প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১২ নভেম্বর রোববারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগকেই যুক্তিযুক্ত মনে করেছেন- দৈনিক যুগান্তর
  • কে হচ্ছেন প্রধান বিচারপতি- দৈনিক ইত্তেফাক
  • বিচার বিভাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করতে হবে: ওয়াহ্‌হাব- দৈনিক যায়যায়দিন
  • ‘বিএনপিকে কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না’- দৈনিক প্রথম আলো
  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন : দিল্লিতে ৭৬ দেশের রাষ্ট্রদূতের সহায়তা চাইল ঢাকা- দৈনিক নয়াদিগন্ত
  • ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য লাগবে ৩২৬২ কোটি টাকা: সিপিডি- দৈনিক সমকাল
  • ’ কোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত- দৈনিক মানবজমিন

ভারতের শিরোনাম:

  • ‘পাক অধিকৃত কাশ্মীর পাকিস্তানেরই অংশ’: বিতর্কিত মন্তব্য ফারুক আবদুল্লার- দৈনিক বর্তমান
  • ‌ভারত শক্তিশালী দেশ মানছে বিশ্ব:‌ রাজনাথ- দৈনিক আজকাল
  • কর কমলেও ভোটের আগে সুর চড়া কংগ্রেসের- দৈনিক আনন্দবাজার

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগকেই যুক্তিযুক্ত মনে করেছেন- দৈনিক যুগান্তর

সদ্য পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে সিনহা) যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ‘বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগকেই তিনি যুক্তিযুক্ত মনে করেছেন।’সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত তার একজন ঘনিষ্ঠভাজনের মাধ্যমে তিনি শনিবার সন্ধ্যায় যুগান্তর প্রতিবেদককে এসব কথা বলেন। তবে সংশ্লিষ্ট মাধ্যমে তিনি আর কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রটি জানায়, এর আগে পদত্যাগপত্র সঙ্গে নিয়ে ১০ নভেম্বর সকালে এসকে সিনহা সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনে যান। পদত্যাগপত্রটি দেশে যথাযথ স্থানে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।এ সময় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত তার ঘনিষ্ঠভাজন ব্যক্তিটিও ছিলেন। ওইদিনই প্রধান বিচারপতি কানাডার উদ্দেশে সিঙ্গাপুর ত্যাগ করেন।

জানা যায়, এসকে সিনহা ৫ নভেম্বর কানাডা থেকে সিঙ্গাপুর আসেন। এর আগে তিনি আসার বিষয়ে সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার আগে প্রধান বিচারপতি নিজেই টেলিফোনে সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

এদিকে এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে যুগান্তরের পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কেউ মুঠোফোন রিসিভ করেননি। ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কে হচ্ছেন প্রধান বিচারপতি- দৈনিক ইত্তেফাক

প্রধান বিচারপতির পদ থেকে বিচারপতি এসকে সিনহার পদত্যাগের পর এখন দেশের সর্বত্রই প্রধান আলোচ্য বিষয় পরবর্তী ২২তম প্রধান বিচারপতি কে হচ্ছেন। প্রথা অনুযায়ী পরবর্তী জ্যেষ্ঠ বিচারপতির প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার কথা। কিন্তু এক্ষেত্রে সে নিয়ম মানা হবে কি হবে না তা নিয়ে আলোচনায় সরগরম রাজনৈতিক মহলসহ সর্বত্র। অবশ্য অতীতে এই প্রথা ভেঙে জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে কাউকে কাউকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের নজির রয়েছে।

একজন প্রধান বিচারপতির এভাবে পদত্যাগের ঘটনা স্বাধীনতার ৪৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম। জ্যেষ্ঠতার ক্রম অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা এক নম্বরে, দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ বিচারক হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এবং তৃতীয় অবস্থানে আছেন বিচারপতি মো. ইমান আলী। এছাড়া ক্রম অনুযায়ী আরো আছেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

