সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন।১০ জানুয়ারি বুধবারের কথাবার্তার আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • ছাত্রলীগের নববর্ষ: দামি পিস্তল ও সস্তা জীবন-দৈনিক প্রথম আলো
  • আবারও একতরফা নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ-রিজভী-দৈনিক যুগান্তর
  • সাড়ে ৮ হাজার ভুয়া পিএইচডি’র তদন্তে দুদক-দৈনিক মানবজমিন
  • বিএসএমএমইউ ডাক্তারের বিরুদ্ধে রোগী ধর্ষণের অভিযোগে মামলা-দৈনিক ইত্তেফাক
  • আইনজীবীদের ভর্ৎসনা: তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৬ সাক্ষীর শাস্তির আবেদন খালেদার-দৈনিক নয়া দিগন্ত
  • বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা -দৈনিক ইনকিলাব

ভারতের শিরোনাম:

  • অসম তাড়ালে আশ্রয় দেবে বাংলা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী -দৈনিক আনন্দবাজার
  • কোষাগারে টান, বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তা, পরামর্শের সন্ধানে প্রধানমন্ত্রী নিজেই-দৈনিক আনন্দবাজার
  • মাও-উপদ্রুত জেলার বরাদ্দ নিয়ে সংঘাত, কেন্দ্রকে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত রাজ্যের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • পিছিয়ে পড়া ৫টি জেলা নিয়ে কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে-দৈনিক আজকাল

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে  শ্রদ্ধা নিবেদন

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ এই মহান নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এ খবরটি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার অনলাইন সংস্করণসহ প্রায় সব জাতীয় দৈনিকে পরিবেশিত হয়েছে। আর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এ দিবস উপলক্ষে আজ বলেছেন, স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও বিজয় সুসংহত হয় নি। 

আর প্রেসিডেন্টের বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক যুগান্তরে। তিনি পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বলেছেন,পুলিশকে আরও আন্তরিক হতে হবে। সেবা প্রদানের মাধ্যমেই বাংলাদেশ পুলিশ একটি সেবাধর্মী ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে, এটাই জনগণের প্রত্যাশা। 

আইনজীবীদের ভর্ৎসনা : তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৬ সাক্ষীর শাস্তির আবেদন খালেদার-দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের খবর

বকশিবাজারের অস্থায়ী বিশেষ আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ ছয় সাক্ষীর বিরুদ্ধে শাস্তির আবেদন করেছেন খালেদা জিয়া। জাল নথি তৈরি ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার অভিযোগ এনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ছয়জন সাক্ষীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার লিখিত আবেদন করেন তিনি। তাঁর পক্ষে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী আদালতে লিখিত আবেদন জমা দেন।

আবারও একতরফা নির্বাচনের ষড়ডন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ-দৈনিক যুগান্তর

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আবারও একতরফা করতে যড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা চালাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ জন্যই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আরও ১৪ মামলা বকশীবাজারে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘নতুন মামলাগুলো বকশীবাজারে স্থানান্তরের উদ্দেশ্য হল তাকে (খালেদা) প্রতিনিয়ত হয়রানির মধ্যে রাখা এবং অবিরামভাবে হেনস্তা করা’। বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ অভিযোগ করেন।

আওয়ামী দুঃশাসনে অশান্তির আগুনে ভেতরে ভেতরে মানুষ দগ্ধ হচ্ছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী সরকার বর্তমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানের হাইওয়ের দিকে না গিয়ে চক্রান্তের হদিস করে বেড়াচ্ছে। ক্ষমতার মোহে অন্ধের মতো এরা এখন সুপথের সন্ধান পাচ্ছে না। তাই বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়ে চক্রান্তে মেতে উঠেছে’। আওয়ামী লীগ নিজেদের বোনা চক্রান্তজালে নিজেরাই আটকা পড়বে। জনগণই রাজপথে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে’, বলেন তিনি

