ভার্চুয়াল জগত: সম্ভাবনা ও শঙ্কা শীর্ষক ধারাবাহিকের আজকের আসরে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি।

গত আসরে আমরা বলেছি, বাসার কম্পিউটার ও ল্যাপটপ বা স্মার্ট ফোনে প্রাইভেসি সেটিং অথবা পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখতে হবে। কারণ বড়রা বাসায় না থাকলে ছোটরা এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করতে পারে। এই প্রযুক্তির ভালো-খারাপ দিক সম্পর্কে অভিভাবকদের নিজেদের জ্ঞানও বাড়াতে হবে। অনেক ওয়েবসাইটই ছোটদের জন্য উপযোগী নয়। এ ধরনের ওয়েব সাইটগুলো মোবাইল, কম্পিউটার ও ল্যাপটপে ব্লক করে রাখতে হবে। এর ফলে শিশু-কিশোররা চাইলেও এ ধরনের ওয়েব সাইটে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘরের মধ্যে এমন জায়গায় কম্পিউটার রাখার চেষ্টা করতে হবে যেখানে সবাই সারাদিন যাওয়া-আসা করেন। যাতে একা শিশুরা ইন্টারনেটে কোনো আজেবাজে জিনিস দেখতে না পারে।  

স্বাভাবিকভাবেই বাবা-মায়ের জ্ঞান ও যোগ্যতার প্রভাব সন্তানের ওপরও পড়ে। সন্তানকে সঠিক পন্থায় মানুষ করার জন্য বাবা-মায়ের শিক্ষা ও দক্ষতা জরুরি। বাবা-মায়ের ডিজিটাল প্রযুক্তিজ্ঞান থাকলে তারা সহজেই বুঝতে পারে সন্তানরা ইন্টারনেট তথা ভার্চুয়াল জগতে কী করছে। বর্তমানে অনেক মা-বাবার মুখে শোনা যায়, তাদের সন্তানরা নিয়মিত ইউটিউবে মজার ভিডিও ও কার্টুন দেখছে এবং অনেক নতুন কিছু শিখছে। অনেক শিশু নাকি ইউটিউবে ভিডিও ও কার্টুন না দেখে খাবারই খেতে চায় না। সন্তানরা লেখাপড়ার সময় বাদে বাকি সময়টা যাতে আনন্দে কাটাতে পারে,বাড়তি কিছু শিখতে পারে,সে কারণে অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানের হাতে ইন্টারনেট সংযোগসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস তুলে দেন। কেউ কেউ নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শী হয়ে উঠবে-এটা ভেবে তারা তাদের সন্তানদেরকে মোবাইল ও ট্যাব কিনে দেন। এ ছাড়া বর্তমানে লেখাপড়ার তথ্য সংগ্রহের জন্যও শিশুরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে। কোনো বাবা-মা চান না তার সন্তান খারাপ কিছু শিখুক। সন্তানদের নিয়ে তাদের সব ভাবনাই ইতিবাচক। তারা যা কিছু করেন শিশুর সুন্দর ভবিষ্যতের জন্যই করেন।

