদের নিযুক্ত কুখ্যাত গভর্নর ইবনে জিয়াদ  ইমাম হুসাইন (আ.)’র ছোট্ট শিবিরের ওপর অবরোধ জোরদারের ও হামলার নির্দেশ দেয়। 

এর আগেই আরোপ করা হয়েছিল অমানবিক পানি-অবরোধ। পশু-পাখী ও অন্য সবার জন্য ফোরাতের পানি ব্যবহার বৈধ হলেও এ অবরোধের কারণে কেবল নবী-পরিবারের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় এই নদীর পানি। ইয়াজিদ বাহিনীর সেনা সংখ্যাও ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং দশই মহররমের দিনে তা প্রায় বিশ বা ত্রিশ হাজারে উন্নীত হয়।

ইমাম হুসাইন (আ.) নয়ই মহররমের বিকালের দিকে এক দিনের জন্য যুদ্ধ পিছিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেন যাতে দশই মহররমের রাতটি শেষবারের মত ইবাদত বন্দেগিতে কাটানো যায়। ইয়াজিদ বাহিনীর প্রধান প্রথমে রাজি না হলেও পরে এ প্রস্তাবে রাজি হয়। বিকালেই হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) নিজ সঙ্গীদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দেন। সঙ্গীরা আবারও তাঁর প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করেন।

নয়ই মহররম কালজয়ী কারবালা বিপ্লবের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও পরিণতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার দিন। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রস্তুতি অর্জনের সর্বশেষ দিন। এই পরীক্ষায় সফল হয়েছিলেন  ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর প্রায় ১০০ জন সহযোগী। আর এ জন্যই তাঁরা  ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করেছেন। ইমাম হুসাইন (আ)'র আন্দোলনের একটি বড় বৈশিষ্ট্য ও অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা দেয়া বা নিষেধ করা।   

ইমাম হুসাইনের (আ.) আন্দোলনে‘ আমর বিল মারুফ ওয়া নাহী আনীল মুনকারের’ উপস্থিতি এই আন্দোলনকে যেমন একটা মহান আদর্শে পরিণত করেছে ঠিক তেমনিভাবে এ আন্দোলন,‘ আমর বিল মারুফ ওয়া নাহী আনীল মুনকার’কে বেশি গুরুত্ববহ করে তুলেছে। ইসলামের এই রোকন ইমাম হুসাইনের (আ.) আন্দোলনকে শুধু ইসলামী বিপ্লবের শীর্ষেই আসন দান করেনি বরং যুগ যুগ ধরে বিপ্লবী মুসলমানদের জন্যে অনুকরণীয় আদর্শে রুপান্তরিত করেছে। তেমনিভাবে হুসাইনী আন্দোলনও সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধকে ইসলামের মূল ভিত্তিগুলোর প্রথম সারিতে স্থান করে দিয়েছে।

ইরানের আরদেবিল প্রদেশে তাসূয়ার শোক সমাবেশ

ইসলামে নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি রোকনগুলোর মত‘ আমর বিল মারুফ ওয়া নাহী আনীল মুনকারও একটা গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কিন্তু নামায রোযা আর হজ্ব এগুলো নিয়ে মুসলমানরা মশগুল হয়ে পড়েছিল। ক্রমে ক্রমে ইসলামের অন্য ভিত্তিগুলো একবারে ভুলেই যাচ্ছিল মুসলমানরা। অথচ নামায কিংবা রোযার মত‘ আমর বিল মারুফ ওয়া নাহী আনীল মুনকার’ -এর গুরুত্বও কোনো অংশে কম নয়।

