প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৩ নভেম্বর সোমবারের কথাবার্তার আসরে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • গণপরিবহনশূন্য রাজধানী- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম
  • হাসিনার অধীনে নির্বাচন নয়- দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম
  • খালেদা জিয়ার বক্তব্য অন্ধ আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ- দৈনিক মানবজমিন
  • ৭ মার্চ জাতির মূল চালিকাশক্তি মত: প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক যায়যায়দিন
  • বিচারপতি সিনহার পদত্যাগে সাংবিধানিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়নি : এটর্নি জেনারেল- দৈনিক নয়াদিগন্ত
  • 'গণধর্ষণের দায়ে মিয়ানমার সেনাদের বিচার হতে হবে'- দৈনিক সমকাল
  • ক্রমেই পূর্ণতা পাচ্ছে মংলা: বন্দরমুখী হচ্ছেন আমদানিকারকরা, বাড়ছে জাহাজ- দৈনিক ইনকিলাব
  • ভারতে এবার গরু বহনের অভিযোগে মুসলিমকে হত্যা- দৈনিক ইত্তেফাক
  • ভোলায় গৃহকর্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা: শিশুটির সারা শরীরে খুনতির ছ্যাঁকা- দৈনিক প্রথম আলো

ভারতের শিরোনাম:

  • শীতের পথে কাঁটা নিম্নচাপ, রোগভোগের আশঙ্কা বাড়িয়ে সম্ভাবনা বৃষ্টিরও- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • সেনা গোয়েন্দাদের রিপোর্ট, সংঘাতেরই ছক চিনের- দৈনিক আনন্দবাজার
  • ইয়াসিনকে এনআইএ নোটিস পাঠাতেই পিছিয়ে যায় হুরিয়ত- দৈনিক আজকাল

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

গণপরিবহনশূন্য রাজধানী- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম

 রোববার ঢাকার শাপলা চত্বরের দৃশ্য- ছবি: দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে পরিবহন সংকটে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল রাজধানী ঢাকা। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল সকাল থেকেই যানবাহন না পেয়ে অফিস-আদালত এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

সকাল থেকে বেলা ২টা নাগাদ রাজধানী থেকে কোনো ধরনের দূরপাল্লার বাস না ছাড়ায় সারা দেশ থেকে রাজধানী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এ সময়ের মধ্যে রাজধানীতে কোনো দূরপাল্লার পরিবহনও প্রবেশ করেনি। সিটি সার্ভিসের শত শত বাস রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পার্কিংরত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। রাজধানীর পার্শ্ববর্তী গাজীপুর, সাভার, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ এবং মানিকগঞ্জ, কুমিল্লা, নরসিংদীসহ স্বল্প দূরত্বের এলাকাগুলো থেকে যাত্রীবাহী বাস চলাচল সকাল থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। অনেকের অভিযোগ, পরিবহন মালিকরা ইচ্ছা করেই এমন কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। বিএনপি অভিযোগ করেছে, তাদের সমাবেশে জনসমাগম ঠেকাতে পুলিশসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বাস চলতে দেননি। তবে বাস মালিক সমিতির নেতা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, বিএনপির কর্মসূচিতে জ্বালাও-পোড়াওয়ের ভয় থেকে অনেক মালিক বাস নামাননি। বিকালের পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার আশঙ্কায় গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী থেকে দূরপাল্লার বাস ছাড়া হয়নি। একই সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশমুখগুলোতে চরম যানজটও এর অন্যতম কারণ।

হাসিনার অধীনে নির্বাচন নয়- দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কারণ দলীয় সরকার অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারে না, পারবে না। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার অধীনেও কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের দায়িত্ব আপনাদের। নির্বাচনে ইভিএম চলবে না। বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। প্রধান বিচারপতিকে চাপ দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

দীর্ঘ ১৯ মাস পর রোববার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। এরপর ভোট কেন্দ্রে এসে দেখেন মানুষ কী চায়, কাদের ভোট দেয়। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করব না। ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগের প্রতি প্রতিহিংসা নয়, আপনাদের সংশোধন করে দেব। এ সময় জনসভায় আসার পথে নানাভাবে বাধা দেয়ার অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, রাস্তায় বাস রেখে আমাকেও জনসভায় আসতে বাধা দেয়া হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট মন নিয়ে রাজনীতি হয় না।’ আগামী দিনে ক্ষমতায় গেলে কী করবেন তার একটি ধারণাও দেন খালেদা জিয়া। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের কারও চাকরি যাবে না। নির্ভয়ে কাজ করুন।

