সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২ জানুয়ারি মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • শাসক নয়, জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করছি: প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক যুগান্তর
  • খালেদা জিয়াসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা-দৈনিক ইত্তেফাক
  • চট্টগ্রামের কারখানায় তৈরি হতো বিষাক্ত ইয়াবা-দৈনিক ইত্তেফাক
  • নতুন ভোটার প্রায় ৪৩ লাখ-দৈনিক প্রথম আলো
  • ছাত্রদলের সমাবেশে পুলিশের বাধা-দৈনিক মানবজমিন
  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপএক বছরে টাকার মান কমেছে ১০ ভাগ-দৈনিক নয়া দিগন্ত
  • বিচার বিভাগে চাই হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশ-৬ সিনিয়র আইনজীবী-দৈনিক ইনকিলাব

ভারতের শিরোনাম:

  • বাবরির প্রায়শ্চিত্ত! আমির হয়ে মসজিদ সারাচ্ছেন বলবীর-দৈনিক আনন্দবাজার
  • কেমন উত্তরাধিকারী!‌-দৈনিক আজকাল 
  • রাজ্যসভায় পেশ হচ্ছে না তিন তালাক বিল-দৈনিক সংবাদ  প্রতিদিন

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

শাসক নয়, জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করছি: প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক যুগান্তর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় এসেই ঘোষণা দিয়েছিলাম- শাসক নয়, সেবক হিসেবে কাজ করব। সেভাবেই কাজ করছি।’মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সমাজসেবা দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি মানুষকে কর্মমুখী হয়ে নিজের কাজ করতে হবে। যারা ভাতার আওতায় আছেন, তারা যেন ঘরে বসে ভাতা পেতে পারেন, সে জন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকার। সবার সংসার চালানোর দায়িত্ব সরকারের না উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজেই নিজের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করতে হবে। কেউ যেন অভুক্ত না থাকে, সেদিকে সরকার সজাগ দৃষ্টি রেখেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

খালেদা জিয়াসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা-দৈনিক ইত্তেফাক

কুমিল্লার আদালতে খালেদা জিয়াসহ বিএনপি-জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় ৫৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় যাত্রীবাহী নৈশকোচে পেট্রোল বোমা হামলায় ৮ যাত্রী নিহত হওয়ার মামলায় এ আদেশ দেওয়া হয়।

এদিকে দৈনিক মানবজমিনের খবরে লেখা হয়েছে, রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে ছাত্রদলের সমাবেশ পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

চট্টগ্রামের কারখানায় তৈরি হতো বিষাক্ত ইয়াবা-দৈনিক ইত্তেফাক

কক্সবাজারের নাফ নদী পেরিয়ে সর্বনাশা মাদক ইয়াবার চালান চট্টগ্রামে আসছেই। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিং এলাকার কমিশনার গলিতে একটি ভবনে বিষাক্ত পদার্থ দিয়ে তৈরি ইয়াবা কারখানার আবিষ্কার সকল মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দেশি ইয়াবাগুলো মূল চালানের সঙ্গে ভেজাল হিসেবে মিশিয়ে দেশব্যাপী বিতরণ করা হচ্ছিল বলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত হয়েছে। ইয়াবা ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর কিন্তু ভেজাল ইয়াবা দ্রুত মাদকাসক্তদের শেষ করে দেয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চট্টগ্রামে ইয়াবা তৈরির একটি কারখানা গত ২৭ ডিসেম্বর মহানগরী গোয়েন্দা পুলিশ ডবলমুরিং এলাকার বেপারিপাড়া কমিশনার গলির একটি ভবনে আবিষ্কার করে।সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয় কারিগর শ্যামল মজুমদার ও তার ৩ সহযোগীকে। উদ্ধার করা হয় দেড় লাখ পিস বিষাক্ত পদার্থ দিয়ে তৈরি ইয়াবা। যেগুলো মূলত দেশে প্রচলিত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, ব্যথানাশক টেবলেট গুঁড়ো করে, তার সঙ্গে বিষাক্ত রং ও এসেন্স মিশিয়ে নির্দিষ্ট ধাতব ডাইস বা ছাঁচে ফেলে তৈরি করা হয়েছে।পরিবেশবাদী সংগঠন পিপলস ভয়েস চট্টগ্রামের সভাপতি শরিফ চৌহান ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ইয়াবা কারখানা আবিষ্কার একটি অশনি সংকেত। নগরীতে এ রকম আরো কারখানা থাকতে পারে। এসব কারখানায় যেসব পদার্থ দিয়ে মাদক তৈরি হচ্ছে তা যুব সমাজের স্বাস্থ্য নষ্ট করছে। এগুলো এখনই নির্মূল করা না গেলে এদেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ মানসিক ও শারীরিকভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করবে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপএক বছরে টাকার মান কমেছে ১০ ভাগ-দৈনিক নয়া দিগন্ত

