ইসলামী ইরানের বিজ্ঞানীরা মহাকাশ প্রযুক্তিতে এতোটা অগ্রসর হয়েছেন যে তাদের দৃঢ় ইচ্ছা ও সংকল্পের সুবাদে ইসলামী এই দেশ মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।

মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর ক্ষেত্রে ইরান বিশ্বের নবম দেশ হওয়ার গৌরবের অধিকারী। ইরানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা দশ বছরের প্রচেষ্টা ও গবেষণার পর এই সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে ইসলামী ইরান মহাশূন্য গবেষণায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম স্থানে এবং বিশ্বে একাদশতম অবস্থানে রয়েছে। ইসলামী ইরান মহাশুন্যে বানরসহ জীবন্ত নানা প্রাণী পাঠানোর পরীক্ষায় সফল হয়েছে। দেশটি অদূর ভবিষ্যতে মহাশূন্যে মানুষ পাঠানোর কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য জোর তৎপরতা শুরু করেছে। 

ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর মতে ইসলামী বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট পরিবেশে ইরানি বিজ্ঞানীদের আত্ম-বিশ্বাস জোরদার হওয়ার কারণেই তারা নানা অভাবনীয় সাফল্য পাচ্ছেন। মহাশুন্যে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানো ছাড়াও পরমাণু প্রযুক্তি আয়ত্ত্ব করাই এর বড় প্রমাণ। ৬ বড় শক্তির সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতার পরও ইরানের পরমাণু গবেষণা ও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

ইসলামী বিপ্লবত্তোর ইরান পরমাণু প্রযুক্তিকে চিকিৎসা সেবার কাজে লাগানোর যোগ্যতাও অর্জন করেছে দর্শনীয় মাত্রায়।  ইসলামী এই দেশটি এখন নানা ধরনের পারমাণবিক ওষুধ উৎপাদন করছে। ইউরেনিয়াম পরিশোধন ও শক্তিশালী আইসোটোপ নির্মাণের প্রযুক্তিও আয়ত্ত করেছেন ইরানের বিজ্ঞানীরা। তারা এরিমধ্যে এইসব শিল্পের কারখানাও চালু করেছেন বলে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এইসব প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বে ইরানের অবস্থান চতুর্থ এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম। পারমাণবিক ওষুধ তৈরির এক বিশেষ প্রকল্পে ইসলামী ইরান প্রায় ৬ কোটি ইউরো বিনিয়োগ করেছে।  ইসলামী ইরান ভারত, পাকিস্তান, মিশর ও লেবাননসহ নানা দেশে পারমাণবিক ওষুধ রপ্তানিও করছে।

পরমাণু শক্তি ও পরমাণু জ্বালানী ক্ষেত্রে ইসলামী ইরান স্বয়ংসম্পূর্ণ। ইসলামী বিপ্লবত্তোর ইরান এসব ক্ষেত্রে উন্নত পর্যায়ে উপনীত হওয়ায় ইউরোপের অনেক দেশও এখন ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি ক্ষেত্রের এইসব দিকে সহযোগিতার দরজা খুলে দিতে বাধ্য হচ্ছে। 

ইসলামী বিপ্লবত্তোর ইরান মহাকাশ গবেষণায় অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করায় পশ্চিমা বিশ্ব ব্যাপক আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী মহল এটা প্রচার করছে যে ইরানের অতি উন্নত ক্ষেপণস্ত্র প্রযুক্তি বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক। কারণ ইসলামী এই দেশটি তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে পরমাণু বোমা সংযুক্ত করতে পারে। অথচ এ প্রচারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ ইসলামী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী পরমাণু বোমার উৎপাদন, মজুদ বা সংরক্ষণ ও  ব্যবহারকে সম্পূর্ণ হারাম বলে ঘোষণা করেছেন। পরমাণু বোমা ব্যবহার করা হলে তাতে একটি দেশ বা অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারায় বলে শান্তির ধর্ম ইসলাম এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেয় না।

উল্লেখ্য ইরান পরমাণু অস্ত্র-বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটিতে স্বাক্ষর করেছে বেশ কয়েক দশক আগে।   ১৯৭০ সালে ইরানি সংসদ এই চুক্তি অনুমোদন করেছিল। ইসলামী বিপ্লবের পরও ইরান এই চুক্তি মেনে চলেই শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়। পরমাণু বিষয়ে পাশ্চাত্যের শতভাগ নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান পরমাণু জ্বালানী চক্র ও উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তির নানা খাতে চোখ ধাঁধানো সাফল্য অর্জন করে।

উল্লেখ্য, ইসলামী বিপ্লবত্তোর ইরান ন্যানো প্রযুক্তি খাতেও অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এই প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ইরানের অবস্থান এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি দেশের অন্যতম।

 চিকিৎসা বিজ্ঞানেও দর্শনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন ইরানের বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকরা। তারা দূরারোগ্য ক্যান্সার ও এইডসসহ নানা ধরনের জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসা-পদ্ধতি এবং ওষুধ আবিস্কার করেছেন। বুনিয়াদি-কোষ বা স্টেমসেল ব্যবহারের প্রযুক্তিকে নানা ধরনের চিকিৎসার কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছেন ইরানি চিকিৎসা-বিজ্ঞানীরা।

ইসলামী ইরানের বিজ্ঞানীরা ক্লোনিং প্রযুক্তিও আয়ত্ত্ব করেছেন এখন থেকে বেশ কয়েক বছর আগে।

ইসলামী বিপ্লবত্তোর ইরান বাঁধ নির্মাণ শিল্পেও দর্শনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। দেশটির প্রকৌশল-বিজ্ঞানী ও টেকনিশিয়ানরা কয়েকটি দেশে বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন।

ইসলামী ইরান সামরিক, ক্ষুদ্র ও মধ্যম আকৃতির বিমান নির্মাণ শিল্পেও লক্ষ্যনীয় মাত্রায় অগ্রগতি অর্জন করেছে। ইসলামী ইরান নানা ধরনের উন্নত ও অত্যাধুনিক জঙ্গি বিমান নির্মাণ করছে। ড্রোন বা পাইলট-বিহীন বিমান নির্মাণ খাতে ইরান এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি দেশের অন্যতম বলে স্বীকৃতি পেয়েছে।

জাহাজ নির্মাণ শিল্প এবং পেট্রোক্যামিকেল শিল্পেও অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে ইসলামী ইরান। #

পার্সটুডে/মু.আমির হুসাইন/মো:আবুসাঈদ/৫

২০১৮-০২-০৪ ১৭:২৩ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য