সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৪ জুন বৃহষ্পতিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • বাতিলের খাতায় ৮০ হাজার মানুষ-দৈনিক প্রথম আলো
  • ট্রেন বাস ও লঞ্চে উপচেপড়া ভিড়, ভোগান্তি-দৈনিক যুগান্তর
  • দুই মামলায় খালেদা জিয়ার প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার-দৈনিক ইত্তেফাক
  • মাদক সম্রাজ্ঞী রুপার বাড়িতে বিক্ষুদ্ধ জনতার আগুন-দৈনিক মানবজমিন
  • খালেদা জিয়া সিএমএইচে চিকিৎসা নিতে চাননা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-দৈনিক নয়া দিগন্ত

ভারতের শিরোনাম:

  • প্রধানমন্ত্রীর ফিটনেস ভিডিও ‘উদ্ভট, কটাক্ষ রাহুল গান্ধীর -সংবাদ প্রতিদিন
  • একই দৈনিকের অন্য একটি খবরের, শিক্ষামন্ত্রীর নাক-কান কেটে নেওয়ার হুমকি দিল কর্নি সেনা, কিন্তু কেন?
  • -রাজস্থানে নিখোঁজ ফরাসি মহিলাদৈনিক আজকাল
  • সাতসকালে কলকাতায় পুলিশের সামনেই ট্যাক্সিতে উঠে ছিনতাই!-দৈনিক আনন্দবাজার

পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বিতর্ক এখন নিত্যকার ঘটনা। এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রীর বক্তব্য ছাপা হয়েছে দৈনিক প্রথম আলোতে। শিরোনাটি এরকম...

বিএনপি খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকে ইস্যু করছে: কাদের

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

খবরটিতে লেখা হয়েছে, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি আন্দোলনের সব ইস্যুতে ব্যর্থ হয়ে এখন খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকে ইস্যু করছে। তিনি বলেন, সেনা পরিবারের সদস্য হয়েও কেন সিএমএইচে আস্থা নেই? ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি জানতে চাই, বিএনপি কি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চায়? না এ নিয়ে রাজনীতি করতে চায়? সিএমএইচ (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল) যাদের পছন্দ না, নিশ্চই তারা এ নিয়ে রাজনীতি করতে চাচ্ছে?

এদিকে দৈনিক মানবজমিনের খবরে লেখা হয়েছে, রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা ও ঈদের আগেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে মহানগর উত্তর বিএনপি।

দৈনিক যুগান্তরের খবরে লেখা হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, খালেদা জিয়া সিএমএইচে চিকিৎসা নিতে চাননা।

ট্রেন বাস ও লঞ্চে উপচেপড়া ভিড়, ভোগান্তি-দৈনিক যুগান্তর

ঈদে ঘরমুখো মানুষের ট্রেন ভ্রমণের চিত্র

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরছেন রাজধানীবাসী। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ট্রেন, বাস ও লঞ্চে ছিল ঘরমুখো মানুষের ভিড়। এ ছাড়া ভোগান্তির পথে পথে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এত বিড়ম্বনার মধ্যেও শেকড়ের টানে আপন ঠিকানায় ছুটছেন । ঈদযাত্রায় কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ছিল বাড়ি ফেরা মানুষের উপচেপড়া ভিড়। এ সময় ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেককেই ট্রেনের ছাদে উঠতে দেখা গেছে। ঈদ উপলক্ষে আসন ক্ষমতার তিনগুণ যাত্রী যাচ্ছে রেলে। আর প্রতিদিনই সিডিউল বিপর্যয় হচ্ছে। ঈদের বিশেষ ট্রেনের ক্ষেত্রে এ ঘটনা বেশি ঘটছে।জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে অগ্রিম টিকিট কাটা যাত্রীরা ১০ জুন থেকে যাত্রা শুরু করেছেন। কিন্তু বুধবার থেকে বিভিন্ন ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। প্রায় ট্রেনই দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পযর্ন্ত বিলম্বে চলাচল করছে। আজ বৃহস্পতিবার ও আগামীকালও ভোগান্তি আরও বাড়বে।