বছরের শেষ প্রান্তে এসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ বেড়ে গেছে। আমদানি ব্যয় বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। বাড়ছে বেসরকারি পর্যায়ে বৈদেশিক মুদ্রার ঋণের দায়। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু) দায় শোধ করতে হচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় রফতানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়েনি। কাক্সিক্ষত হারে সরবরাহ না বাড়ায় এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের ওপর চাপ বেড়ে গেছে। ফলে এক দিকে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে গেছে। সেই সাথে কমেছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান মতে, বছরের শেষ দিনে অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৩২২ কোটি ডলার, আর আমদানি পর্যায়ে টাকার মান কমে হয়েছে ৮৩ টাকা ২০ পয়সা। বিশ্লেষকদের মতে, যে হারে দায় বাড়ছে, সেই হারে সরবরাহ না বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো কমে যাবে। কেননা, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন দেশের তুলনায় দেশের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার যে রিজার্ভ তা নিয়ে আত্মতুষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই।

বিচার বিভাগে চাই হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশ-৬ সিনিয়র আইনজীবী-দৈনিক ইনকিলাব

বিচার বিভাগের উপরে নির্বাহী বিভাগের আধিপত্য ও হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশ তৈরির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বরেণ্য ৬ আইনজীবী। দেশে প্রথমবার সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালন করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলেন, এমন একটা সময়ে সুপ্রিম কোর্ট দিবসটি পালিত হচ্ছে যখন এদেশের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ অভিভাবক প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ ও ফিদা এম কামাল।

নতুন ভোটার প্রায় ৪৩ লাখ-দৈনিক প্রথম আলো

ছবিসহ ভোটার তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন আরও ৪২ লাখ ৯৪ হাজার ৮৮৯ জন। নতুন ভোটার নিয়ে এখন দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়াল ১০ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৮৮৩।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করেন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, কারও কোনো আপত্তি থাকলে ১৭ জানুয়ারির মধ্যে তা জানাতে হবে। অভিযোগ ও আপত্তি নিষ্পত্তি করে ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এবার কোলকাতার দৈনিকগুলোর কয়েকটি খবরের বিস্তারিত

বাবরি ভাঙা সেই বলবীর ২৪ বছর ধরে মসজিদ মেরামত করছেন

২৫ বছর আগে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের মাথায় উঠে শাবলের ঘা মেরেছিলেন তিনি। তার মুখে এখন লম্বা দাড়ি, বেশে পুরোদস্তুর মুসল্লী। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভেঙে পড়া শ’খানেক মসজিদ মেরামতে কাজ করছেন তিনি। ঠিকই প্রায়শ্চিত্ত! এক সময় শিবসেনার সক্রিয় কর্মী বলবীর সিং এখন হয়ে গিয়েছেন মুহাম্মদ আমির। আল্লাহর নাম জপেন প্রতিমুহূর্তে। ভোরে আজান দেন নিয়মিত। বাবরির মাথায় শাবলের ঘা দেওয়ার পর সব খুইয়েছিলেন বলবীর। বাবা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। না, স্ত্রীও সেই সময় তার হাত ধরে বেরিয়ে আসেননি। বাবার মৃত্যুর পর বাড়ি ফিরে শুনেছিলেন, বাবা নাকি বলে গিয়েছিলেন, তার দ্বিতীয় সন্তানের (বলবীর) মুখ যেন বাড়ির কেউ আর না দেখেন। এমনকী, বলবীরকে যেন তার বাবার মুখাগ্নিও করতে না দেয়া হয়।

