সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন।১১ জানুয়ারি বৃহষ্পতিবারের কথাবার্তার আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম: 

  • উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক মানবজমিন
  • আদালতকে আইনজীবী-খালেদা ন্যায়বিচার চান, ন্যায়বিচার করুন-দৈনিক প্রথম আলো
  • এক-এগারো আর আসবে না, আসতে দেয়া হবে না : কাদের-দৈনিক যুগান্তর
  • পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর মিথ্যাচার রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল: মির্জা ফখরুল-দৈনিক ইনকিলাব
  • সাংবাদিক নেতাদের উদ্বেগ : ডিআইজি মিজানকে আইনের আওতায় আনার দাবী-দৈনিক নয়া দিগন্ত
  • সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ-দৈনিক ইত্তেফাক

ভারতের শিরোনাম:

  • আধার আদৌ নিরাপদ তো? সংশয় আরও বাড়ল-দৈনিক আনন্দবাজার
  • অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুর পরে ১৮ লাখ টাকা বিল করল হাসপাতাল-দৈনিক আজকাল
  • ১০০০ টাকা চুরির অপবাদে দুই ছাত্রীকে নগ্ন করে তল্লাশি-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী-১০ উদ্যোগে দেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে-দৈনিক যুগান্তর/মানবজমিন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)

সারাদেশে  ৩ দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে বর্তমান সরকার। এ জন্য ১০টি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

গণভবনে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশজুড়ে এ  মেলার উদ্বোধন করেন তিনি বলেন,   বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ ঘর পাবে, চিকিৎসাসেবা পাবে, প্রতিটি মানুষ আলোকিত হবে। এগুলোই ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন। এজন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

এক-এগারো আর আসবে না, আসতে দেয়া হবে না : কাদের-দৈনিক যুগান্তর

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশে আর এক-এগারো আসবে না এবং আসতে দেয়া হবে না। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর সভাশেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

কাদের বলেন, বিএনপি এক-এগারো থেকে শিক্ষা নেয়নি। তারা এখনও ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে চায়। অরাজকতা করে ক্ষমতায় আসতে চায়। নৌকার গণজাগরণ দেখে তারা এখন হতাশ। সরকারের সফলতা আছে, ব্যর্থতাও আছে। তবে আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নিই বলে জানান সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আদালতকে আইনজীবী-খালেদা ন্যায়বিচার চান, ন্যায়বিচার করুন-দৈনিক প্রথম আলো

বিশেষ আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার সমস্ত সাক্ষ্য–প্রমাণ পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই দুর্নীতি দমন কমিশন প্রমাণ করতে পারেনি। ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে না পারলে এর সুবিধা পাবেন আসামি। তিনি আদালতকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার চান, ন্যায়বিচার করুন।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নবম দিনে খালেদা জিয়ার পক্ষে আজ মধ্যাহ্ন বিরতির আগে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার।

পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর মিথ্যাচার রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল: মির্জা ফখরুল-দৈনিক ইনকিলাব ও  যুগান্তর

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে যে মিথ্যাচার করেছেন তা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। এ জন্য আদালতে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য রাজনৈতিক বিভেদ সৃষ্টি করবে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের অপচেষ্টা করছে সরকার। আগামী জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্র করে বিএনপি চেয়ারপারসনকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল

সাংবাদিক নেতাদের উদ্বেগ : ডিআইজি মিজানকে আইনের আওতায় আনার দাবি

ডিআইজি মিজানকে আইনের আওতায় আনার দাবি সাংবাদিক নেতাদের

পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান কর্তৃক দুই সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। অবিলম্বে তাঁর লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জব্দ ও আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন- বিএফইউজে’র সভাপতি শওকত মাহমুদ ও মহাসচিব এম আবদুল্লাহ এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। 

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এক নারীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ, ধর্ষণ ও পরে জবরদস্তিমুলকভাবে বিয়ে করাসহ চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারিতে আলোচিত ডিএমপি’র সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার ও বর্তমানে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত ডিআইজি মিজানুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী রিপোর্ট করায় দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক নেসারুল হক খোকন ও যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি আবদুল্লাহ তুহিনকে হত্যার হুমকি দিয়ে চরম ধৃষ্টতা ও ঔদ্ধত্যের পরিচয় দিয়েছেন। সাংবাদিক সমাজ মনে করে, গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ করা সত্বেও তাকে আইনের আওতায় না আনায় অপরাধ আড়াল করার জন্য তিনি নানা অপতৎপরতায় জড়িয়ে পড়ছেন এবং দু’জন পেশাদার সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়ার মত দুঃসাহস দেখাচ্ছেন। আর এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাকে আইনের আওতায় এনে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করা সময়ের দাবি।