সাড়ে ৮ হাজার ভুয়া পিএইচডি’র তদন্তে দুদক-দৈনিক মানবজমিন

ভুয়া ডক্টরেট ডিগ্রিধারীদের ধরতে মাঠে নামছে দুদক

ভুয়া ডক্টরেট ডিগ্রিধারীদের ধরতে মাঠে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শুধু ডিগ্রিধারী নয়, যারা এ সনদ বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত তাদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ করছে সংস্থাটি। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের হিসেবে দেশে সাড়ে আট হাজারের মতো ব্যক্তি ভুয়া ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়েছেন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে। তাদের অনেকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। দুদক ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা  অধিদপ্তরের (ডিআইএ) কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে। তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা নেবে দুদকের এ সংক্রান্ত তদন্ত টিম। দুদকের একজন পরিচালক বলেন, সারা দেশের জাল সনদ নিয়ে দুদকের বড় একটি টিম কাজ করছে। জাল সনদের কাজ করতে গিয়ে প্রচুর ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রি ধরা পড়ছে। এ ডিগ্রি নিয়ে অনেকেই পদোন্নতি, আর্থিক সুযোগ নিচ্ছেন। এতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ খরচ হচ্ছে। এ জন্য এ সনদকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছি।

বিএসএমএমইউ ডাক্তারের বিরুদ্ধে রোগী ধর্ষণের অভিযোগে মামলা-দৈনিক ইত্তেফাক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এক চিকিত্সকের বিরুদ্ধে এক রোগীকে দফায় দফায় ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ওই চিকিত্সকের নাম মো. রিয়াদ সিদ্দিকী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন ও চর্ম বিশেষজ্ঞ বিভাগের কনসালট্যান্ট। এ ঘটনায় নির্যাতিতার বাবা বাদী হয়ে গত সোমবার শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।গতকাল মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রিপন কুমার বিশ্বাস ভুক্তভোগীকে আদালতে হাজির করেন। পরে ঢাকা মহানগর হাকিম নুরুন নাহার ইয়াসমিন তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এদিকে পুলিশ রিয়াদ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালিয়েছে। বর্তমানে রিয়াদ সিদ্দিকী পলাতক রয়েছে বলে শাহবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন চিকিত্সক বলছেন, ডা. রিয়াদ সিদ্দিক চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন নারী রোগীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান ইত্তেফাককে জানান, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছাত্রলীগের নববর্ষ: দামি পিস্তল ও সস্তা জীবন-দৈনিক প্রথম আলো

ইভার প্রতিবাদ

কোনো কোনো দেশে আইন আছে, সব তরুণকেই বাধ্যতামূলকভাবে কিছুদিন সামরিক সার্ভিসে যোগ দিতে হবে। বাংলাদেশে তেমন কোনো নিয়ম নেই। তবে, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর বাধ্যতামূলকভাবে ছাত্রলীগ করার ‘নিয়ম’ আছে। নবাগত শিক্ষার্থী হিসেবে আপনি যদি হলে সিট পেতে চান, সম্মান বাঁচিয়ে চলতে চান, তাহলে ছাত্রলীগের মিছিলে মাঝেমধ্যে যেতেই হবে। এইভাবে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে মিছিল করাত ইসলামী ছাত্রশিবির, এইভাবে মিছিল করাত বাংলাদেশ ছাত্রদল। নিজেদের সুদিনে ছাত্রলীগও সেই ধারা বজায় রেখেছে।

খ্রিস্টিয় নববর্ষ এসেছে সবার জীবনে। ছাত্রলীগের জীবনেও। তার জানান দিতে মিছিল করতে হবে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে। তা নিয়ে ছাত্রলীগের দু্ই পক্ষে দ্বন্দ্ব হবে। ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে অস্ত্রের মহড়ার জের ধরে সিলেটে নিহত হলেন ছাত্রলীগ কর্মী তানিম খান। প্রকাশ্যে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া ও তিন খুনের ঘটনায় জড়িত টিলাগড় ছাত্রলীগ। গত মঙ্গলবার নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে গুলি করে হত্যা করা হয় আরেক ছাত্রলীগ কর্মীকে। চট্টগ্রামেও দলীয় কোন্দলে ছাত্রলীগ নেতারা খুন হচ্ছেন। অভিযোগ দলীয় কর্মীর বিরুদ্ধে এবং হত্যার অস্ত্র প্রায়শই পিস্তল। গত শুক্রবারের প্রথম আলোয় সিলেটের পিস্তলধারী ছাত্রলীগ নেতার ছবি ছাপা হয়েছে। এভাবে নিহত হওয়ার জন্য কিংবা হত্যা করার জন্য নতুন মুখ চাই। মিছিলের দৈর্ঘ্য বাড়ানোর জন্যও নতুন মুখ চাই। পিস্তল কেনার জন্যও অনেক টাকা চাই। নেতা হওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন নেতার ভালবাসা চাই। খেলা চলতে থাকে, খেলারামরা খেলে যান।