 বদলের আরেক নাম যোগেন্দ্র পাল। বলবীরের বন্ধু। ২৫ বছর আগে যিনি বলবীরের সঙ্গেই উঠেছিলেন বাবরির মাথায়। শাবলের ঘায়ে ভেঙেছিলেন মসজিদ। বহু দিন আগেই যিনি হয়ে গিয়েছেন পুরোদস্তুর মুসলিম। এই বদলে যাওয়াটা সম্ভব হল কীভাবে? বলবীর বলছেন, সেটাই স্বাভাবিক ছিল। কারণ, তার পরিবার কোনও দিনই উগ্র হিন্দু ছিলেন না। ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান আর ইংরেজি, এই তিনটি বিষয়ে এমএ ডিগ্রি পাওয়া বলবীর তার মা, বাবা, ভাই, বোনদের নিয়ে ছোটবেলায় থাকতেন পানিপথের কাছে খুব ছোট্ট একটা গ্রামে। বলবীরের বয়স যখন ১০, তখন তিনি ও তার ভাইদের পড়াশোনার জন্য বলবীরের বাবা দৌলতরাম তাদের নিয়ে চলে যান পানিপথে।

বলবীরের কথায়, আমার বাবা বরাবরই গাঁধীবাদে (মহাত্মা গান্ধী) বিশ্বাসী। তিনি দেশভাগ দেখেছিলেন। তার যন্ত্রণা বুঝেছিলেন। তাই আমাদের আশপাশে যে মুসলিমরা থাকতেন, উনি তাদের আগলে রাখতেন সব সময়। কিন্তু পানিপথের পরিবেশটা ছিল অন্য রকম। হরিয়ানার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা লোকজনরা তেমন মর্যাদা পেতেন না পানিপথে।

 ফলে একটা গভীর দুঃখবোধ সব সময় তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াত বলবীরকে। সেই পানিপথেই একেবারে অচেনা, অজানা আরএসএসের একটি শাখার কর্মীরা বলবীরকে দেখা হলেই ‘আপ’ ‘আপ’ (আপনি, আপনি) বলে সম্বোধন করতেন।

 বলবীর বলছেন, ‘সেটাই আমার খুব ভালো লেগেছিল। সেই থেকে ওদের (আরএসএস) সঙ্গে আমার ওঠবোস শুরু হয়। শিবসেনা করতে করতেই বিয়ে করি। এমএ করি রোহতকের মহর্ষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ওই সময় প্রতিবেশীরা ভাবতেন আমি কট্টর হিন্দু। কিন্তু বাবা কোনও দিনই মূর্তি পূজায় বিশ্বাস করতেন না। আমরা কোনও দিনই যেতাম না মন্দিরে। বাড়িতে একটা গীতা ছিল ঠিকই, কিন্তু আমি বা আমার ভাইয়েরা কেউই সেটা কখনও পড়িনি। পানিপথে কেউ বাঁ হাতে রুটি খেলেও তখন তাকে ‘মুসলিম’ বলে হেয় করা হয়।’ শিবসেনার লোকজনদের কাছ থেকে ‘সম্মান’ পেয়ে তাদের ভালো লেগে যায় বলবীরের। শিবসেনাই তাকে অযোধ্যায় পাঠিয়েছিল বাবরি ভাঙতে। পাঠিয়েছিল বলবীরের বন্ধু যোগেন্দ্র পালকেও। তারা হয়ে যান করসেবক।