ইমাম হোসাইন (আ.) প্রমাণ করেছেন যে, জায়গা বিশেষে আমর বিল মারুফ ওয়া নাহী আনীল মুনকারের জন্যে জানমাল উৎসর্গ করতে হয়। সেদিন অনেকেই ইমামের এই আন্দোলনকে সঠিক ও উপযুক্ত পদক্ষেপ বলে মেনে নিতে পারেনি। অবশ্য তাদের চিন্তার মান অনুযায়ী তাদের এই আপত্তি করাটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ইমাম হোসাইনের (আ.) চিন্তার মান এসবের অনেক উর্দ্ধে ছিল। অন্যেরা বলছিল যে, ইমাম যদি ইয়াজিদের বিরোধিতায় নামেন পরিণতিতে ইমাম জানমাল হারাবেন।   

ইমাম হুসাইন (আ) যখন মদীনা থেকে রওয়ানা হন তখন ইবনে আব্বাস বলেছিলেনঃ‘ আমার দৃঢ় বিশ্বাস, কুফাবাসীরা আপনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে, অনেকেই সেদিন এ ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল। কিন্তু ইমাম জবাবে বলেছিলেন : ‘তোমরা যা বলছো তা আমার অজ্ঞাত নয়, আমিও তা জানি।’

মূলতঃ ইমাম হোসাইন (আ.) বিশ্বকে বোঝালেন যে, ‘আমর বিল মারুফ এবং নাহী আনীল মুনকারের’ জন্যে জীবনও দেয়া যায়, ধন-সম্পদ সবকিছু উৎসর্গ করা যায়। ইসলামের এই ভিত্তিটির জন্যে পৃথিবীতে দ্বিতীয় কোনো ব্যাক্তি কি ইমাম হোসাইনের (আ.) ন্যায় আত্মত্যাগ করতে পেরেছে? ইমাম হোসাইনের (আ.) আন্দোলনের অর্থ হয় যে,‘আমর বিল মারুফ এবং নাহী আনীল মুনকারের’ মূল্য এত বেশী যে তার জন্যে এ ধরনের আত্মত্যাগও করা যায়।

যেদিন ইমাম মক্কা ছেড়ে আসেন সেদিন মুহাম্মদ ইবনে হানাফিয়ার কাছে লেখা অসিয়তনামায় তিনি এ বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি লেখেন :

‘‘আমি কোনো ধন-সম্পদ বা ক্ষমতার লোভে কিংবা কোনো গোলযোগ সৃষ্টির জন্যে বিদ্রোহ করছি না, আমি শুধু আমার নানার উম্মতের মধ্যে সংস্কার করতে চাই, আমি‘ আমর বিল মারুফ ওয়া নাহী আনীল মুনকার’ করতে চাই এবং আমার নানা যে পথে চলেছেন আমিও সেই পথে চলতে চাই।’’ 

ইমাম হোসাইন (আ.) দীর্ঘ পথ চলার সময় বারবার তার এই লক্ষ্যকে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে এ সময়গুলোতে তিনি বাইয়াত প্রসঙ্গেরও যেমন কোনো উল্লেখ করেননি তেমনি দাওয়াত প্রসঙ্গেরও কোনো উল্লেখ করেননি। আরও আশ্চর্যের বিষয় হল পথিমধ্যে তিনি যতই কুফা সম্পর্কে ভয়ানক ও হতাশাব্যঞ্জক খবর শুনছিলেন ততই তার বক্তব্য জ্বালাময়ী হয়ে উঠছিল। সম্ভবতঃ ইমামের দূত মুসলিম ইবনে আকীলের শহীদ হবার সংবাদ শুনেই ইমাম এই বিখ্যাত খোতবা প্রদান করেনঃ

"হে মানবমণ্ডলী! পৃথিবী আমাকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করছে,আমাকে বিদায় জানাচ্ছে। পরকাল আমাকে সাদরে বরণ করছে, উপযুক্ত মর্যাদা দিচ্ছে। তোমরা কি দেখতে পাচ্ছনা যে সত্য অনুসারে আমল করা হচ্ছে না, তোমরা কি দেখতে পাও না যে আল্লাহর বিধানসমূহকে পদদলিত করা হচ্ছে? দেখতে পাওনা যে চারদিকে ফেতনা-ফ্যাসাদে ছেয়ে গেছে অথচ কেউ এর প্রতিবাদ করছে না?’’