বনেদি ও প্রাচীন ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগের মিছিল করা তো গৌরবের ব্যাপার। সংগঠনটির ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মিছিলে যোগ দেওয়ার সেই গৌরব থেকে কেউ যেন বঞ্চিত না হয়, সে জন্য দেশব্যাপী ব্যাপক মিছিল-সমাবেশের আয়োজন করা হয়। কক্সবাজার শহরে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর অভূতপূর্ব মিছিল হওয়ার সংবাদ দেখেছি। সেসব মিছিলে ‘বাধ্যতামূলক’ আনন্দে শামিল হতে হয়েছে অনেককেই। যেখানে প্রতিবাদ করা বৃথা সেখানে, মানে ছাত্রাবাস নামক মুরগির খোঁয়াড়ে এসব মেনে নেওয়াই নিয়ম। এই নিয়ম সব ছাত্রাবাসে মোটামুটি চালু রয়েছে।

নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীর জোগান যত দিন থাকবে, আর যত দিন থাকবে রাষ্ট্রক্ষমতার মদদ, তত দিন নতুন মুখের অভাব পড়বে না। কিন্তু ভেড়ার পালে আরেকটি ভেড়া হতে চাননি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আফসানা আহমেদ ইভা। ছাত্রলীগের মিছিলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ মানেননি বিধায় তাঁকে হল থেকে বের করে দিয়েছেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ রকম ঘটনা নিয়মিতই ঘটে। ইভাকে তাঁরা বের করে দিয়েছেন তীব্র শীতের রাতে। প্রাধ্যক্ষ ও প্রক্টরকে ফোন দিয়ে সাড়া পাননি এই ছাত্রী। স্মরণকালের তীব্র শীতে লেপ-কম্বলের উষ্ণতা থেকে বের না-হওয়ায় তাঁদের দোষ দেওয়া যায় না। জীবনটা তো একটু উষ্ণতার জন্যই নিবেদিত, সেই উষ্ণতা ক্ষমতারও। সারা রাত হলের ফটকের সামনে শীতে কাঁপতে হয়েছে তাঁকে। কারণ, তিনি যে সংগঠন করেন, সেই সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ক্ষমতার উষ্ণতা থেকে কিছুটা দূরে।

ইভা যা পেরেছেন, তা কোনো সাধারণ ছাত্রছাত্রীর পক্ষে পারা কঠিন। আদর্শ ও নীতিনিষ্ঠতা মানুষকে সাহস দেয়। ইভা সাহসী হয়েছেন। কিন্তু কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীকে দেখা গেল না তাঁর পাশে দাঁড়াতে। এক ইভার শীতার্ত নিঃসঙ্গতা থেকে বোঝা যায়, কতটা ভয়ের হিমে জমে অনেকের চেতনাই বরফ হয়ে গিয়েছে। ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ওয়ালিদ আশরাফ উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আমরণ অনশন করেছিলেন, তখনো তাঁকে একাই বসে থাকতে হয়েছে। হলে থাকা কোনো শিক্ষার্থীর সাহস হয়নি তাঁর পাশে বসার। অবশ্য অনেকে গোপনে এসে সংহতি খাতায় সংহতি জানিয়ে গেছেন—তবে হল বা বিভাগের পরিচয় গোপন করেই। জানতে পারলে হলের সিট বাতিল হতে পারে, বেয়াদবির শারীরিক শাস্তিও বিরল নয়। শিক্ষাঙ্গনে নিঃসঙ্গ প্রতিবাদই বুঝিয়ে দেয়, সাহস দেখানো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।

ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে বের করে দেওয়ার ঘটনাটায় কোনো নতুনত্ব নেই। স্বাধীন বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনের চেহারাছবিই এই। হেন কোনো ক্যাম্পাসের হেন কোনো আবাসিক ছাত্রছাত্রী নেই, যাঁদের প্রথম বর্ষে এ রকম বাধ্যতামূলক মিছিল করতে হয় না। সেই নীরব নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে তাঁদের অনেকের আত্মবিশ্বাস কমে যায়, তাঁদের স্বাধীন ইচ্ছার ব্যক্তিত্ব এমন বেঁকে যায়, সারা জীবনে আর সোজা হয় না। এইভাবে রাজনৈতিক দলে কর্মীর জোগান চলতেই থাকে, আনুগত্যের আর দাসত্বের প্রজন্ম তৈরি হতেই থাকে। জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টা এভাবে ভয়ে বা প্রতাপে কাটানোর দুর্ভাগ্য আমাদের শেষ হয় না। এভাবেই উজ্জীবিত তরুণেরা বদলে ‘নিরীহ’ হয়ে যায়। দিনবদলের এই অতিমানবিক কাহিনি সংবাদমাধ্যমে কমই আসে।

