আসরে আমরা এই ক্যাভিয়ারের উন্নত পুষ্টিগুণ নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করবো বলে আপনাদের কথা দিয়েছিলাম। বিশ্বের সবচেয়ে দামি খাদ্যপণ্য এবং ব্যবসা সফল সামুদ্রিক পণ্য ক্যাভিয়ারের উপকারিতা, এর ওষুধি গুণাগুণ ইত্যাদি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করবো।

বলা হয়ে থাকে, খুচরা বাজারেই বছরে এক শ কোটি ডলারের বেশি ক্যাভিয়ার বিক্রি হয়। ক্যাভিয়ার বিশ্বের সামুদ্রিক খাবারের মধ্যে সবচেয়ে দামি একটি খাদ্যপণ্য। সাধারণত সকাল বেলার নাশতায় বিভিন্নভাবে এই ক্যাভিয়ার ব্যবহৃত হয়। এই খাদ্যের পুষ্টিমান অকল্পনীয়। মাত্র এক শ গ্রাম ক্যাভিয়ারে ২৫ হাজার কিলোক্যালোরি রয়েছে। এতো প্রচুর পরিমাণ ক্যালোরি সম পরিমাণের আর কোনো খাবারে পাওয়া যায় না। ক্যাভিয়ার সাধারণত কাঁচাই ব্যবহার করা হয়। অনেকে আবার মুরগির ডিমের কুসুমের সঙ্গে মিশিয়ে, আবার কেউ কেউ সুগন্ধিপূর্ণ শাকসবজির সাথে কিংবা লেবু ও রুটির টুকরোর সঙ্গে বাটার মিশিয়ে খায়।

ক্যাভিয়ার নামের এই খাদ্যবস্তুটি শক্তি ও বিচিত্র ভিটামিনসম্পন্ন বৈশিষ্ট্যে পরিপূর্ণ। ভিটামিন-ই, ডি, এ, বি-টুয়েলভ, বি-সিক্স, বি-টু, ভিটামিন সি, খনিজ পদার্থ, প্রোটিন, ফ্যাটি অ্যাসিড, বিচিত্র অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ওমেগা-থ্রিতে পরিপূর্ণ এই ক্যাভিয়ার। রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধির পথ রোধ করে দেয় ক্যাভিয়ার। কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ, জয়েন্টগুলোর ইনফ্ল্যামেশন, পেটের বিভিন্ন পীড়াসহ বিচিত্র ক্যানসার প্রতিরোধে এই ক্যাভিয়ারের ভূমিকা অসামান্য। এছাড়াও ক্যাভিয়ার খেলে ত্বক উজ্জ্বল হয় ও সতেজ হয়। মাংসপেশির শক্তি বৃদ্ধিতেও ক্যাভিয়ার তুলনাহীন। ক্যাভিয়ার খেলে এইচ.ডি.এল মানে ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায়। যার ফলে স্নায়ুবিক সমস্যাগুলোর উপশম হয়।

অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের মতো ক্যাভিয়ার মাছের মাংসও বিভিন্ন উপায়ে ক্যানের ভেতর বাজারজাত করা হয়। ক্যাভিয়ার মাছের মাংস যেহেতু কাঁটাবিহীন এবং কমচর্বি সম্পন্ন সে কারণে এই শ্রেণীর মাছ সসেস কিংবা কাটলেট আকারেও বাজারজাত করা হয়। না, কেবল অভ্যন্তরীণ বাজারেই নয় বরং বিশ্ববাজারেও সসেস আকারে রপ্তানি হয় ক্যাভিয়ার মাছ। এই তো গেল বাণিজ্যিক দিকের কথা। বিজ্ঞানের উন্নতি তথা জ্ঞান-গবেষণা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই ক্যাভিয়ারের আরও নতুন নতুন ক্ষেত্রে ব্যবহারের চিন্তাভাবনা হচ্ছে। খাদ্যপণ্যের বাইরে ওষুধ শিল্পে এর ব্যবহার কী করে বাড়ানো যায়, খী করে স্বাস্থ্য ও প্রসাধনীতে এগুলোর ব্যবহার করা যায় তা নিয়েও গবেষণা হচ্ছে।

 

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, চামড়া শিল্পে ক্যাভিয়ার মাছের চামড়াও ব্যবহার করা হয়। এর তরুণাস্থিও জেলাটিন হিসেবে বা ক্রিম তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। তরুণাস্থি একটু অপ্রচলিত শব্দ। তাই দুর্বোধ্য মনে হতে পারে অনেকের কাছে। এটি হলো জীব দেহের অস্থিসন্ধি মানে গিঁটের সঙ্গে সংযুক্ত দৃঢ়,শুভ্র তন্তু বা আঁশময় বস্তু। ইংরেজিতে কার্লিলেইজ বলা হয়। এছাড়াও ক্যাভিয়ার মাছের সুইমিং ব্যাগকে আইজিন গ্লাসসহ ডেন্টাল শিল্পে ব্যবহার করা হয়। আইজিন গ্লাস ড্রিংকস বা বিভিন্ন পানীয়কে ক্রিস্টাল ক্লিয়ার করার কাজে ব্যবহার করা হয়।

পুড়ে যাওয়া চিকিৎসায় ব্যান্ডেজের বদলে মাছের চামড়া ব্যবহারের কথা আমরা ইতোপূর্বে জেনেছি। ব্রাজিলের চিকিৎসকেরা পোড়া রোগীদের চিকিৎসায় এই অভিনব কায়দা বের করেছেন। তারা ব্যবহার করছেন তেলাপিয়া মাছের চামড়া! ব্রাজিলের ফেডেরাল ইউনিভার্সিটি অব সিয়ারার বিজ্ঞানীরা এটি উদ্ভাবন করেছেন। ক্যাভিয়ার মাছের চামড়া নিয়েও বিচিত্র গবেষণা হচ্ছে। ক্যাভিয়ার মাছের পাখা, পেটের ভেতরের নাড়ি ভুড়ি ইত্যাদি ফিশ পাউডার তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। ক্যাভিয়ার জাতীয় মাছের খামারে এগুলো ব্যবহৃত হয়। এভাবে ক্যাভিয়ার মাছ বিভিন্নভাবে অর্থনৈতিক যোগান দেয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পণ্য হিসেবে পরিগণিত।  #

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/ মো:আবু সাঈদ/১৬

২০১৮-০৩-১৬ ১৬:৪৭ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য