 মুহাম্মদ আমির জানিয়েছেন, বাবরি ভেঙে পানিপথে ফিরে যাওয়ার পর সেখানে তাকে ও যোগেন্দ্রকে তুমুল সংবর্ধনা জানানো হয়। তারা যে দু’টি ইট এনেছিলেন বাবরির মাথায় শাবল চালিয়ে, সেগুলি পানিপথে শিবসেনার স্থানীয় অফিসে সাজিয়ে রাখা হয়।

 কিন্তু বাড়িতে ঢুকতেই হুঙ্কার দিয়ে ওঠেন বলবীরের বাবা দৌলতরাম। মুহাম্মদ আমির বলেন, বাবা আমাকে বললেন, হয় তুমি এই বাড়িতে থাকবে, না হলে আমি। তো আমিই বেরিয়ে গেলাম বাড়ি থেকে। আমার স্ত্রীও বেরিয়ে এল না। থেকে গেল বাড়িতেই।

 ভবঘুরের মতো জীবন কাটিয়েছেন বলবীর। জানিয়েছেন, লম্বা দাড়িওলা লোক দেখলেই ভয়ে আঁতকে উঠতেন তখন। বেশ কিছু দিন পর বাড়িতে ফিরে জানতে পারেন, বাবা মারা গিয়েছেন। তিনি বাবরি ভাঙায় যে দুঃখ পেয়েছিলেন বাবা, তাতে তার মৃত্যু হয়েছে।

এরপর পুরনো বন্ধু যোগেন্দ্রের খোঁজখবর নিতে গিয়ে আরও মুষড়ে পড়েন বলবীর। জানতে পারেন, যোগেন্দ্র মুসলিম হয়ে গিয়েছেন। যোগেন্দ্র তখন বলবীরকে বলেছিলেন, বাবরি ভাঙার পর থেকে তার মাথা বিগড়ে গিয়েছিল। যোগেন্দ্রর মনে হয়েছিল পাপ করেছিলেন বলে সেটা হয়েছে। প্রায়শ্চিত্ত করতে গিয়ে তাই মুসলিম হয়ে যান যোগেন্দ্র।

 এরপর আর দেরি না করে সোনেপতে গিয়ে মৌলানা কালিম সিদ্দিকির কাছে মুসলিম ধর্মে দীক্ষা নেন বলবীর। হয়ে যান মুহাম্মদ আমির। ‘প্রায়শ্চিত্ত’ করতে কী কী করতে চান বলবীর সিং ওরফে মুহাম্মদ আমির? বলবীরের কথায়, ‘কম করে ভেঙে পড়া শ’খানেক মসজিদকে মেরামত করতে চাই।

