সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন।১২ জানুয়ারি শুক্রবারের কথাবার্তার আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম: 

  • রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না: সুজন-দৈনিক মানবজমিন
  • বস্তাভর্তি টাকা নিয়ে উধাও ভূমি কর্মকর্তা-দৈনিক প্রথম আলো
  • রাজনীতিবিদরা ভাল হলে পুলিশও ভাল হবে: ওবায়দুল কাদের-দৈনিক যুগান্তর
  • খালেদা জিয়ার বিচার ক্যামেরা ট্রায়ালে -নবম দিনের যুক্তিতর্কে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ-দৈনিক ইনকিলাব
  • সিনহার পদত্যাগ কতটা প্রভাব ফেলবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে?-দৈনিক নয়া দিগন্ত
  • সরকারের চতুর্থ বর্ষ পূর্তি আজ-দৈনিক ইত্তেফাক

ভারতের শিরোনাম:

  • জীবন পূর্ণ হল, ডিলিট নিয়ে বললেন মমতা-দৈনিক আনন্দবাজার
  • নজিরবিহীন: সুপ্রিম কোর্টে কার্যত বিদ্রোহ চার বিচারপতির -দৈনিক আজকাল
  • ধর্ষণ করে মহিলারাও, তাদের সাজা নয় কেন? প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টে-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

এবং আমি মুজাহিদুল ইসলাম

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

ঢাকায় সন্দেহজনক জঙ্গি আস্তানায় র‍্যাবের অভিযান

ঢাকার তেজকুনিপাড়া ও নাখালপাড়া সীমান্তে অবস্থিত সন্দেহজনক জঙ্গি আস্তানা ‘রুবি ভিলায়’র‍্যাবের অভিযান সম্পর্কিত খবরটি আজকের দৈনিক প্রথম আলো,যুগান্তর, ইত্তেফাকসহ প্রায় সব জাতীয় দৈনিকের অনলাইন সংস্করণ এবং অনলাইন পোর্টালগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশিত হয়েছে। খবরটিতে বলা হয়েছে, সেখানে তিন যুবকের লাশ পাওয়া গেছে। র‍্যাব বলছে, নিহত তিনজনই জঙ্গি। অভিযান চলাকালে তাঁরা গ্যাসের চুলায় গ্রেনেড রেখে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করেছেন। দৈনিকগুলো লিখেছে, এক সপ্তাহ আগে ভুয়া এনআইডি দিয়ে বাসা ভাড়া নেয় ওই জঙ্গিরা।

সরকারের চতুর্থ বর্ষ পূর্তি আজ-ইত্তেফাক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারের চতুর্থ বর্ষপূর্তি আজ। অর্থনীতি, অবকাঠামো, কূটনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনের মধ্যদিয়ে সাফল্যের সঙ্গে দেশ পরিচালনা করে পঞ্চম ও শেষ বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে সরকার। গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক ধারা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে ২০১৪ সালের পাঁচ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১২ জানুয়ারি সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে টানা ৯ বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে সব সূচকে অগ্রগতি, সাফল্যে আর উন্নয়নের পতাকা উড়িয়েই আজ ৯ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে স্থাপিত করেছে শেখ হাসিনার সরকার।

বর্তমান সরকারের ৯ বছর অনেকটাই নির্বিঘ্নে কেটেছে। এ সময়ে সরকারকে ঘরে-বাইরে নানা সংকট মোকাবেলা করতে হলেও শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিজয়ের হাসি এসেছে।

খালেদা জিয়ার বিচার ক্যামেরা ট্রায়ালে -নবম দিনের যুক্তিতর্কে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ দৈনিক ইনকিলাব

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বকশিবাজারের বিশেষ অস্থায়ী আদালতে

ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার বিচার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক আইনমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। আর ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার  বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি দুদক। আজকের যুক্তি উপস্থাপন শেষে দুটি মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি দিন ধার্য করে আদালত। 

বস্তাভর্তি টাকা নিয়ে উধাও ভূমি কর্মকর্তা-দৈনিক প্রথম আলো

বস্তাভর্তি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেল ভূমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা

জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের প্রায় ১৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে গেছেন সরকারের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সেতাফুল ইসলাম। এর মধ্যে পরপর দুই দিনে তিনি সোনালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখা থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা তুলে বস্তায় ভরে নিয়ে গেছেন।

এর আগে তিনি প্রায় আট কোটি টাকা সরিয়ে নেন। এ ছাড়া আরও ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের জন্য ব্যাংক চেক তৈরি করেছিলেন। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি পালিয়ে যান। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেতাফুল ইসলামের আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ অর্ধশত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