মাদকবিরোধী অভিযানের খবর

মাদকবিরোধী অভিযান

দেশে চলছে মাদকবিরোধী অভিযান। গ্রেফতার হচ্ছে একইসাথে এখনও বন্দুকযুদ্ধে প্রতিদিন নিহত হচ্ছে। মাদক নিয়ে দৈনিক মানবজমিনের একটি খবরের শিরোনাম এরকম- মাদক সম্রাজ্ঞী রুপার বাড়িতে বিক্ষুদ্ধ জনতার আগুন 

নীলফামারীর ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী সাহিদা গেম রুপার বাড়িতে হামলা,ভাংচুর ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। আগুনে পুড়ে যায় বাড়ীটি।তবে এ সময় বাড়ীতে কেউ ছিলনা। বুধবার রাত ১১টার দিকে পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ড কাজীপাড়ায় ঘটনাটি ঘটে। মাদক বিরোধী অভিযানের পর থেকেই পলাতক রয়েছে রুপা আর তার স্বামী মাদক ব্যবসায়ী মিজানুর রয়েছে জেলহাজতে। স্থানীয়রা জানান, কাজীপাড়ায় দুই সন্তান নিয়ে বাস করেন রুপা ও মিজানুর। মিজানুরের সাথে বিয়ের পরেই জড়িয়ে পরেন মাদক ব্যবসায়।

মাদকের ব্যবসা করেই বনে গেছেন অনেক টাকার মালিক। মিজানুর আগে থেকেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। পুলিশ জানায় রুপার বিরুদ্ধে ১৫টি এবং তার স্বামী মিজানুরের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৩টি মামলা। দুইজনেই একাধিকবার মাদকসহ আটক হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও মাদক ব্যবসায় যুক্ত হন।

দৈনিক প্রথম আলোর খবর-জামিনে বের হওয়া জঙ্গিদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। ঈদকে কেন্দ্র করে জঙ্গি হামলার বড় কোনো হুমকি নেই বলে রাজধানীবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

তবে দৈনিক যুগান্তরের একটি খবরের শিরোনাম এরকম যে, দিনদুপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মীকে হত্যা করে টাকা ছিনতাই।

আর দৈনিক মানবজমিনের খবর-মাদক বিরোধী অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বাতিলের খাতায় ৮০ হাজার মানুষ-দৈনিক প্রথম আলোর একটি মন্তব্য কলামের শিরোনাম

নন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কষ্ট

যখন রাষ্ট্রের বেতনভোগীরা ঈদ উৎসবের কেনাকাটায় ব্যস্ত, তখন আমাদের শিক্ষকেরা বেতনের দাবিতে রাজপথে।আশরাফ সিদ্দিকীর ‘তালেব মাস্টার’ কবিতার কথা নিশ্চয়ই মনে আছে।এ কবিতায় তালেব মাস্টার কম মাইনে পাওয়া একজন শিক্ষক। মাইনে কম পাওয়ার কারণে তাঁর জীবনে অসংখ্য করুণ ঘটনা ঘটেছে। কবিতাটি পড়লে যেকোনো পাষাণের হৃদয়ও বেদনায় সিক্ত হয়। তবুও তো সেই তালেব মাস্টার বেতন পেতেন। তাহলে যাঁরা বেতন একেবারেই পান না, তাঁদের কষ্টের মাত্রা অবশ্যই তালেব মাস্টারের চেয়েও বেশি। আমাদের দেশে এখন তালেব মাস্টারের চেয়েও করুন জীবনযাপন করা শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার।

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো হয়, ফিবছর তাঁদের বেতন বাড়ে, তাঁরা বৈশাখী ভাতা পান, ঈদ বোনাস পান, বাড়ি করার জন্য কম সুদে লাখ লাখ টাকা ঋণ পান, মোবাইল কেনার জন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য পৌনে লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, গাড়ি কেনার সহজ সুবিধা পান, অবসরে গেলে অবসর ভাতা পান। স্বামী মারা গেলে স্ত্রী আর্থিক সুবিধা লাভ করেন। দেশের হাজার হাজার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি হলো। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে যে শিক্ষকেরা বেতন পান না, তাঁদের বেতনের কোনো ব্যবস্থাই হয় না। বিনা বেতনে চাকরিজীবন শেষ করে অবসরে যাচ্ছেন অনেকেই। সরকার যদি শিক্ষকদের শ্রমের মূল্য না দেয়, তাহলে এই ৮০ হাজার শিক্ষক কোথায়, কার কাছে যাবেন?