‘‘এ অবস্থায় একজন মুমিনের উচিত নিজের জীবন উৎসর্গ করে আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জন করা। যদি জীবন উৎসর্গ করতে হয় তাহলে এটাই তার উপযুক্ত সময়।’’ ( দ্রঃ তুহফাল উকুলঃ ২৪৫ )

অর্থাৎ‘ আমর বিল মারুফ ওয়া নাহী আনীল মুনকার’ এতই মূল্যবান। পথিমধ্যে উচ্চারিত অন্য আরেকটি খোতবায় ইমাম সার্বিক অবস্থার বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ

‘‘হে লোকসকল! আমি এই পরিস্থিতিতে মৃত্যুবরণকে কল্যাণ ও মর্যাদাকর ছাড়া আর কিছুই মনে করি না।’’ অর্থাৎ একে আমি সত্যের জন্যে শহীদ হওয়া মনে করি। এ থেকে বোঝা যায় যে‘ আমর বিল মারুফ ওয়া নাহী আনীল মুনকার’ করতে গিয়ে নিহত হলে সে শহীদের মর্যাদার অধিকারী হবে। ‘‘ আর জালেমদের সাথে বেঁচে থাকাকে আমি নিন্দাকর অপমান মনে করি। আমার আত্মা এমন আত্মা নয় যে,জালেমদের সাথে আপোষ করে বেঁচে থাকতে পারবে।’’

শোক সমাবেশে ইরানি নারীরা

ইমাম এর চেয়েও আরো বড় কথা বলেন যখন অবস্থা শতভাগ প্রতিকূল হয়ে ওঠে। কাফেলা যখন ইরাকের সীমানায় পৌঁছায় তখন হুর ইবনে ইয়াজিদ আর-রিয়াহীর এক বিশাল বাহিনীর বাধার সম্মুখীন হন। হুর এক হাজার সৈন্যযোগে ইমামের কাফেলাকে বন্দী করে কুফায় নিয়ে যাবার দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছিল। তাবারীর মতো বিশ্বস্ত ঐতিহাসিকগণ ঐ মুহুর্তে ইমামের সেই বিখ্যাত খোৎবার কথা লিপিবদ্ধ করেছেন। ইমাম ঐ খোতবায় রাসূলুল্লাহর (সা.) উদ্ধৃতি দিয়ে‘ আমর বিল মারুফ ওয়া নাহী আনীল মুনকার’ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন :

‘‘হে লোক সকল! রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ‘ যদি কেউ কোনো অত্যাচারী ও স্বৈরাচারী সরকারকে দেখে যে হালালকে হারাম করে, হারামকে হালাল করে, বায়তুলমালকে নিজের ব্যক্তিগত খাতে খরচ করে, আল্লাহর বিধি-বিধানকে পদদলিত করে, মুসলমানের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষা করে না, এরপরও যদি সে নিশ্চুপ বসে থাকে তাহলে আল্লাহ তাকে ওই জালেমদের সাথে একই শাস্তি প্রদান করবেন। আজকে বনি উমাইয়ার যারা হুকুমত করছে তারা কি ঐসব জালেম ও স্বৈরাচারীদের মতন নয়? দেখতে পাও না যে তারা হালালকে হারাম করেছে আর হারামকে হালাল? তারা কি আল্লাহর বিধানকে পদদলিত করেনি? বায়তুলমালের অর্থকে তারা কি ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করেনি? আত্মসাৎ করেনি? তাই এরপরও যারা নীরবতা অবলম্বন করবে তারাও ইয়াজিদদের মতোই বলে সাব্যস্ত হবে।’’ 

এবার তিনি নিজের প্রসঙ্গে বলেন : "আর আমার নানার এই আদেশ পালন করতে অন্যদের চেয়ে আমিই বেশী যোগ্য, আমারই দায়িত্ব অধিক।’’ ( দ্রঃ তারিখে তাবারীঃ ৪ / ৩০৪ )