সেতাফুল ইসলামের মুঠোফোন বন্ধ। তাঁকে খুঁজে না পেয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) বিভাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

রাজনীতিবিদরা ভাল হলে পুলিশও ভাল হবে: ওবায়দুল কাদের-দৈনিক যুগান্তর

সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রাজনীতিবিদরা ভাল হলে পুলিশও ভাল হবে। রাজনীতিকরা চাঁদাবাজি করে বলে পুলিশওচাঁদাবাজি করে। কে কত চাঁদা পান, কে কত মাসোয়ারা নেন সে তথ্য আমার কাছে রয়েছে।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা নিজেদের পছন্দমত ওসি খোঁজেন, এসপি খোঁজেন। ওসি, এসপি কথা না শোনলে তাকে পরিবর্তন করতে উঠে পড়ে লেগে যান। রাজনীতিবিদদের এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

সুজন এর গোলটেবিল বৈঠক-রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না: -দৈনিক মানবজমিন

সুজনের গোলটেবিল বৈঠক

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। একই সঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে নির্বাচনকালীন সরকার ও সংসদ ভেঙে দেয়ার ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐকমত্যে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন সুজন নেতৃবৃন্দ। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘রংপুরের সফল নির্বাচনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে সুজন নেতৃবৃন্দ এ আহ্বান জানান। গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে এবং নির্বাচনকালীন সরকার ও সংসদ ভেঙে দেয়া সম্পর্কে একটি ঐকমত্যে না পৌঁছলে, আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে তার নিশ্চয়তা কোনোভাবেই দেয়া যায় না।

এদিকে দৈনিক যুগান্তরের একটি খবরে লেখা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীল সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারক্যলাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আজ মিটফোর্ডে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি আছে। বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নির্বাচনী মাঠ থেকে গতবার পালিয়ে গেছেন। দয়া করে এবার পালাবেন না।

ঐতিহ্য সংরক্ষণের আড়ালে সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি-দৈনিক ইত্তেফাক

ঢাকার শতাধিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ধ্বংস

ঢাকার শতাধিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ধ্বংস, ঢাকার ঐতিহ্য রক্ষার নামে চলছে সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি। একদিকে অযত্ন, অবহেলা আর তদারকির অভাব অন্যদিকে লাগামহীন দুর্নীতি এবং অনিয়মের কারণে গত ৮ বছরে রাজধানীর বুক থেকে হারিয়ে গেছে ১৮টি সরকারি তালিকাভুক্ত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। এসব স্থাপনা ধ্বংস করে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল ভবন। সব মিলিয়ে গত চার দশকে ধ্বংস হয়েছে শতাধিক স্থাপনা। রাজউক, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। মাত্র ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকায় মিলছে সংস্কার অনুমতি, সেখানে আদালতের নির্দেশও উপেক্ষিত হচ্ছে।

এবার কোলকাতার দৈনিকগুলোর কয়েকটি খবরের বিস্তারিত

নজিরবিহীন ঘটনা: সুপ্রিম কোর্টে কার্যত বিদ্রোহ চার বিচারপতির-দৈনিক আজকাল

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটালেন সুপ্রিম কোর্টের চার বিচারপতি। দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে প্রকাশ্যে আঙুল তুললেন দেশের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বিরুদ্ধে। শীর্ষ আদালতে মামলা বণ্টন, বিচারপতিদের নিয়োগ থেকে শুরু করে আরও নানান বিষয়ে গরমিলের অভিযোগ তুললেন এঁরা। মুখ খুললেন ‘বিচারবিভাগের ভিতরে দুর্নীতি’ নিয়েও।

সাম্প্রতিক অতীতে কলকাতা হাইকোর্টের তত্কালীন প্রধান বিচারপতি সিএস কারনানের ঘটনা শোরগোল ফেলে দিয়েছিল গোটা দেশে। বিচারপতিদের দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে, জেল পর্যন্ত খাটতে হয়েছে কারনানকে। এ দিনের ঘটনা ধারে এবং ভারে তাকেও ছাপিয়ে গেল।

ধর্ষণ করে মহিলারাও, তাদের সাজা নয় কেন? প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টে-দৈনিকসংবাদ প্রতিদিন

