বন্ধুরা! আপনাদের অনেক অনেক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আপনাদেরই চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন।

আশা করছি বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিশ্বের যে প্রান্তে বসেই আমাদের অনুষ্ঠান শুনছেন না কেনো সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন। আজকের অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় রয়েছি আমরা তিনজন। আসরের শুরুতেই যথারীতি একটি হাদিস শোনাব। ইমাম বাকের (আ.) বলেছেন: কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ বান্দার আকল বা জ্ঞান অনুযায়ী তার কর্ম যাচাই করবেন এবং তাকে পুরষ্কার বা শাস্তি দেবেন।

আসরের প্রথমেই হাতে তুলে নিচ্ছি ভারত থেকে আসা একটি ইমেইল। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বড়ালবাগান বাগবাজার থেকে এটি পাঠিয়েছেন ডা. দিলিপ কুমার সরকার। তিনি পেশায় চিকিৎসক উল্লেখ করে জানিয়েছেন, আমি রেডিও তেহরানের পুরনো শ্রোতা। ইমেইলের সঙ্গে এপ্রিল মাসের ৩০ তারিখের শ্রবণমান সম্পর্কে প্রতিবেদনও দিয়েছেন ডা. দিলিপকুমার সরকার।

বহলুল: বাহ। সত্যিই ভাই দিলিপকুমার আপনার উদ্যোগ ভালো লেগেছে। বন্ধুদের এ ধরণের সহযোগিতা আমাদের আপ্লুত করে।

ভবিষ্যতের চিঠিতে অনুষ্ঠান সম্পর্কেও আলোচনা করবেন বলেও আশা রাখছি। আর হ্যাঁ চিঠি দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

বহলুল. এবারে শুনবো ভারতের এক শ্রোতা ভাইয়ের প্রতিক্রিয়া,তাই না?

জ্বি বহলুল ভাই একদম ঠিক বলেছেন। পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদেনিপুর জেলা থেকে রেডিও তেহরানের পুরনো শ্রোতাভাই ঘোরী শাহ ভয়েস মেইল করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি সিরিয়া প্রসঙ্গে বলেন ...

এতোক্ষণ সিরিয়া প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের শ্রোতা ভাই ভাই ঘোরী শাহ’র বক্তব্য শুনছিলেন। তিনি চমৎকারভাবে সিরিয়ার চলমান সংকটের বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি সত্যিই বলেছেন, সিরিয়ার সংকট সেখানকার জনগণের সৃষ্ট সংকট নয়।

এমনটি হলে সেখানে মিশরের তাহরির চত্বরের মতো গণ সমাবেশ ঘটত বা দেশটির সরকারের সঙ্গে বিরোধীদের আলোচনা হতো। সেখানে প্রকৃতপক্ষে  সাম্রাজ্যবাদীদের আগ্রাসন চলছে।  অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই ঘোরী শাহ। ভবিষ্যতে আপনার আরো প্রতিক্রিয়া শোনার অপেক্ষায় রইলাম।  

বহলুল: তাহলে এবারে ফেসবুকের খবরে যে সব মন্তব্য হয়েছে সে দিকে নজর দিতে পারি। তাই না?

অবশ্যই। এজন্যতো আমরা সবাই তৈরি হয়ে বসে আছি। তাহলে আমিই শুরু করছি। হ্যাঁ পরমাণু সমঝোতা থেকে সরে যাওয়ার মার্কিন ঘোষণার পর ইরানিদের প্রতিক্রিয়া শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ৯ মে। এ খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণার পরপরই ইরানি জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। ইরানিরা পরমাণু সমঝোতার কপিতে আগুন ধরিয়ে দেন এবং মার্কিন বিরোধী স্লোগান দেন। তারা বলেন,আমেরিকা বিশ্বাসঘাতক। কোনো দেশেরই আমেরিকাকে বিশ্বাস করা উচিত হবে না।

রেডিও তেহরানের ফেসবুক গ্রুপে এ খবরে অনেকগুলো মন্তব্য হয়েছে। এরমধ্যে বন্ধু মাহবুবুর রহমানের বক্তব্যকে বেশ প্রতিনিধিত্বশীল মনে হয়েছে। তিনি লিখেছেন, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

বহলুল: অল্প কথায় যদি অনেক বলা যায় তবে বেশি কথা কেনো বলতে হবে! ধন্যবাদ ভাই আপনাকে।

এদিকে একই তারিখের অপর একটি খবরের শিরোনাম ছিল, পরমাণু সমঝোতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সমাজের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন ট্রাম্প: বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া। ফেসবুক গ্রুপে এ খবরে যে সব মন্তব্য হয়েছে তার অন্যতম হলো,  মূলত ইসরায়েল ও অন্য মিত্রদের আবদারে ট্রাম্পের এ কাজ।

আর এ মন্তব্য করেছেন পাঠক বন্ধু রোকন আহমেদ। অন্যদিকে আরেক বন্ধু ‘আলবার্ট সাইয়্যেদ হোয়াইট বুক’ মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প ইসরাইলের দালালি করছেন আর বিশ্ব সম্প্রদায়কে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন!

অন্যদিকে ‘রাশিদ দিন’ লিখেছেন, ইরানকে কোণঠাসা করে ধ্বংস করার জন্যেই ইসরাইল ও পশ্চিমারা এই নাটক শুরু করেছে। ব্রিটেন জার্মানি ও ফ্রান্স ট্রাম্পকে চুক্তি রক্ষা করার যে আহবান জানিয়েছে,তার পুরোটা নাটক এবং এই নাটকের আসল পরিচালক হলো অভিশপ্ত ইসরাইল!

বহলুল: চমৎকার বলেছেন ভাই রাশিদ দিন, এই নাটকের আসল পরিচালক হলো অভিশপ্ত ইসরাইল! বাহ্‌ বেশ ভালো লাগল কথাটা!

পাঠক ভাই-বোনরা সত্য প্রকাশ করে যাচ্ছেন। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো এবং তাদের তাবেদারদের তা বোঝার ক্ষমতা নেই। এরা কেবল মানুষের অভিশাপই কুড়াবে।

বহলুল: না আজ কথা বলা যাবে না। আসরের সময় শেষ হয়ে এসেছে।

হ্যাঁ তাই তো! বন্ধুরা এবার বিদায়ের পালা। চিঠি লেখা,ইমেইল করা এবং সর্বোপরি দীর্ঘ সময় ধরে অনুষ্ঠান শোনার জন্য আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। আপনারা চিঠি লেখা ও অনুষ্ঠান সম্পর্কে মতামত দেয়া অব্যাহত রাখবেন। কথা হবে আগামী আসরে।#

ট্যাগ

২০১৮-০৭-১০ ১৮:৩২ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য