তবে সব বাবা-মা বা অভিভাবককে এটা মনে রাখতে হবে যে, প্রতিটি জিনিসেরই যেমন ভালো-মন্দ দুই দিকই থাকে, তেমনি ইন্টারনেটেরও ভালো ও খারাপ দিক রয়েছে। এ অবস্থায় সাধারণভাবেই অভিভাবকের দায়িত্ব হচ্ছে সন্তানকে ইন্টারনেটের খারাপ প্রভাব থেকে দূরে রাখা। ভালো-মন্দ দিক সম্পর্কে সন্তানকে সচেতন করা অভিভাবকেরই দায়িত্ব। এ কারণে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবককে অবশ্যই সন্তানের প্রতি নজর রাখতে হবে। প্রাথমিক স্কুলের শিশুরা সাধারণত কম্পিউটারে গেম খেলে এবং কার্টুন দেখে। তারা সত্যিই বয়সের সঙ্গে মানানসই গেম খেলছে কিনা অথবা কার্টুন দেখছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। মাধ্যমিক স্কুলে যাওয়ার পর সন্তানরা সাধারণত লেখাপড়ার প্রয়োজনেও ইন্টারনেট ব্যবহার করে। অনেক তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে। কিন্তু নবম-দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় বয়সজনিত কারণে সন্তানরা লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতেও যুক্ত হয়। নতুন নতুন বন্ধুর খোঁজ করে এই সময়। ভার্চুয়াল জগতে এক নতুন বন্ধু মহলের সঙ্গে তাদের পরিচয় ঘটে। তবে অনেক শিশু আরও অল্প বয়সেও সোস্যাল মিডিয়াতে তৎপরতা শুরু করে। সব মিলিয়ে সন্তানরা স্যোসাল মিডিয়ায় যুক্ত হলেই তাদের বিষয়ে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বেশি বেশি খোঁজ-খবর রাখা খুবই জরুরি।

অভিভাবকদের সঠিক তদারকির অভাবে ইন্টারনেট সন্তানের জন্য ভয়াবহ ক্ষতি বয়ে আনতে পারে।  অপ্রাপ্ত বয়সী হওয়ার কারণে কোনটা উচিত আর কোনটা অনুচিত তা সন্তানরা নাও বুঝতে পারে। অভিভাবকের কাছে যা অনুচিত,তা একজন অপ্রাপ্ত বয়সী সন্তানের কাছে অনুচিত মনে নাও হতে পারে।  ইন্টারনেট বা ভার্চুয়াল জগত এক মহাসমুদ্রের মতো। সেখানে নানা অমূল্য জিনিসের মতো রয়েছে নানা বিপদ। ইন্টারনেটে উপকারী নানা তথ্য, ছবি ও ভিডিও'র পাশাপাশি রয়েছে নিষিদ্ধ তথ্য, ছবি ও ভিডিও। এখানে রয়েছে পর্নোগ্রাফি,নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অশ্লীল চ্যাট। এসব দেখলে শিশুদের মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে,যা তার অসংলগ্ন আচরণের কারণ হতে পারে। অভিভাবকরা এসব বিষয় সম্পর্কে সচেতন না হলে কত মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

একবার ভেবে দেখুন, আপনার অল্পবয়সী সন্তান পর্নোগ্রাফির সাইট খুঁজে পেয়েছে যা আপনি কখনো ভাবতেও পারেন নি। স্বাভাবিকভাবে যে বয়সে তার মনে যৌনতার প্রবেশ ঘটার কোনো সম্ভাবনাই থাকে না ঠিক সে বয়সে এ ধরনের উপাদানের সঙ্গে পরিচিত হলে সন্তানের স্বাভাবিক মানুষিক বিকাশ ব্যহত হবে। বাবা-মা অথবা অভিভাবকরা কখনোই চান না তাদের সন্তানরা এমন পরিস্থিতিতে পড়ুক। এ কারণে বাবা-মা বা অভিভাবককে ডিজিটাল প্রযুক্তিজ্ঞানের অধিকারী হতে হবে। তাদেরকেও ইন্টারনেট তথা ভার্চুয়াল জগত সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। সম্ভব হলে অভিভাবকদের নিজেদেরও উচিত হবে মোবাইল, কম্পিউটার ও ট্যাব ব্যবহার করা। নতুন নতুন অ্যাপ সম্পর্কে সচেতন থাকা। সন্তানরা বিপজ্জনক কোনো ওয়েবসাইট ব্যবহার করছে কিনা অথবা ব্লু হোয়েলের মতো কোনো ধ্বংসাত্মক গেম খেলছে কিনা তা সম্পর্কে বাবা-মা ও অভিভাবকদেরকেই খোঁজ রাখতে হবে। # 

পার্সটুডে/সোহেল আহম্মেদ/মো: আবুসাঈদ/  ২৭

২০১৮-০৬-২৭ ১৮:০৪ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য