খালেদা জিয়ার বক্তব্য অন্ধ আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ: কাদের- দৈনিক মানবজমিন

বিএনপির জনসভায় দেয়া খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অন্ধ আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ  ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাব দিতেই এ সংবাদ সম্মেলন করেন ওবায়দুল কাদের।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে খালেদা জিয়ার নির্বাচন দাবির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে, সারা পৃথিবীর অন্য দেশগুলোতে যেভাবে হয়  সেভাবে। সে সময় যে সরকার থাকবে, তারা ইসিকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে সহায়তা দেবে। খালেদা জিয়ার বক্তব্যের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, জুলুম আওয়ামী লীগ করেনি, জুলুম করেছে বিএনপি।

৭ মার্চ জাতির মূল চালিকাশক্তি মত: প্রধানমন্ত্রী-  দৈনিক যায়যায়দিন

সংসদ নেতা ও প্র্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ৭ মার্চ হলো জাতির মূল চালিকাশক্তি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ভাষণে গেরিলা যুদ্ধের দিক নির্দেশনাসহ অর্থনৈতিক মুক্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন, যে ভাষণ আজ বিশ্ব স্বীকৃত।

রোববার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির ১৮তম বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি। কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সংসদের ১৮তম অধিবেশন শুরম্নর ঘণ্টাখানেক আগে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে নির্ধারিত হয় এ অধিবেশন কতদিন চলবে ও প্রতিদিন কখন শুরম্ন হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার নবদ্বার উন্মোচন করেছে, যা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এ ছাড়া সফলভাবে ৬৩তম সিপিএ সম্মেলন সম্পন্ন করায় তিনি সংশিস্নষ্ট সবাইকে আন্ত্মরিক ধন্যবাদ জানান এবং স্পিকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি এ সব বিষয়ে এ অধিবেশনে আলোচনার পরামর্শ দেন। জাতীয় সংসদের গণসংযোগ অধিশাখা থেকে জানানো হয়, বৈঠকে সিদ্ধান্ত্ম গৃহীত হয়, ৭ মার্চ, রোহিঙ্গা ইসু্য সিপিএ সম্মেলন নিয়ে আলাদাভাবে নির্ধারিত দিনে সংসদে আলোচনা হবে। এ ছাড়া অনিষ্পন্ন ১৩টি বিলের মধ্যে পাসের অপেক্ষায় থাকা তিনটি বিল পাস করা হবে এবং সম্প্রতি প্রাপ্ত চারটি সরকারি বিল উত্থাপন করা হবে।

বিচারপতি সিনহার পদত্যাগে সাংবিধানিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়নি : এটর্নি জেনারেল- দৈনিক নয়াদিগন্ত

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার পদত্যাগের ফলে বিচার বিভাগে সাংবিধানিক কোন শূন্যতার সৃষ্টি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

সুপ্রিমকোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এটর্নি জেনারেল আজ এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগে বিচার বিভাগে কোনো প্রভাব পড়বে না। পদত্যাগ করা ছাড়া তার কোনো পথ খোলা ছিল না। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের কেউ যদি দুর্নীতি করে বা নৈতিকস্খলন ঘটায় তাহলে তার পদে থাকা উচিত নয়। প্রধান বিচারপতির পদত্যাগে কোনো সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়নি।

এক মাস ১০ দিন ছুটির শেষ দিনে শুক্রবার (১০ নভেম্বর) সিঙ্গাপুর থেকে হাইকমিশনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন বিচারপতি এস কে সিনহা। শনিবার পদত্যাগপত্রটি বঙ্গভবনে পৌঁছে। আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যাওয়ার দুই মাস ২১ দিন আগেই পদত্যাগ করলেন তিনি। গত ৩ অক্টোবর থেকে একমাসের ছুটিতে যান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। পরে আরো দশ দিনের ছুটি বাড়িয়ে গত ১৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়া যান তিনি। গত ২ অক্টোবর আপিল বিভাগের কর্মে প্রবীণতম বিচারক বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনের দায়িত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।

