কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা একান্তই অনাকাঙ্ক্ষিত। এসব ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রেডিও তেহরানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, সমাজে বিশৃ্ঙ্খলা সৃষ্টি করছে তাদেরকে যথাযথ আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

আর অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বললেন, কোটা নিয়ে সরকারের বক্তব্যের প্রতি মানুষ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারছে না। জনমনে নানা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এদিকে বিশিষ্ট চিকিৎসক, মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ডক্টর জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, সরকার রাজনৈতিকসহ সবরকমের আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণ করেছে।তিনি বলেন,কোটা সংস্কার আন্দোলনটা অনেকটা  আমাদের ১৯৫২ ভাষা আন্দোলনের মতো ছিল। এটা কোনো রাজনৈতিক দল করে নি। ছাত্ররা স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজেদের স্বার্থের জন্য তারা কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেমেছিল।

কোটা সংস্কার আন্দোলন

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্র ও দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে অভিযোগ করে একে একধরনের ব্রাণ্ডিং করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গণসংহতির প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, একটি সংবাদ সম্মেলন কী করে ষড়যন্ত্র এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হয়!

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ মিছিল

সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ ও উপস্থাপনা করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।

  • কোটা নিয়ে সব বিষয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় করে একটা প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন আর চলমান থাকবে না: অধ্যাপক ড.আ আ মস আরেফিন সিদ্দিক
  • কোটা পদ্ধতি অবিলম্বে সংস্কার করা দরকার: অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক
  • কোটা থাকার দরকার আছে তবে কোটা সংস্কারেরও প্রয়োজন আছে: ড.জাফরুল্লাহ চৌধুরী
  • কোটা আন্দোলনকারী এবং তাদের অভিভাবকরা হামলা, মামলা হেনস্থা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অন্যদিকে যারা দাীয় তারা গ্রেফতার হয় না; কিছুই হয় না, এই হচ্ছে বর্তমানে দেশের গণতন্ত্র: জুনায়েদ সাকী

রেডিও তেহরান: জনাব, অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, কোটা প্রথা বাতিলের বিষয়ে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা এবং আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ জানতে চাই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক

অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক: দেখুন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল-বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে যে কোটাপ্রথা প্রয়োগ করা হয় তার সংস্কার করা। কারণ সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথার আওতায় প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং বাকি ৪৫ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। এতে গত কয়েকবছর ধরে দেখা যাচ্ছিল যে কোটার জন্য বরাদ্দকৃত ৫৫ শতাংশ পূরণ হচ্ছিলো না। 

দেখুন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেয়ার জন্যই মূলত কোটা প্রথার প্রচলন কিন্তু সেই কোটা প্রথায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছিলো না। আর মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা ৪৫ শতাংশের মধ্যেই সীমিত থাকত। তো যাইহোক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা নিয়ে যে নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে বলা হয়েছে কোটায় যদি কোনো জায়গা অপূর্ণ থাকে সেখানে মেধার ভিত্তিতে অন্যদেরকে নেয়া হবে। আর সেভাবেই গত কয়েক বছর  ধরে মেধার ভিত্তিতে অপূর্ণ জায়াগায় নিয়োগ দেয়া হচ্ছিলো এবং সেটা একধরনের সমাধান এনেছিল। 

কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে মানববন্ধন

তবে ছাত্র-ছাত্রীদের কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামের বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে কোটা প্রথা বাতিল করে একটি ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন কোটা বাতিল। এখন থেকে সরকারি চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী একইসাথে বলেছেন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী যেমন- প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমার মনে হয় এসব বিষয়গুলোকে সমন্বয় করে একটা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় তাহলে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনও আর চলমান থাকবে না। কারণ এতে তাদের দাবি পরিপূর্ণভাবে পূরণ হয়ে যাবে।

রেডিও তেহরান: জনাব অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী বলেছেন, কোটা আন্দোলনের নামে একটি মহল দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। আর সংস্কার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছে এটি তাদের প্রাণের দাবি- তো আপনার কী মনে হয়?