চিরাচরিত প্রথা পালটে এবার পুরুষদের যৌন নির্যাতনের কথা সুপ্রিম কোর্টে তুলে ধরলেন এক আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, যৌন নিগ্রহ, পিছু নেওয়ার মতো অপরাধে জড়িত থাকে মেয়েরাও। সেক্ষেত্রে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হোক। এই মর্মে শীর্ষ আদালতে একটি জনস্বার্থ মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টেরই আইনজীবী ঋষি মালহোত্রা।

দাখিল করা পিআইএল-এ ওই আইনজীবী বলেন, ধর্ষণ ও যৌন নিগ্রহের মতো অপরাধে মহিলাদের মত পুরুষরাও একইভাবে নির্যাতিত হতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাঁদের ন্যায় পাইয়ে দেবে কে? বর্তমান আইনে, যদি কোনও পুরুষ কোনও মহিলার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিগ্রহের অভিযোগ করেন, তবে সেই মহিলার বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এর কারণ মান্ধাতা আমলের প্রায় ১৫৮ বছরের পুরনো ভারতীয় দণ্ডবিধির বিশ্বাস, মহিলারা এহেন অপরাধ করতে পারেন না। তাই অনেক ক্ষেত্রে আইনের ফাঁক গলে পার পেয়ে যায় অপরাধীরা।

জীবন পূর্ণ হল, ডিলিট নিয়ে বললেন মমতা-দৈনিক আনন্দবাজার

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর সম্মানজনক ডিলিট ডিগ্রি  লাভ

তিনি নিজে মনে করেন, তিনি এর যোগ্য নন। কিন্তু এই সম্মান তাঁর জীবনকে পূর্ণ করে দিল। বৃহস্পতিবার  আচার্য কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর হাত থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ডিলিট গ্রহণ করে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ক’মাস আগে যখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মুখ্যমন্ত্রীকে সাম্মানিক ডিলিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন, বিতর্ক শুরু হতে দেরি হয়নি। কেন মুখ্যমন্ত্রীকে ডিলিট দেওয়া হবে, কী তার উদ্দেশ্য, তাই নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়। হাইকোর্টে এ নিয়ে মামলাও চলছে। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী যে নিজেও বিব্রত ছিলেন, সেটা এ দিন তাঁর কথায় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ডিলিট পাওয়ার পরে দীক্ষান্ত ভাষণে মমতা বলেন, তাঁর জীবনটাই অবহেলার, অসম্মানের। এমনকী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যখন তাঁকে এই সম্মান দেওয়ার চেষ্টা করছেন তা নিয়েও তাঁকে কম অসম্মান করা হয়নি। তিনি আদৌ এ দিন এই সম্মান গ্রহণ করতে আসবেন কি না, তা নিয়ে দোটানায় ছিলেন।

মমতার কথায়, ‘‘আসার আগে আজকে পার্থদাকে (শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়) বলছিলাম, আমার মনের মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব হচ্ছে যাব কি যাব না। আমি সে সব জায়গায় যেতে চাই যেখানে মিনিমাম সম্মানটুকু পাওয়া যায়। যেখানে সম্মান পাওয়া যায় না সেখানে যেতে চাই না। সমাবর্তন শেষে পার্থবাবুও একই সুরে জানান, এই ডিলিট নিয়ে যে ভাবে নানা জনে নানা কথা বলছেন তাতে মুখ্যমন্ত্রী আহত। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘আজ সকালে উনি খুবই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। আমি বলি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ এই সম্মান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আচার্য তথা রাজ্যপাল তা অনুমোদন করেছেন। সকলে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।

তবে শেষ পর্যন্ত সমাবর্তনে এসে যে তাঁর খুবই ভাল লেগেছে, সেটা অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই পরিষ্কার। তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বাস করুন আমি কিন্তু ডিগ্রিটা কোনও দিন ব্যবহার করব না। আপনারা আমাকে সাম্মানিক দিয়েছেন, সেটা সাম্মানিকই থাকবে। কিন্তু আপনারা আমার জীবনকে পূর্ণ করে দিয়েছেন।এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাক্তন ছাত্রী তিনি। কখনও ভাবেননি, এ ভাবে এক দিন সমাবর্তনে ভাষণ দেবেন। আগেও তাঁকে অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে এ ধরনের সম্মান দিতে চেয়েছিল। তিনি রাজি হননি। ‘‘আমি ক্ষুদ্র মানুষ। আমার এ সবের যোগ্যতা নেই বলেই গ্রহণ করিনি...সারা জীবন লড়াই করতে করতে, মরতে মরতে একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি।’#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১২

 

২০১৮-০১-১২ ১৬:০০ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য