কোনো মানুষ যখন ইমাম হোসাইনের (আ.) এসব বৈশিষ্ট্যের সাথে পরিচিত হয় তখন বলে যে, এ ধরনের ব্যক্তিই তো চির ভাস্বর হয়ে থাকার অধিকার রাখেন। তিনিই তো চিরঞ্জীব থাকার যোগ্য। কেননা হোসাইন নিজের জন্যে ছিলেন না। তিনি নিজেকে মানুষ ও মানবতার জন্যে উৎসর্গ করেছেন। একত্ববাদ,ন্যায়পরায়ণতা এবং মনুষ্যত্বের শ্রেষ্ঠত্ব রক্ষায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। আর এ কারণেই সব মানুষই তাকে ভালবাসে,তাকে শ্রদ্ধা করে। যখন কোনো মানুষ এমন একজনকে দেখে যার নিজের জন্যে কিছুই নেই, মান-সম্মান, মর্যাদা, মানবতা যা আছে তা সবই অন্যের জন্যে -তখন সে নিজেকে ঐ ব্যক্তির সাথে একাত্ম করে নেয়।

ইয়াজিদ বাহিনীর অন্যতম জেনারেল হুর ইমাম হোসাইনের (আ.) সাথে সাক্ষাতে ইমামকে কুফায় নিয়ে যাবার প্রস্তাব করলে ইমাম এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন। তিনি কখনো অপমানের কাছে আত্মসমর্পণ করতে চাননি। মনুষ্যত্বের মাহত্ম্য ও মর্যাদাকেই তিনি অক্ষুণ্ণ রাখতে চেয়েছেন। তিনি বললেনঃ আমি যাব না। শেষ পর্যন্ত আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, তিনি এমন এক রাস্তায় যাবেন যে রাস্তা কুফারও নয়,মদীনারও নয়। অবেশেষ তিনি মহররম মাসের দুই তারিখে কারবালা ভূখণ্ডে এসে পৌঁছুলেন। প্রায় ৭২ জন সঙ্গী-সাথীসহ সেখানে তাঁবু গাড়লেন। ওদিকে হুরের বাহিনীও কিছুদূরে তাঁবু গাড়ল। কুফার গভর্ণরের দূতরা অনবরত যাওয়া-আসা শুরু করল। পরের দিনগুলোতে শত্রুদের সংখ্যা বাড়তে লাগলো এবং নতুন নতুন বাহিনী এসে উপস্থিত হল। এক হাজার, পাঁচ হাজার এভাবে ৬ তারিখের দিনের বেলা ত্রিশ হাজারে পৌঁছল।

পশ্চিমারা ও তাদের অন্ধ অনুসারী কথিত আধুনিকতাবাদীরা বলে ইসলাম ভাগ্য-নির্ভর ধর্ম। কিন্তু কুরআন বলে, ‘‘আল্লাহ কোনো জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজ থেকেই তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে অগ্রসর হয়।’’  ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের জন্য এর চেয়ে বেশী স্বাধীনতা,কর্তৃত্ব আর কি হতে পারে? মুসলমানদের মধ্যেও যারা সবকিছু আল্লাহ করবে এই আশায় হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকে,এই আয়াতের চপেটাঘাত তাদের মুখেও লাগে।

তাদেরকে ধমক দিয়ে এই আয়াতটি বলেঃ অনর্থক বসে থেকো না, আল্লাহ অনিবার্যভাবে কোনো জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করবেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে এগিয়ে আসবে, তাদের যা করার তা ভালভাবে সম্পাদন করবে। তাদের চরিত্র, মানসিকতা, লক্ষ্য এবং সর্বোপরি নিজেরা শুদ্ধ হবে। এর চেয়ে গুরুদায়িত্ব আর কি হতে পারে ? তাও আবার একটা সমাজ তথা গোটা জাতির ওপর এই দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে।