শর্ত সাপেক্ষে ৯৮ হাজার পিস কম্বল দিলো সরকার-দৈনিক মানবজমিন

অধিক শীতপ্রবন ২০ জেলায় শর্তসাপেক্ষে ৯৮ হাজার পিস কম্বল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এছাড়া, আশি হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে দেয়া হয়েছে। গত ৮ই জানুয়ারি এসব বরাদ্দ জেলা প্রশাসক (ডিসি)দের অনুকূলে পাঠানো হয়েছে। কম্বল ও শুকনো খাবার বরাদ্দ সংক্রান্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আদেশে বলা হয়েছে, সাধারণভাবে দুস্থ ও অতিদরিদ্র ব্যক্তি পরিবার যারা প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র কিনতে পারে না এবং শীত প্রধান এলাকার শীতার্ত ব্যক্তি/পরিবার, যাদের পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই, তাদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে কম্বল/শীতবস্ত্র বিতরণ করতে হবে।

সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ-ইত্তেফাক

সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির হাজার খানেক শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তারা এই বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভকৃত শিক্ষার্থীদের দাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজেদের কলেজের পরিচয় না দিয়ে ঢাবি'র পরিচয় দিয়ে নানা অনৈতিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে। এতে ঢাবি'র শিক্ষার্থীদের সুনামহানী ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

এবার কোলকাতার দৈনিকগুলোর কয়েকটি খবরের বিস্তারিত

অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুর পরে ১৮ লাখ টাকা বিল করল হাসপাতাল-দৈনিক আজকাল

মৃত রোগীর পরিবারের কাছে ১৮ লাখ টাকার বিল ধরিয়ে দিল এক হাসপাতাল

প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বছর বত্রিশের অন্তঃসত্ত্বা মহিলা। ৮–১০ দিন আইসিইউতে থাকার পর ফরিদাবাদের এশিয়ান হাসপাতাল জানায় তাঁর গর্ভস্থ শিশুকে বাঁচানো যাবে না। মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য প্রথমের অন্তঃসত্ত্বার পরিবার ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা দেয়। তারপরে আরও টাকা দাবি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।  মহিলার মৃত্যুর পরে ১৮ লাখ টাকা বিল ধরায় হাসপাতাল। সেইসঙ্গে চিকিৎসকরা জানান অস্ত্রোপচারের পরে তাঁর সারা শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। সেকারণেই অন্তঃসত্ত্বাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। 

এরপরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ জানায় মৃতার পরিবার। মাত্র ২২ দিন চিকিৎসার পর কীভাবে এত টাকা বিল হতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

১০০০ টাকা চুরির অপবাদে দুই ছাত্রীকে নগ্ন করে তল্লাশি-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

টাকা চুরির অভিযোগে দুই ছাত্রীকে নগ্ন করে তল্লাশি

১০০০ টাকার চুরির অভিযোগ। আর এর এই অভিযোগের ভিত্তিতেই কিনা একাদশ শ্রেণির দুই ছাত্রীকে নগ্ন করে তল্লাশির অভিযোগ উঠল স্কুলের দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। মধ্যপ্রদেশের আলিরাজপুর জেলার একটি সরকারি স্কুলে ঘটা এই ঘটনায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য।

জানা গিয়েছে, গত ৮ জানুয়ারি ঘটনাটি ঘটেছে। নিজের ১০০০ টাকা চুরি যাওয়ার অভিযোগ করে এক পড়ুয়া। তখনই গোটা ক্লাসের সামনেই তাদের তল্লাশি করা হয়। কিন্তু কিছু না পাওয়া যাওয়ায় তাদের দু’জনকে অন্য একটি ঘরে নিয়ে যান ওই দুই শিক্ষিকা। সেখানে দু’জনকে পুরোপুরি নগ্ন করে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু চুরি যাওয়া টাকা পাওয়া যায়নি। স্কুল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানেই ওই ছাত্রীকে নগ্ন করে তল্লাশি করা হয়েছে বলে খবর। তারা টাকা চুরি করেনি, এই মর্মে বারবার শিক্ষিকাদের অনুরোধও করে ছাত্রীরা। কিন্তু ওই শিক্ষিকারা ছাত্রীদের কথায় কোনওরকম কর্ণপাত করেনি।