কেমন উত্তরাধিকারী!‌-দৈনিক আজকাল

২৫ ডিসেম্বর অটলবিহারী বাজপেয়ীর ৯৩তম জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বললেন, পূর্বসূরি বাজপেয়ীজিই তাঁর আদর্শ। সেই পথেই তিনি দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিজেপি তথা এনডিএ–র প্রথম প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী। মোদি তাঁকে ‘আদর্শ’ মানলে বিস্ময়ের কিছু থাকার কথা নয়। কিন্তু, আছে। নরেন্দ্র মোদির ধরনধারণ বাজপেয়ী কখনও পছন্দ করেছেন বলে জানা যায় না। যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী করা হয় আরএসএস থেকে দলে–পাঠানো মোদিকে, প্রাথমিক আপত্তি জানান বাজপেয়ী। আরএসএস–এর চাপে এবং আদবানির উদ্যোগেই হয় অভিষেক। গুজরাটে গণহত্যার সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মোদিই। একতরফা দাঙ্গা থামানোর চেষ্টা করেননি। দৃঢ় অভিযোগ, তাঁর তত্ত্বাবধানেই রচিত হয়েছিল কলঙ্কের ইতিহাস। মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে মোদিকে সরানোর কথা বৈঠকে খোলাখুলি বলেন বাজপেয়ী। তখনও, লালকৃষ্ণ আদবানিই বাঁচিয়ে দেন (‌তার প্রতিদান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন আদবানিকে কার্যত বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে!‌)‌। গুজরাট গণহত্যার পর গুজরাটে গিয়ে, আমেদাবাদের শাহ আজম দরগায় দুর্গতদের সামনে ভাষণ দিতে গিয়ে বাজপেয়ী মোদির উদ্দেশে সরাসরি বলেন, ‘রাজধর্ম পালন করুন।’ মোদি–জমানায় দেশ জুড়ে অসহিষ্ণুতার অসংখ্য ঘটনা। প্রায় প্রতিদিন। কোনও ক্ষেত্রেই প্রতিক্রিয়া নেই প্রধানমন্ত্রীর। কার্যত সায়। বাজপেয়ীর সঙ্গে তুলনা? নির্বাচনী প্রচারে সাম্প্রদায়িক বক্তব্য পেশ করেন মোদি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন। কখনও করেননি বাজপেয়ী। নোটবন্দির মতো জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশবাসীকে পথে বসিয়েছেন মোদি। এমন কোনও অপকর্ম বাজপেয়ী করেননি। রাজনীতিক হিসেবে, মানুষ হিসেবে দু’জনের কোনও মিল নেই। বাজপেয়ীর আদর্শ মেনেই চলছেন, এটা ঘোর মিথ্যাচার। ‌‌‌

রাজ্যসভায় পেশ হচ্ছে না তিন তালাক বিল-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

অবশেষে তিন তালাক বিল নিয়ে সাময়িকভাবে পিছু হঠল কেন্দ্র। বিরোধীদের চাপের মুখে মঙ্গলবার রাজ্যসভায় নয়া বিলটি পেশ করেনি সরকার। গত বৃহস্পতিবার লোকসভায় পাশ হয় বিলটি। তবে রাজ্যসভায় বিরোধীদের পাল্লা ভারী হওয়ায় সাময়িক পিছিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের বলেই মনে করা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, নয়া বিলটি নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে সরকার। তারপর আগামীকাল মানে বুধবার রাজ্যসভায় পশ করা হবে বিলটি। যদিও প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই বিলকে সমর্থন জানিয়েছে। তবে বিলে কিছু পরিবর্তন আনার পরামর্শ ছিল কংগ্রেসের।

অর্থাৎ শর্তসাপেক্ষে সমর্থন জানিয়েছিল কংগ্রেস। একই সঙ্গে সমর্থন জানায় লেফট, এআইএডিএমকে ও ডিএমকে। তবে তারাও বিলটিতে বেশ কিছু সংশোধন আনার প্রস্তাব দিয়েছে। বিলটিকে সংসদের সিলেক্ট কমিটির কচ্চে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে তারা। সিলেক্ট কমিটির কাছে পাঠালে বিলটি পাশ হতে দেরি হতে পারে। তাই বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামীকাল বিলটি পাশ করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে মোদি সরকার।

নয়া বিল আইনে পরিণত হলে তিন তালাক মামলায় দোষীদের তিন বছরের জেল হতে পারে। এই ব্যবস্থা নিয়েই সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতারা। এদিকে এ নিয়ে আগেই বৈঠকে বসেছিল অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। তারা এই বিলের বিরোধিতা করেছে। বিল তৈরির সময় কোনও মৌলবির সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। তাই তাদের দাবি, এই বিল আসলে শরিয়তি আইনে হস্তক্ষেপ। উল্লেখ্য, শক্তিবৃদ্ধি করলেও রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল নয় বিজেপি। সেখানে কংগ্রেস ও বিজেপি উভয়ের দখলে রয়েছে ৫৭টা আসন। তবে বিজেডি ও এআইডিএমকে-র মতো শরিক দলের অবস্থানে কিছুটা চাপে গেরুয়া শিবির। তাই এবার আলোচনার পথেই চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২

২০১৮-০১-০২ ১৬:১৬ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য