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক: দেখুন, কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনকারীরা যেসব কথা বলছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে যা বলা হচ্ছে তা নিয়ে জনমনে নানারকমের বিভ্রান্তি এবং অবিশ্বাস কাজ করছে। সরকারের বক্তব্যের প্রতি মানুষ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারছে না।

বিষয়গুলো নিয়ে সরকারই সিদ্ধান্ত দেবে। তবে সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমরা কথা বলার অধিকার রাখি। আমি মনে করি কোটা পদ্ধতি অবিলম্বে সংস্কার করা দরকার। প্রধানমন্ত্রী গত ফেব্রুয়ারি মাসে সংসদে কোটা পদ্ধতি বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলে ভালো হবে সরকার, সরকারি দল, জনগণ এবং আন্দোলনকারীদের জন্য ।

রেডিও তেহরান:  অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক, কোটা আন্দোলনের নামে একটি মহল দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী যেকথা বলেছেন সে বিষয়ে আপনি কী বলবেন?

কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর ওপর হামলা

অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক: দেখুন, যেকোনো আন্দোলন যখন দেখা দেয় তখন সেই আন্দোলন থেকে কিছু লাভ পাওয়ার জন্য এবং স্বার্থ পাওয়ার জন্য  তৃতীয় একটা গোষ্ঠী এসে যুক্ত হয় বলে আমি মনে করি। এটা কিন্তু সবসময় দেখা গেছে। যেকোনো আন্দোলন সংগ্রামে তৃতীয় একটি পক্ষ এসে দাঁড়িয়ে যায়। কখনও এই তৃতীয় পক্ষ দৃশ্যমান থাকে আবার কখনও তাদের দেখা যায় না। আর সেজন্য সরকারেরও সতর্ক থাকার প্রয়োজন আছে। আর যারা কোটা সংস্কার আন্দোলন করছেন এবং আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদেরকেও সতর্ক থাকতে হবে যাতে অন্য কোনো গোষ্ঠী তাদের দিকে এই আন্দোলনকে নিয়ে যেতে না পারে। যারা আন্দোলন করছে সত্যিকারার্থে তারা তাদের মেধার স্বীকৃতি চায় এবং তারা চায় কোটা প্রথার সংস্কার হোক। আমিও মনে করি সেটা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী করা হবে কিন্তু এই সুযোগে তৃতীয় কোনো গোষ্ঠী যাতে তাদের ক্ষুদ্র স্বার্থ, দলীয় স্বার্থ, রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের কোনো সুযোগ এখান থেকে না পায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। 

রেডিও তেহরান: জনাব, ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী: দেখুন, সরকার অত্যন্ত নির্দয়ভাবে সবরকমের আন্দোলন বন্ধ করে দিয়েছে। রাজনৈতিকসহ সবরকমের আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণ করেছে সরকার। এরমধ্যে হঠাৎ করে ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন সবাইকে বড় রকমের নাড়া দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এতটা শঙ্কিত ও ক্রদ্ধ  হয়েছিলেন যে কারও সঙ্গে আলোচনা না করে অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে কোটা প্রথা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। যদিও সেখানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথাও বলেছিলেন। এটা কয়েক মাস আগের কথা। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)

আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন তাৎক্ষণিকভাবে কোটা প্রথা বাতিলের ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের ওই আন্দোলন ভয়ের কারণ ছিল। কোটা সংস্কার আন্দোলনটা অনেকটা  আমাদের ১৯৫২ ভাষা আন্দোলনের মতো ছিল। এটা কোনো রাজনৈতিক দল করে নি। ছাত্ররা স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজেদের স্বার্থের জন্য তারা কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেমেছিল। আমি মনে করি ১৯৫২ সালের মতোই কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল অধিকার আদায়ের জন্য। এরপর প্রধানমন্ত্রীর রাগ যখন কমে গেল তখন তিনি এটাকে হেরে যাওয়া বলে মনে করছেন অর্থাৎ অন্যের দাবি মেনে নেয়াকে প্রধানমন্ত্রী হেরে যাওয়া মনে করছেন। আর এটিই হলো মূল সমস্যা। আর আমার মতে কোটা থাকার দরকার আছে তবে কোটা সংস্কারেরও প্রয়োজন আছে।

গণসংহতির প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি

রেডিও তেহরান: জনাব জুনায়েদ সাকি, কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে নানা কথা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একটি উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তো সামগ্রিকভাবে এ বিষয়টি সম্পর্কে আপনি কী বলবেন