আরেকটি আয়াতে পবিত্র কোরআন একটা কলূষিত জাতির পরিণতি তুলে ধরে বলছেঃ "আল্লাহ কোনো জাতির জন্যে যে নেয়ামত দান করেছেন তা তিনি ফিরিয়ে নেন না যতক্ষণ তারা নিজেরাই তা বর্জন করে।’’ ( আনফালঃ ৫৩ )
অর্থাৎ যখন কোনো জাতি কলূষতায় নিমজ্জিত হয়, ফেতনা-ফ্যাসাদে ভরে যায়,তাদের সমাজ এভাবে তাদের নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে যায়, তখনই আল্লাহও তাদেরকে নেয়ামত থেকে বঞ্চিত করেন।

এরপর কি বুঝতে বাকী থাকে যে, আমরা যারা সব কাজ আল্লাহ করবেন শুধু এই আশায় বসে আছি তাদের এ আশা একবারেই অনর্থক ও ভিত্তিহীন।
যতক্ষণ কোনো জাতি নিজেরাই নিজেদের দুর্দশা কাটিয়ে উঠতে এগিয়ে আসবে না, যতক্ষণ কোনো জাতি পরিশ্রমী ও ত্যাগী হবে না, যতক্ষণ কোনো মুক্ত -স্বাধীন চিন্তার পথ ধরবে না ততক্ষণ পর্যন্ত সে জাতি উন্নত হবে না, মুক্তি পাবে না।  

ইরাকের একটি বাজারে তাজিয়া মিছিলে অংশগ্রহণকারী এক কিশোর

অন্যদিকে যখন কোনো জাতি তাদের অবস্থা পরিবর্তন করতে উঠে পড়ে লাগবে, পরিশ্রম করবে, কল্যাণের রাস্তা বেছে নিতে পারবে একমাত্র সে জাতিই আল্লাহর সমর্থন লাভ করবে। পবিত্র কোরআনের ভাষায় তারা আল্লাহর ফায়েজ, রহমত ও সহযোগিতার অধিকারী হবে। যদি অন্যের ওপর ভরসা করে নিস্ক্রিয় হয়ে বসে থাকে থাকলে সমস্যার সমাধান হতো তাহলে ঐ পরিস্থিতিতে হযরত ইমাম হোসাইনও (আ.) সবার আগে তাই করতেন। কিন্তু কেন তা তিনি করেননি? কারণ তিনি নিজেই নিজ জাতির তথা নানার উম্মতের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। তিনি সমাজকে কলূষমুক্ত করতে চেয়েছিলেন যে কলূষতা বজায় থাকলে সবাইকে একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।

কিন্তু ইমাম হোসাইন (আ.) কিভাবে সমাজকে কলুষতা মুক্ত করবেন? কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন? সোজা কাজতো আমরাও করতে পারি। সাধারণ পর্যায়ের সমস্যা সমাধান করা সবার পক্ষে সম্ভব। ইসলাম বলেছেঃ কেউ মারা গেলে তার জানাযায় শরীক হও,কুরআনখানিতে অংশ নাও। সবাই এসব কাজ করেও থাকে। কিন্তু ইসলাম সবসময় এ ধরনের সাধারণ কাজ চায় না। কখনো কখনো ইমাম হোসাইনের (আ.) মত পদক্ষেপ নিতে হয়,বিদ্রোহ করতে হয়। এমন কিছু করতে হয় যা কেবল ঐ সময়ের মুসলিম সমাজকেই ঝাঁকুনি দেবে না, বরং এক বছর পর তা এক রকমভাবে, পাঁচ বছর পর আরেক রকমভাবে আত্মপ্রকাশ করবে। এমন কি ৫০ বছর-১০০ বছর,শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তা সত্যের পথে সংগ্রামকারীদের জন্যে এক আদর্শ হিসেবেই চিরজাগরুক থাকবে। আর এটিই হলো নিজেদের ভাগ্যে নিজেরাই পরিবর্তন আনা।#

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আশরাফুর রহমান/১    
 

ট্যাগ

২০১৭-১০-০১ ১৬:৪৮ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য