সরকার বয়স্ক ভাতা দেয়, বিধবা ভাতা দেয়, বন্যার্তদের মাঝেমধ্যে আর্থিক সুবিধা দেয়। কিন্তু নন-এমপিও শিক্ষকেরা সরকারের কোনো ভাতাও পান না। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাঁরা চাকরি করেন, সেটা কি তাঁদের অপরাধ? বেতন না পাওয়া কি তাঁদের শাস্তি? দেশের এই একটি মাত্র বিভাগ, যেখানে বিনা বেতনে শ্রম কেনা সম্ভব হচ্ছে। পোশাক কারাখানায় ঈদের বোনাস যথাসময়ে দেওয়া না হলে যে সরকার মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চায়, সেই সরকার কী করে বিনা পারিশ্রমিক শ্রম কেনে, সেটা সহজবোধ্য নয়।

‘প্রবাসীদের পাঠানো আয়ের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়নি’-নুরুল ইসলাম বিএসসি

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি বলেছেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো আয়ের ওপর কোন ভ্যাট বা মূসক আরোপ করা হয়নি। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। 

 তিনি বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রেরিত রেমিটেন্সের ওপরে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আরোপিত হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার চালানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের এই প্রচার পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

প্রধানমন্ত্রীর ফিটনেস ভিডিও ‘উদ্ভট’, কটাক্ষ রাহুল গান্ধীর-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

মোদি ফিটনেসের ভিডিও নিয়ে রাহুলের বক্তব্য

বিরাট কোহলির চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন নিজের ফিটনেসের ভিডিও। নরেন্দ্র মোদির পোস্ট করা ওই ফিটনেস ভিডিওটি এখন রীতিমতো ভাইরাল। প্রধানমন্ত্রীর এই ফিটনেস ভিডিওকে অনেকেই বলছেন হাস্যকর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে এত রসিকতা আগে হয়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। রসিকতার সুর আরও চড়ালেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। নিজের আয়োজন করা ইফতারে অতিথিদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটিকে রাহুল বললেন ‘উদ্ভট’। গতকালের ইফতারে বিরোধীদের ঐক্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন রাহুল। শীর্ষ বিরোধী নেতারা না থাকলেও কংগ্রেস সভাপতির ইফতারে হাজির ছিলেন সব বিরোধী দলের প্রতিনিধিই। মধ্যমণি ছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।

শিক্ষামন্ত্রীর নাক-কান কেটে নেওয়ার হুমকি দিল কর্নি সেনা, কিন্তু কেন?-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী কিরণ মাহেশ্মরী

ক্ষমা না চাইলে শিক্ষামন্ত্রীর নাক-কান কেটে নেওয়া হবে। এমনই হুমকি দিল রাজস্থানের কর্নি সেনা। হুমকির মুখে বিজেপি শাসিত রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী কিরণ মাহেশ্মরী। অভিযোগ, সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজপুত সম্প্রদায়কে অপমান করেছেন কিরণ মাহেশ্মরী। তিনি বলেছেন, ‘আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধেই প্রচারে নামবে সর্ব রাজপুত সমাজ সংঘর্ষ সমিতি। এটাই বাস্তব। আসলে, কিছু বর্ষাকালীন ইঁদুর আছে যারা নির্বাচনের খবর পেলেই গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে।’শিক্ষামন্ত্রীর এহেন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার জয়পুরে জরুরি বৈঠক করে কর্নি সেনা। শিক্ষামন্ত্রীকে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, তাঁর এই বক্তব্যের জন্য শিগগির ক্ষমা চাইতে হবে।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৪
 

২০১৮-০৬-১৪ ১৭:০০ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য