'গণধর্ষণের দায়ে মিয়ানমার সেনাদের বিচার হতে হবে'- দৈনিক সমকাল

জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত প্রমিলা প্যাটেন বলেছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গা নারীদের গণধর্ষণের দায়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অবশ্যই বিচার হওয়া প্রয়োজন। রোববার ঢাকায় একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি (হাই রিপ্রেজেনটেটিভ) ফ্রেডারিকা মঘারিনি আগামী ১৯ নভেম্বর ঢাকায় আসছেন। রোববার ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঘারিনি কক্সবাজারের উখিয়া ও কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রমিলা প্যাটেন জানান, তিনি কক্সবাজার এলাকায় রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের সময় রোহিঙ্গা নারীদের কাছ থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণধর্ষণের ভয়ঙ্কর কাহিনী শুনেছেন। রাখাইন থেকে পাওয়া তথ্য এবং পালিয়ে আসা নারীদের বর্ণনা ও ক্ষতচিহ্ন থেকে এটা স্পষ্ট যে, রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী গা শিউরে ওঠার মতো বর্বরতা চালিয়েছে, সেখানে অসংখ্য নারী মিয়ানমার সেনাসদস্য ও তাদের সহযোগীদের দ্বারা ধর্ষিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, 'এ ধরনের জঘন্য অপরাধের দায়ে অবশ্যই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিচার হওয়া প্রয়োজন।' প্যাটেন বলেন, 'রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাসদস্যরা একদিকে গণহত্যা চালিয়েছে, বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে আর এর মধ্যেই তারা নারীদের ধর্ষণ করেছে। এমনকি তাদের ভয়াবহ বর্বরতা থেকে শিশুরাও রক্ষা পায়নি। কোনোভাবেই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এ বর্বরতা মেনে নেওয়া যায় না।'

ক্রমেই পূর্ণতা পাচ্ছে মংলা: বন্দরমুখী হচ্ছেন আমদানিকারকরা, বাড়ছে জাহাজ- দৈনিক ইনকিলাব

মংলা বন্দর ক্রমেই পূর্ণতা পাচ্ছে। মংলা হবে আন্তর্জাতিক মানের বন্দর এমন প্রত্যাশা নিয়েই সরকার বাস্তবমুখী রোডম্যাপে অগ্রসর হচ্ছে। উন্নয়নের পথে এখন এই বন্দর। তারই ফসল আমদানি পণ্য খালাসে রেকর্ড গড়েছে মংলা সমুদ্রবন্দর। বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টায় ২৪ ঘণ্টায় খালাস হয়েছে প্রায় ২৪ হাজার মেট্রিক টন আমদানি পণ্য। ক্ষেত্রবিশেষ একই পরিমাণ পণ্য খালাসে কিং বন্দর চট্টগ্রামে সময় লাগছে এক থেকে দুই সপ্তাহ। ফলে একসময়কার মৃত মংলা বন্দরে এখন জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি এ অঞ্চলের অর্থনীতির স্বর্ণ দুয়ার খুলতে বিশেষ ভ‚মিকা রাখবে।

সূত্রমতে, মংলা বন্দর ব্যবহারে যে সুযোগ রয়েছে তা সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখবে। বন্দর এখন প্রস্তুত ভারত নেপাল ও ভুটানের ব্যবহারের অপেক্ষায়। সে লক্ষ্যে অতীতের দৈন্যদশা ঝেড়ে ফেলে ফের চাঙ্গা হচ্ছে মংলা বন্দর। আর তাই সরকার খুলনা থেকে মংলা বন্দর পর্যন্ত তিন হাজার ৮০১ কোটি টাকা ব্যয়ে রেললাইন স্থাপনের প্রকল্পে কাজ জোরেশোরে শুরু করেছে। এ ছাড়া বন্দরের জন্য ড্রেজিং প্রকল্পে ১০০ কোটি টাকার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

ভারতে এবার গরু বহনের অভিযোগে মুসলিমকে হত্যা- দৈনিক ইত্তেফাক

Image Cap

ভারতে এবার গরু বহনের অভিযোগে এক মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছে। গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে রাজস্থান-হরিয়ানা সীমান্তের আলওয়ারে গুলি করে মারা হয় একজনকে। পরে মৃতদেহটিকে রেললাইনে ছুড়ে ফেলে দেন গোরক্ষকরা।  

তার সঙ্গী আরো দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন গণপিটুনিতে। গত শুক্রবার এই ঘটনা ঘটেছে রাজস্থানের আলওয়ার জেলায় গোবিন্দ গড়ের কাছে ফাহারি গ্রামে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা ও এনডিটিভি’র