নানা নাটকীয়তার পর ১০ নভেম্বর প্রধান বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন বিচারপতি এসকে সিনহা। তিনি সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশি দূতাবাসের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে তার পদত্যাগপত্র পাঠান। গতকাল শনিবার রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব এম জয়নাল আবদীন ইত্তেফাককে জানান, প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পৌঁছেছে। তবে অন্যান্য দাপ্তরিক ক্রিয়াকর্ম প্রক্রিয়াধীন আছে। জানা যায়, বাংলাদেশগামী একটি বিমানে পদত্যাগপত্রটি ঢাকায় পাঠানো হয়।

বিচার বিভাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করতে হবে: ওয়াহ্‌হাব- দৈনিক যায়যায়দিন

সুরেন্দ্র কুমার সিনহা- আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা

দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা বলেছেন, যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য পূর্বশর্ত। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিচার বিভাগের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার রাজধানীর বেইলি রোডে অফিসার্স ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবীদের সনদ বিতরণ করা হয়।

দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে ৩০ লক্ষাধিক মোকদ্দমা শুনানি ও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এ বিশাল কর্মযজ্ঞের তুলনায় কর্মশক্তি খুবই অপ্রতুল। এটা সুস্পষ্ট যে, দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার অনুপাতে বিচারকদের সংখ্যা অনেক কম। তা সত্ত্বেও ঝুলে থাকা মামলাগুলো অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। কারণ, বিচারপ্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করেছেন।

বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্ব অর্থনীতির রোল মডেল, যা বিশ্বব্যাংক তথা আন্ত্মর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মুজমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

‘বিএনপিকে কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না’- দৈনিক প্রথম আলো

খাদ্যমন্ত্রী মো. কামরুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ নেই। তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। কোনোভাবেই তাদের ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না। ভোলার চরফ্যাশনে যুবলীগের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত যুব সমাবেশে শনিবার তিনি এ কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‌‘বিএনপি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সন্ত্রাসী দল। আগামী নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী কাজে, জঙ্গি তৎপরতায় ব্যবহার করার চেষ্টা করবে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তারা নির্বাচনী মাঠকে অস্থিতিশীল ও প্রশ্নবিদ্ধ করবে। বিএনপি প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাদের সঙ্গে কোনো সংলাপ নেই। তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। কোনোভাবেই তাদের ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না।’

একই দিনে মনপুরা উপজেলায় এক হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন খাদ্যগুদামের উদ্বোধন করেছেন খাদ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া চরফ্যাশন উপজেলার ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নে আব্দুল্যাহ আল-ইসলাম ডিগ্রি কলেজের নবনির্মিত চারতলা ভবন উদ্বোধন করেছেন তিনি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন : দিল্লিতে ৭৬ দেশের রাষ্ট্রদূতের সহায়তা চাইল ঢাকা- দৈনিক নয়াদিগন্ত

দিল্লিতে অবস্থানরত ঢাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ৭৬টি দেশের অনাবাসী রাষ্ট্রদূতদের কাছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মুয়াজ্জেম আলী বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের দেয়া ব্রিফিংয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে যেকোনো আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন চেয়েছেন।

এছাড়া হাইকমিশনার দিল্লিতে আজ দেয়া এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ কিভাবে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং জাতিসঙ্ঘের ভাষ্যমতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’র মানবিক বিপর্যয় সামাল দিচ্ছে তা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।

জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য বসবাসের অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে ঢাকার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে দিল্লিতে এসব আয়োজন করা হলো। এর আগে ঢাকায় অবস্থিত বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের রোহিঙ্গা পরিস্থিতির ওপর দফায় দফায় ব্রিফ করে সহায়তা চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য লাগবে ৩২৬২ কোটি টাকা: সিপিডি- দৈনিক সমকাল

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ন্যূনতম চাহিদা পূরণে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রয়োজন হবে ৩ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। আর প্রতি রোহিঙ্গার জন্য প্রথম ১০ মাসে মাথাপিছু ৭৩৫ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৬০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। শনিবার রাজধানীতে একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে এ তথ্য দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

মূল প্রবন্ধে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত দিয়ে আরও বলা হয়, সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে এই সংকট থেকে বহুমাত্রিক জটিল সংকটের সৃষ্টি হবে। সংকট সমাধানে শুধু মানবিক সহায়তা নয়, আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোকে সংকট সমাধানেও কঠোর রাজনৈতিক অবস্থান নিতে হবে।