খবরটি জানতে পেরেই মঙ্গলবার রাতে দুই ছাত্রীর পরিবার জোবাট থানায় অভিযোগ দায়ের করে। সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক ছাত্রী জানায়, ‘স্কুলে তখন টিফিন পিরিয়ড ছিল। সে সময় আমি এবং আমার বন্ধু ছাড়া আর কেউ ক্লাসরুমে ছিল না। আমরা দু’জনে টিফিন খাচ্ছিলাম। তখনই এক সহপাঠী ক্লাসে আসে। জানায়, তার ব্যাগে ১০০০ টাকা ছিল, কিন্তু এখন আর নেই। এরপরই সে আমাদের দু’জনের উপর দোষ চাপায়। এরপর দু’জন শিক্ষিকা আসেন ও আমাদের দু’জনের ব্যাগ চেক করেন। কিন্তু কিছু না পেয়ে তাঁরা আমাদের দু’জনকে পাশের একটি ঘরে নিয়ে যান। সেখানে আমাদের নগ্ন হতে বলা হয়। আমরা অনেক কাকুতিমিনতি করি। কিন্তু আমাদের কথা শোনেননি তাঁরা।’ যদিও ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রভু পাওয়ার। তবে পুলিশ পুরো ব্যাপারটিরই তদন্ত করছে।

আধার আদৌ নিরাপদ তো? সংশয় আরও বাড়ল-দৈনিক আনন্দবাজার

আধার কার্ড

কথায় আর কার্যকলাপে ফারাক হয়ে যাচ্ছে বড্ড। ফলে বিশ্বাস রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আধার প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ যা বলছেন এবং বাস্তবে যা করছেন, তাতে বিস্তর ফারাক। প্রকাশ্য এবং পরিস্ফুট দ্বিচারিতা চলছে— এমন ধারণা অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাবেই তৈরি হচ্ছে। আর তার কারণ খুঁজতে গেলে ধরা পড়ছে আত্মবিশ্বাসের অভাব।

দ্বাদশ অঙ্কের আধার নম্বরে আর থেমে থাকতে চায় না সরকার। এ বার ষোড়শ অঙ্কের ‘বর্ম’ তৈরি হচ্ছে। নিজের পরিচয়ের প্রমাণ দাখিল করার জন্য কোনও সংস্থাকে বা কোনও কর্তৃপক্ষকে নিজের আধার নম্বর জানাতে যাঁরা দ্বিধান্বিত, তাঁদের জন্যই নাকি এই বন্দোবস্ত। আধার কার্ড রয়েছে যাঁদের, তাঁরা আধার কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে ঢুকে নিজেরাই জোগাড় করে ফেলতে পারবেন সেই ‘পরাবাস্তব’ ষোড়শ অঙ্ক। সে সংখ্যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাস্তব পরিচয়ের প্রমাণটুকু দিয়ে দেবে। কিন্তু বাস্তব আধার নম্বরটি গোপন থাকবে। এমনই এক বন্দোবস্তের কথা জানানো হয়েছে।

প্রথম প্রশ্ন হল, দ্বাদশ অঙ্কের আধার নম্বরটিকে লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা দরকার, এমনটা আধার কর্তৃপক্ষের মনে হল কেন? আধার নম্বরকে কাজে লাগিয়ে যে নাগরিকের নিতান্ত ব্যক্তিগত তথা গোপনীয় তথ্য হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব, সে কথা বহু বার বহু মুখ থেকে শোনা গিয়েছে। নানা মহল থেকে, নানা শিবির থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। নাগরিক তাঁর নিতান্ত ব্যক্তিগত পরিসর সংক্রান্ত বিষয়ে যে গোপনতা বজায় রাখতে চান, আধার সেই গোপনতাকে নষ্ট করছে— এমন অভিযোগ বার বার উঠেছে। আর আধার কর্তৃপক্ষ তথা সরকার বার বার জোর গলায় বলেছেন, গোপনতার অধিকারকে কোনও ভাবে ক্ষুণ্ণ করছে না আধার, গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার মতো কোনও রন্ধ্র রাখছে না আধার।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১১

২০১৮-০১-১১ ১৫:৪৪ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য