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওইদিন দুই সঙ্গীকে নিয়ে ওমর মোহাম্মদ (৩২) নামে একজন হরিয়ানার মেওয়াট থেকে গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন রাজস্থানের ভরতপুরে। ওই সময়েই তাদের ঘিরে ফেলে গোরক্ষকরা। প্রথমে শুরু হয় গণপিটুনি।

ভোলায় গৃহকর্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা: শিশুটির সারা শরীরে খুনতির ছ্যাঁকা- দৈনিক প্রথম আলো

ভোলার মনপুরা উপজেলায় সুরমা নামের নয় বছরের এক গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তার প্রায় সারা শরীরে গরম খুনতির ছ্যাঁকার জখম রয়েছে। তা ছাড়া আছে বেত্রাঘাতের ক্ষত। মাথায় রয়েছে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন। সে এখন ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অভিযোগ রয়েছে, উত্তর সাকুচিয়ার এক স্কুলশিক্ষকের স্ত্রী মিনারা বেগম এই নির্যাতন চালিয়েছেন। এ ঘটনায় মনপুরা থানায় স্কুলশিক্ষক সাইদুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী মিনারা বেগমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার শিশু সুরমার বাড়ি তজুমদ্দিন উপজেলায়। গতকাল রোববার সদর হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে সরেজমিনে দেখা যায়, অপুষ্টিতে ভোগ রোগা পটকা চেহারার সুরমা শুয়ে আছে। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে সে। তার চিবুকে ক্ষতের চিহ্ন। পিঠজুড়ে ছ্যাঁকার জখম। কোনো কোনো স্থানে ঘা হয়ে গেছে। কোনো কোনোটি শুকিয়ে গেছে।

জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তৈয়বুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার ভর্তির সময় মেয়েটির অবস্থা গুরুতর ছিল। তাঁরা শিশুটিকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। চিকিৎসা চলছে, তবে তার অবস্থা এখনো বিপদমুক্ত হয়নি। শরীরে অনেক ক্ষত।

এবারে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোর বিস্তারিত খবর:

‌ইয়াসিনকে এনআইএ নোটিস পাঠাতেই পিছিয়ে যায় হুরিয়ত- দৈনিক আজকাল

আলোচনার মাধমে কাশ্মীর সমস্যা মেটাতে আগ্রহী হুরিয়তও। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বেশ কিছু হুরিয়ত নেতার বিরুদ্ধে এনআইএ তদন্ত। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক সূত্রের বক্তব্য, হুরিয়ত চাইছে তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা হোক। পাকিস্তানের অর্থে কাশ্মীরে গোলযোগ পাকানোর চেষ্টা হয়েছে কি না সেই তদন্তও বন্ধ হোক। কিন্তু কেন্দ্র তাতে রাজি নয়। কেন্দ্রের সাফ কথা, হুরিয়ত নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তোলার প্রশ্নই ওঠে না। তদন্ত যেমন চলছে তেমনই চলবে। তবে আলোচনায় যদি স্থির হয় যে এই সমস্ত মামলা তুলে নেওয়া হবে, তাহলে কেন্দ্র আপত্তি করবে না। অর্থাৎ কেন্দ্র চাইছে হুরিয়তের ঠিক উল্টোটা। আগে আলোচনা। পরে ক্ষমাপ্রদর্শন। আর হুরিয়ত চাইছে নিজেদের বাঁচিয়ে নিয়ে তারপর আলোচনা।

কেন্দ্র এবং হুরিয়তের এই টানাপোড়েনে হাতছাড়া হয়েছে এক সুবর্ণ সুযোগ।  এ মাসের ৪ তারিখে হুরিয়ত নেতৃত্বের কাছ থেকে কেন্দ্রের মধ্যস্থতাকারী দীনেশ্বর শর্মার কাছে আলোচনায় বসতে সম্মতি জানিয়ে এক গোপন বার্তা পাঠানো হয়। ওই বার্তায় বলা হয় যে আনুষ্ঠানিকভাবে হুরিয়তকে প্রস্তাব পাঠালে ওই বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলোচনায় রাজি। কেন্দ্রের সম্মতি পেয়ে দীনেশ্বর শর্মা কালবিলম্ব না করে হুরিয়তকে প্রস্তাব পাঠিয়েও দেন। কিন্তু শর্মার বার্তার পরপরই জেকেএলএফ নেতা ইয়াসিন মালিককে অবিলম্বে তদন্তকারী অফিসারের সামনে হাজির হওয়ার জন্য নোটিস পাঠায় এনআইএ।