‘ইমপ্লিকেশন অব দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস ফর বাংলাদেশ’ শিরোনামের এ সেমিনারে মূল গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

চারশ’ কোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত- দৈনিক মানবজমিন

সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (বিএসইসি) মধ্যে দ্বন্দ্বে ৪০০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি হাতছাড়া হয়ে গেছে। এই জমিটি তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত। অবহেলা ও মামলার শুনানি দ্রুততায় (ব্যাড টাইমিং) করার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিএসইসি’র অধীনে ৭ বিঘা এই জমিটির মালিক মিসিরস রহিম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ। নামমাত্র আড়াই কোটি টাকায় অজ্ঞাত একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কাছে হারিয়ে যাচ্ছে এ জমিটি। কোনো প্রকার টেন্ডার ছাড়াই রহিম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজটি ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান সরকারের সময়ে মিসিরস মাস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কাছে বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

দুই কিস্তিতে ৭১ লাখ ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করার পর বাকি অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয় মাস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ। কিন্তু আর কোনো অর্থ পরিশোধ না করেই তারা ওই জমি ও এতে থাকা মেশিনারি ভোগ করতে থাকে পরবর্তী ২২ বছর। আদালতের আদেশবলে ২০০২ সালে এই কারখানাটির মালিকানা নিয়ে নেয় সরকার। ওই আদেশে জমাকৃত অর্থও বাজেয়াপ্ত করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে ঢাকায় হাইকোর্ট ডিভিশনে একটি রিট পিটিশন দাখিল করে মাস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ। এখানে উল্লেখ্য, গৃহায়নের জন্য ওই জমির একটি অংশ ভাড়া নেয় বিএসইসি। একই সঙ্গে শিল্পোন্নত হিসেবে ওই জমিটির উন্নয়নের জন্য একটি খসড়া প্রকল্প তৈরি করা হয়। কিন্তু আদালতে করা আপিল এবং তা মুলতবি থাকার কারণে এ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমাণ থাকে। এরই মধ্যে সরকার ও বিএসইসি’র মধ্যে বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের সুযোগ নেয় একটি ভূমিদস্যু চক্র।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:

‘পাক অধিকৃত কাশ্মীর পাকিস্তানেরই অংশ’: বিতর্কিত মন্তব্য ফারুক আবদুল্লার- দৈনিক বর্তমান

পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে পাকিস্তানেরই অংশ বলে বিতর্ক তৈরি করলেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা। তাঁর দাবি, ‘কাশ্মীর সমস্যা মেটাতে গেলে পাকিস্তানের সঙ্গে কথা বলতে হবে। কারণ, জম্মু-কাশ্মীর যেমন ভারতের অংশ, তেমনই পাক অধিকৃত কাশ্মীরও পাকিস্তানেরই অংশ। কেন্দ্রীয় সরকার যদি শান্তি চায়, তবে সীমান্তের ওপারের মানুষদের যাতে আরও স্বায়ত্তশাসনের অধিকার দেওয়া যায়, তা নিয়ে কথা বলা উচিত পাকিস্তানের সঙ্গে।’

কিন্তু হঠাৎ করে কেন এই মন্তব্য রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর? কারণ খোলসা করে না বললেও, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের মন্ত্রীর সঙ্গে তিনি যে একমত, তা স্পষ্ট করেছেন আবদুল্লা। ন্যাশনাল কনফারেন্সের এই প্রবীণ নেতা শনিবার বলেন, ‘পাকিস্তানের মন্ত্রী ঠিকই বলেছেন। যে অংশটা আমাদের বলে আমরা দাবি করছি, সেটা যে সংযুক্তি, সেটা ভুলে যাচ্ছি। তুমি সংযুক্ত অংশকে নিজেদের বলবে, অথচ, সীমান্তের ওপারের অংশকে পাকিস্তান দখল করে রেখেছে বলবে, এটা হয় নাকি! তাও যদি এই অংশকে আমাদের বলে দাবি করতেই হয়, তবে সংযুক্তিকরণের চুক্তিটাও মনে রাখতে হবে। তাই ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ করে শেষ হয়ে গেলেও, এই ধ্রুব সত্যটা বদলাবে না যে অধিকৃত কাশ্মীর পাকিস্তানেরই।’

