এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনেও ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আনন্দ উদ্দীপনা থেকে উৎসাহী হওয়া,জীবনকে উপভোগ্য করে তোলার জন্য সহজ সরল জীবনযাপন করা এবং তাতে সন্তুষ্ট থাকা ইত্যাদি বিষয়ে কুরআন অনুপ্রাণিত করেছে।

পক্ষান্তরে সাময়িক বিনোদন যা কেবল পার্থিব অস্থায়ী আনন্দের খোরাক জোগায় সে ধরনের বিনোদনকে ভীষণভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কেননা এ ধরনের বিনোদন প্রকৃত প্রফুল্লতা ও আনন্দের কাছে একেবারেই তুচ্ছ। 

কুরআনের সংস্কৃতিতে প্রকৃত মুমিনরা সবসময় প্রশান্ত, হাসিখুশি এবং প্রাণোচ্ছ্বল থাকে। তাদের চেহারায় এই বৈশিষ্ট্যটি ফুটে ওঠে হাসির মাধ্যমে। সৎ কাজ, পরকালের প্রতি মানে শেষ বিচারের দিনের প্রতি বিশ্বাস, সদয় মানসিকতা, দান, গরিবদের সাহায্য করা এবং প্রকৃত ঈমান-এগুলো এমন কিছু কাজ যা মুমিনদেরকে আত্মিক ও মানসিক প্রশান্তি দেয়। সেইসঙ্গে মুমিনদের অন্তরাত্মায় প্রকৃত সুখ, আনন্দ ও প্রশান্তি জোগায় এই কাজগুলো। পবিত্র কুরআনে কিয়ামতের দিনের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুমিনদের রক্ষা করাকে তাদের প্রতি আল্লাহর দয়া ও রহমত বলে উল্লেখ করেছে। সেইসঙ্গে মুমিনদেরকে বেহেশতে প্রবেশ করানোর কথাও বলেছে।

 

পবিত্র কুরআনের সুরা ইনসান বা আদদাহারের এগারো নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: "আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সেদিনের অকল্যাণ থেকে রক্ষা করবেন এবং তাদেরকে সজীবতা ও আনন্দ দান করবেন"।

সূরা আন-নাহলের সাতানব্বুই আয়াতেও বলা হয়েছে:"পুরুষ কিংবা নারী যে-ই সৎকাজ করবে,সে যদি মুমিন হয়,তাহলে তাদেরকে আমি দুনিয়ায় পবিত্র-পরিচ্ছন্ন জীবন দান করবো এবং আখেরাতে তাদের প্রতিদান দেবো তাদের সর্বোত্তম কাজ অনুসারে"।

তবে মধ্যপন্থা থেকে কিংবা ইতিবাচক অনুভূতির ভারসাম্য থেকে বেরিয়ে যাওয়া সকল দিক থেকেই অপছন্দনীয় ও নিন্দনীয়।

 

ভারসাম্য রক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। বিরতির আগে আমরা সে বিষয়ে ইঙ্গিত করেছি। আনন্দ, হাসি, প্রফুল্লতার মাত্রা যখন ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে অর্থাৎ সীমা ছেড়ে যায় তখন তা ফুটে ওঠে ব্যক্তির আত্মপ্রচার, অহংকার চেতনা ইত্যাদির মাধ্যমে। আর এ ধরনের অহংকারী উল্লসিতদের আল্লাহ পছন্দ করেন না বলে পবিত্র কুরআনের সূরা কাসাসের ছিয়াত্তর নম্বর আয়াতের শেষাংশে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে: "অহংকার করো না,আল্লাহ অহংকারীদেরকে পছন্দ করেন না"।

কুরআন মানুষের কাছে প্রত্যাশা করে তারা যেন তাদের আবেগ অনুভূতি ইত্যাদিকে ইতিবাচকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে অর্থাৎ ভারসাম্যপূর্ণভাবে কাজে লাগায়। আবেগের ওপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কোনোভাবেই আবেগ প্রকাশের ক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তা ও মানবিক অনুভূতির বিলোপ সাধন করা যাবে না। সর্বাবস্থায় ভারসাম্যপূর্ণ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, বাইরের হই হট্টগোল কিংবা শোরগোলের মধ্যে আনন্দ খুঁজে লাভ নেই। আনন্দ পাওয়া বা অনুভব করার একমাত্র স্থান হলো মানুষের অন্তর। সুতরাং আমাদের চেষ্টা করতে হবে অন্তরকে কল্যাণ ও সততার আলোয় পরিপূর্ণ করতে এবং প্রফুল্লতার সৌন্দর্য মনে ধারণ করতে।

পবিত্র কুরআনে প্রফুল্লতার বহু উপাদান উপকরণের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যেসব হতে পারে একজন মুমিনের জীবন পথের পাথেয়। যেগুলোর সাহায্যে একজন মুমিন এবং তার প্রভুর মাঝে গড়ে উঠতে পারে প্রেমের সুদৃঢ় বন্ধন, সফলতা আসতে পারে উভয় জগতে। সর্বোপরি আসমানি নূরের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠতে পারে হৃদয়ভুবন। স্বয়ং পবিত্র কুরআনই মুমিনের জন্য প্রফুল্লতার অনাবিল উৎস। মুমিনরা কুরআন পাঠ করলে বেড়ে যায় মনের প্রফুল্লতা,পাওয়া যায় মানসিক প্রশান্তি। পবিত্র কুরআন যে একটি বরকতময় এবং ফজিলতময় গ্রন্থ তা আমরা ভালোভাবেই জানি। তবু আমরা পিছিয়ে পড়ছি এটি পাঠ বা তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে। অথচ ইতিহাস এটা স্বীকৃতি দেয় যে,মাত্র তেইশ বছরে গোটা আরব জাহানের বর্বর একটা জাতিকে কী দ্রুত সভ্যতার আলোয় বদলে দেওয়া হয়েছিল। আর এটা সম্ভব হয়েছিল আল-কুরআনের বদৌলতে।

 

মনে রাখতে হবে সৃষ্টিকূলের ওপর যেমন স্রষ্টার সম্মান ও মর্যাদা অপরিসীম,তেমনি সকল বাণীর উপর, সকল গ্রন্থের উপর কুরআনের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অতুলনীয়। মানুষের মুখ থেকে যা উচ্চারিত হয়,তার মধ্যে কুরআন পাঠ সর্বাধিক উত্তম-একথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। সুতরাং মানসিক প্রশান্তির জন্য, জীবনকে প্রফুল্লতা ও আনন্দে ভরে তোলার জন্য, সর্বপ্রকার বিষন্নতা ও মানসিক চাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখার জন্য পবিত্র এই গ্রন্থ যত বেশি সম্ভব পাঠ করা উচিত। আল্লাহ আমাদেরকে সেই তৌফিক দান করুন-এই প্রত্যাশায় আজকের আসর এখানেই গুটিয়ে নিচ্ছি। কথা হবে আবারও পরবর্তী আসরে।#

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/মো:আবুসাঈদ/ ৫

২০১৮-০৪-০৫ ১৯:১৩ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য