সেনা গোয়েন্দাদের রিপোর্ট, সংঘাতেরই ছক চিনের- দৈনিক আনন্দবাজার

আগামী গ্রীষ্মে সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনার ছক কষছে চিন। এমনই রিপোর্ট দিয়েছে সেনা গোয়েন্দা বিভাগ। এর পরেই চিনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে সরকারের ভিতরে। সেনার গোয়েন্দাদের রিপোর্টটি পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে। অক্টোবরে দেওয়া ১৫ পৃষ্ঠার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতীয় সেনাকে সংঘাতের মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ, কাশ্মীর ও অরুণাচল সীমান্ত— দু’টি ক্ষেত্রে একসঙ্গে, অর্থাৎ পাকিস্তান ও চিন যৌথ ভাবে সীমান্তে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করতে পারে।

নির্মলা সীতারামন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হওয়ার পরে, সাউথ ব্লকের ‘ওয়ার রুম’-এ তিন সেনাপ্রধান তাঁর সামনে চিনের বর্তমান রণকৌশল সম্পর্কে কিছু গোপন তথ্য পেশ করেন। চিনের ব্যাপারে সামরিক গোয়েন্দাদের পাশাপাশি ‘র’, আইবি-রও মতামত নেওয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী এই আশঙ্কা নিয়ে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বৈঠকেও বসেছিলেন। সেখানে সেনা গোয়েন্দাদের আগাম সতর্কতার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সূত্রের খবর, বিদেশ সচিব জয়শঙ্করের নেতৃত্বে বিদেশ মন্ত্রক এ ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছে। তাদের যুক্তি, বেজিং দুনিয়ার সামনে নিজেদের অপ্রতিহত শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে ঠিকই। কিন্তু ভারতের উপর পেশিশক্তি দেখাতে চাইলে চিনের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বিরাট ধাক্কা লাগবে। আমেরিকা শুধু নয়, ভারতও চিনের এক বিরাট বাজার। আর বিদেশ মন্ত্রক মনে করে, দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে ‘সীমিত’ যুদ্ধ বলে কিছু হতে পারে না। ফলে ভারতের উচিত কূটনীতির প্রক্রিয়াকে আরও সক্রিয় করা।

শীতের পথে কাঁটা নিম্নচাপ, রোগভোগের আশঙ্কা বাড়িয়ে সম্ভাবনা বৃষ্টিরও- দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

ভরা হেমন্তেই শিরশিরানি টের পেয়েছে কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ। “শীত পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।’’- হাওয়া অফিসের কর্তার এহেন বক্তব্যের জেরে আলমারি থেকে চাদর-সোয়েটার বেরিয়ে পড়তেও দেরি হয়নি। শীতের আমেজ পোহানোর জন্য মহানগর যখন সদ্য গুছিয়ে বসেছে, ঠিক তখনই শিরশিরানির পথে বাধা হতে চলেছে নিম্নচাপ। যার জেরে আগামী বুধ-বৃহস্পতিবার বাংলায় বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

আসলে শীত নির্ভর করে উত্তুরে হাওয়ার উপর। উত্তুরে হাওয়ার গতি যত বাড়বে রাজ্যে শীতের দাপটও তত বাড়বে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্তের জন্য গোঁসাঘরে খিল দেয় উত্তুরে হাওয়া। সমুদ্র থেকে গরম হাওয়া ঢুকে স্থলভূমির উত্তাপ বাড়ায়। এমনই পরিস্থিতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। “আপাতত নিম্নচাপটি অবস্থান করছে শ্রীলঙ্কা সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে। আগামী ১৫-১৬ নভেম্বর নাগাদ সেটি পূর্ব উপকূলের দিকে সরে আসবে। যার জেরে বাংলার আকাশে মেঘের আনাগোনা বাড়বে। বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উপকূলীয় জেলাগুলিতে।” জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের উপমহানির্দেশক সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! কথাবার্তার আজকের আসর এ পর্যন্তই। আবারো কথা হবে আগামী আসরে।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৩

 

২০১৭-১১-১৩ ১১:৪৫ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য