এবার কোলকাতার দৈনিকগুলোর কয়েকটি খবরের বিস্তারিত

অসম তাড়ালে আশ্রয় দেবে বাংলা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী -দৈনিক আনন্দবাজার

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী

পড়শি রাজ্য থেকে বাঙালিদের খেদিয়ে দেওয়া হচ্ছে— এই অভিযোগ আগেও তুলেছিলেন। সেই বিবৃতির পরে তাঁর বিরুদ্ধে অসমে এফআইআর-ও হয়। মঙ্গলবার কামাখ্যাগুড়িতে এক সভায় দাঁড়িয়ে ফের একই প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অসম থেকে যদি কোনও বাঙালি বিতাড়িত হয়ে এই রাজ্যে আসে, তা হলে আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলা তাঁদের আশ্রয় দেবে।

অসমের সাম্প্রতিক নাগরিকপঞ্জিতে দীর্ঘদিন বসবাসকারী অনেকের নাম না থাকার কথা বলে এ দিনও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘‘এটা কী হচ্ছে! অসমে ৩ কোটি ৩৯ লক্ষের নাগরিকপঞ্জি তৈরির কথা। অথচ ১ কোটি ৩৯ লক্ষের নাম নেই। এটা মানব না আগেই বলেছি। কারণ, এক রাজ্যের মানুষ আর এক জায়গায় থাকবেন, এটা আমাদের স্বাধীনতা। তাই এ বার বলছি, অসম থেকে কেউ এলে আশ্রয় দেব।’’ এর পরে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘অসম থেকে কেউ অত্যাচারিত হয়ে এলে আশ্রয় দেবেন। ভালবাসবেন। এটাই বাংলার সংস্কৃতি।’

কোষাগারে টান, বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তা, পরামর্শের সন্ধানে প্রধানমন্ত্রী নিজেই-দৈনিক আনন্দবাজার

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

‘অচ্ছে দিন’-এর স্বপ্নপূরণ দূরের কথা, নরেন্দ্র মোদীর জমানায় কমতে শুরু করেছে আর্থিক বৃদ্ধি। অথচ লোকসভা ভোটের বেশি দেরি নেই। এই অবস্থায় এখন অর্থনীতিবিদদের উপদেশ চাইছেন মোদী।

অথচ নোট বাতিল এবং সরকারের আর্থিক নীতির সমালোচনা করায় এই মোদী এবং তাঁর দলের নেতা-মন্ত্রীরাই কয়েক মাস আগেও অর্থনীতিবিদদের একাংশকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। এখন অর্থনীতিবিদ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চাইছেন মোদী নিজেই! বুধবারই এঁদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন তিনি। লক্ষ্য, অর্থনীতির হাল শোধরানোর উপায় সন্ধান। সরকারি ভাষায়, ‘আর্থিক নীতির ভবিষ্যতের রূপরেখা’। বাজেটের আর এক মাসও বাকি নেই। তার ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রী নিজেই অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন দেখে আরেকটি প্রশ্নও উঠেছে। তা হল, মোদীর কি তা হলে অরুণ জেটলির উপর আর আস্থা নেই?

মাও-উপদ্রুত জেলার বরাদ্দ নিয়ে সংঘাত, কেন্দ্রকে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত রাজ্যের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

এবার মাও-উপদ্রুত জেলাগুলিতে উন্নয়ন খাতে ররাদ্দ নিয়ে কেন্দ্র-সংঘাত প্রকাশ্যে চলে এল৷ সূত্রে খবর, রাজ্যকে চিঠি দিয়ে কেন্দ্র জানিয়েছে, এবছর রাজ্যে মাও উপদ্রুত পাঁচটি জেলার জন্য উন্নয়নে মাত্র ১ কোটি টাকা করে বরাদ্দ করা হবে৷ মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কেন্দ্রে দেওয়া ওই টাকা নেবে না রাজ্য সরকার। মাও উপদ্রুত জেলার উন্নয়নে বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদে কেন্দ্রকে চিঠিও পাঠাবে নবান্ন৷#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১০
 

২০১৮-০১-১০ ১৫:৪৭ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য