তবে এখানেই থেমে থাকেননি শ্রীনগরের এমপি। সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, ‘ভারতের সঙ্গে এই রাজ্য যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভালোবাসা পাবে বলে। কিন্তু সত্যি বলতে কী, ভারত আমাদের সঙ্গে বেইমানি করেছে। কাশ্মীরের সাম্প্রতিক অবস্থার জন্য এই কারণটাই একমাত্র দায়ী। অভ্যন্তরীণ স্বায়ত্তশাসন আমাদের অধিকার। সেটা যাতে ফিরিয়ে আনা যায়, সে ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। তবে শান্তি ফিরতে পারে উপত্যকায়।’

‌ভারত শক্তিশালী দেশ মানছে বিশ্ব:‌ রাজনাথ- দৈনিক আজকাল

ভারত শক্তিশালী হয়েছে তা বুঝতে পারছে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলি। শনিবার লখনউয়ে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি আরও বলেন, ভারত যে আর দুর্বল নিয়েই তা তারা বিলক্ষণ বুঝতে পারছে। শক্তিশালী দেশগুলির সমকক্ষ হয়ে উঠেছে ভারত। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি ভারতেই রয়েছে। সেকারণেই ভারতের গুরুত্ব বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। এখন ভারতের সমালোচনা কম হয়। ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ অন্য দেশগুলি। এই অবস্থান তৈরি করতে হয়েছে মোদি সরকারকে। বিজেপি সরকারের কাজ ভারতকে উন্নয়নের সেই স্তরে নিয়ে গিয়েছে বলে এদিন মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গত তিন বছরে ধরে বিজেপি সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে এটা তারই ফল বলে দাবি করেছেন রাজনাথ।

কর কমলেও ভোটের আগে সুর চড়া কংগ্রেসের- দৈনিক আনন্দবাজার

গুজরাত ভোটের মুখে যা করা হল, সেটাই ৪ মাস আগে করা হল না কেন! আমজনতার মন জয়ে ২০০-রও বেশি পণ্যে জিএসটি-র হার কমানোর পর প্রশ্ন উঠেছে, মোদী সরকার প্রথম থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেয়নি কেন? বিরোধী শিবির তো বটেই। একই প্রশ্ন অর্থনীতিবিদদেরও।

শুক্রবারই ১৭৮টি পণ্যে জিএসটি-র হার ২৮% থেকে কমিয়ে ১৮% করেছে কেন্দ্র। অর্থ মন্ত্রকের একটি সূত্র বলছে, মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যমই তো তাঁর রিপোর্টে সুপারিশ করেছিলেন, করের হার ১৭ থেকে ১৮ শতাংশের মধ্যে বেঁধে রাখা হোক। ১৮% হারে জিএসটি-র কথা বলেছিল অর্থ মন্ত্রকের সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক ফিনান্স অ্যান্ড পলিসি (এনআইপিএফপি)-ও। প্রশ্ন হল, তা সত্ত্বেও কার ইচ্ছায় রোজকার প্রয়োজনের হরেক জিনিসেও ২৮% কর চাপানো হয়েছিল?

রাহুল গাঁধী আজ গুজরাতে গিয়ে বলেছেন, ‘‘আমরা এখনও খুশি নই। পাঁচ রকম আলাদা আলাদা কর চাই না। একটাই কর চাই।’’ যত দিন না ‘গব্বর সিংহ ট্যাক্স’ শুধরে ‘জেনুইন সিম্পল ট্যাক্স’ চালু হবে, তত দিন কংগ্রেস লড়াই চালাবে বলেও রাহুলের হুঁশিয়ারি। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার এখন যা করছে, তা আসলে নিজের ভুল শোধরানো। এনআইপিএফপি-র অধ্যাপক পিনাকী চক্রবর্তীর মতে, ‘‘যে সব ত্রুটি ছিল, তার কিছু দূর হয়েছে। কিন্তু আদর্শ কর কাঠামোয় এখনও পৌঁছনো যায়নি।’’

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! কথাবার্তার আজকের আসর এ পর্যন্তই। আবারো কথা হবে আগামী আসরে।

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১২

 

২০১৭-১১-১২ ১০:৪৫ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য