জুনায়েদ সাকি: দেখুন, কোটা আন্দোলন শুরুর পর থেকে বিভিন্নমহল থেকে বলা হচ্ছে- এ আন্দোলনের মধ্যে ষড়যন্ত্র ছিল। এরমধ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে অস্থিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা আছে। এরকম নানা কথা বলে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে একধরনের ব্রাণ্ডিং করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আন্দোলনের নেতৃবৃন্দকে তুলে নিয়ে যাওয়া  হচ্ছে, হুমকি দেয়া হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে গ্রেফতার করে বিভিন্ন মামলায় ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। একদিকে এটা হচ্ছে অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছেন তার কার্যকারিতাও খুব বেশি দৃস্টিগোচর হচ্ছে না। 

কোটা আন্দোলনে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থী

তাছাড়া বিভিন্ন নেতাদের বক্তব্যে এমনভাবে বিষয়টি প্রকাশিত হচ্ছে যে তাৎক্ষণিকভাবে তারা বিষয়টিকে মেনে নিয়েছেন। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তরিকতার নানা অভাব দেখা যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিক কারণেই প্রশ্ন উঠেছে যে আদৌ সরকার তাদের দেয়া ঘোষণা বাস্তবায়ন করবে কী না এবং এই দাবি তারা মানবে কী না? ফলে প্রজ্ঞাপন জারি করার ব্যাপারে তারা দাবি তোলা শুরু করেছে। আর প্রজ্ঞাপন জারি করার ব্যাপারে দাবি তোলাটা অত্যন্ত যৌক্তিক বিষয়। কেননা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর আড়াই মাস হয়ে গেল ফলে তারা তো প্রশ্ন তুলতেই পারে। 

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্রতিবাদ

দেখুন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা একটি সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিল। অথচ একটি সংবাদ সম্মেলন কী করে ষড়যন্ত্র হয়! একটা সংবাদ সম্মেলন কী করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্ট হয়! আর সেই সংবাদ সম্মেলনকে অস্থিতিশীলতা কিংবা ষড়যন্ত্র দেখিয়ে যেভাবে তাদের ওপর হামলা করা হলো। পুলিশের উপস্থিতিতে সরকারি দলের ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা যেভাবে নৃশংস হামলা চালালো, মেয়েদের নির্যাতন করল তাতে এটা স্পষ্ট যে সরকারি পেটোয়া বাহিনী হিসেবে ছাত্রলীগকে একটা লাইসেন্স দেয়া হয়েছে।

তারা শিক্ষাঙ্গনগুলোতে মারধর, অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে একটা ভীতির পরিবেশ সৃষ্ট করে কাউকে কোনো রকম তৎপরতা চালাতে দেবে না। আর এসব হামলার জন্য দায়ী কাউকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয় নি। অন্যদিকে যারা হামলার শিকার হয়েছে তারা নানা ধরনের হেনস্থার শিকার হয়েছে। যেসব অভিভাবকরা এসব হামলায় উদ্বিগ্ন হয়ে প্রতিবাদ করতে যাচ্ছেন তারা পুলিশি হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। এই হচ্ছে বর্তমান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অবস্থা।

রেডিও তেহরান: অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক, আন্দোলনকারীদের ওপর সরকারি ছাত্র সংগঠনের হামলার কিছু ঘটনা ঘটেছে যার ছবি পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছে। কী বলবেন এ সম্পর্কে?

কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা

অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক: এগুলো একান্তই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এসব ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় বা যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মুক্ত বুদ্ধি চর্চা কেন্দ্র। আমরা সব সময় ছাত্র-ছাত্রীদের নিজেদের মেধা ও মু্ক্ত চিন্তার সুযোগ দিয়ে থাকি এবং আমরা আশাও করি প্রতিটি শিক্ষার্থী অন্যের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সবসময় সম্মান করবে। কিন্তু যারা এই কাজগুলো করে তারা আসলে সংকীর্ণ স্বার্থে এ ধরনের কাজ করে। তবে যারাই করে থাকুক না কেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুনের মধ্যে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল রুলস আছে কিসের জন্য। এত তরুণ প্রজন্ম যেখানে বসবাস করে, একসাথে লেখাপড়া করে, খেলাধুলা করে সেখানে তাদের মাঝে যদি সংঘাত-সংঘর্ষ হয় তাহলে দোষীদের চিহ্নিত করা এবং শাস্তির আওতায় আনা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের রুলসের মধ্যে রয়েছে। আমি আশা করব যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, সমাজে বিশৃ্ঙ্খলা সৃষ্টি করছে তাদেরকে যথাযথ আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৫

ট্যাগ

২০১৮-০৭-১৫ ২০:২৫ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য