কোটা আন্দোলনের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে রেডিও তেহরানের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের সিনিয়র সাংবাদিক এবং সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বলেছেন, কোটা সংস্কারের বিষয়টি খুবই জটিল প্রক্রিয়া। তাই কিছুটা ছাড় দিয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশের জন্য আন্দোলনকারীদের অপেক্ষা করা উচিত।

তিনি আরো বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার দায় ছাত্রলীগ অস্বীকার করলেও মূলত দায় তাদের ওপর বর্তায়। এতে ছাত্রলীগের এবং সরকারের উভয়েরই ক্ষতি হচ্ছে।

সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ ও উপস্থাপনা করেছেন গাজী আবদুর রশীদ

  • মধ্যবিত্ত আকাঙ্ক্ষা থেকে এই কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়
  • কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতি একটা জনসমর্থন আছে এবং ছিল
  • প্রধানমন্ত্রীর প্রথম  ঘোষণার পর দীর্ঘ সময় সরকারি প্রশাসন কাজ করেনি ফলে আন্দোলনকারীদের একটা আস্থার সংকট তৈরি হয়
  • আইন প্রণয়ন এবং আইন সংস্কারের ব্যাপারে রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটা গাফেলতি আছে
  • ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার দায় অস্বীকার করলেও দায় তাদের ওপর বর্তায়। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের এবং সরকারের ক্ষতি হচ্ছে
  • কোটা আন্দোলনকারী তরুণ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সরকার সহানুভূতিশীল নয় এমন মনস্তাত্ত্বিক ধারণা তৈরি হলে ভোটের রাজনীতিতেও একধরনের বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে
  • আন্দোলনকারী এইটুকু ছাড় দিতে পারেন যে আমরা কমিটির সুপারিশের জন্য অপেক্ষা করব

রেডিও তেহরান:  জনাব মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, বাংলাদেশে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে আদালতের রায় থাকার কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না বলে তিনি জানিয়েছেন। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা

মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল: দেখুন আমি কোটা আন্দোলনের শুরু থেকেই দেখেছি যে দেশের মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রী বা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এটি। কারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদেরকে তাদের পরিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য পাঠানো হয় এবং তারা সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে একটা সরকারি চাকরি করবে এমনই ভাবনা থাকে কিন্তু তারা চাকরি পাচ্ছে না।

আর সেইসব শিক্ষার্থীরা মনে করছে যে কোটা পদ্ধতি থাকার কারণে তারা চাকরি পাচ্ছে না। কাজেই মধ্যবিত্ত আকাঙ্ক্ষা থেকে এই কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়।

শুরু থেকেই আন্দোলনের অগ্র-পশ্চাৎ আমরা দেখেছি এই কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতি একটা জনসমর্থন আছে এবং ছিল। পরবর্তীতে যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন কোটা বাতিলের তখন এইসব আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ফিরে গেলেন এবং প্র্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে অভিনন্দন জানিয়ে মিছিলও করল।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ( ফাইল ফটো)

তবে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম  ঘোষণার পর একটা দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি প্রশাসন যন্ত্রের যে কাজটি করার কথা তারা তা করে নি। ফলে আন্দোলনকারীদের একটা আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

আমি মনে করি যে প্রধানমন্ত্রী সর্বশেষ স্পষ্ট ঘোষণায় একজন সচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর কমিটি গঠনের পর এই আন্দোলন কিছুটা ছাড় পাওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। কারণ এই কমিটি একটি সুপারিশ দেবে। যদিও আদালতের একটি রায় আছে সেটিও সুপারিশের মধ্যে আসবে। কিন্তু এরমধ্যে আন্দোলনও থামছে না এবং সরকারের প্রজ্ঞাপন জারিতেও দেরি হচ্ছে। যারফলে একধরনের আস্থাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এরমধ্যে আরো অনেক ঘটনা ঘটেছে।

রেডিও তেহরান:  জনাব বুলবুল, প্রসঙ্গধরেই আরেকটি বিষয় একটু জানতে চাইব সেটি হচ্ছে- প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিলেন কোটা বাতিল করা হলো। কয়েকমাস পর আদালতের রায়ের কথা বলা হলো। তো প্রথমে কোটা বাতিল ঘোষণার পরই তো এ বিষযটি সামনে আসতে পারত কিন্তু সেটি সামনে না আসার-ফলে প্রধানমন্ত্রীর নিজের ঘোষণা থেকে সরে আসতে হলো- বিষয়টি নিয়ে একটি সমালোচনার জায়গা তৈরি হয়েছে.. আপনি কী বলবেন?

মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল: দেখুন শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বা সরকারি কর্মকর্তাদের করণীয় এরবাইরে আমি একটু পেছনে যেতে চাই। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন বলেছে যে, কোটার কারণে জটিলতা এড়িয়ে তারা নিয়োগ দিচ্ছে। সেখানে বলা আছে যদি কোটায় কাউকে না পাওয়া যায় তাহলে সাধারণ মেধাতালিকা থেকে নেয়া হবে।গত কয়েক বছর ধরে পাবলিক সার্ভিস কমিশন এ কাজটি করছে। তো একটি আইন , আইনের সংস্কার বা নতুন আইন প্রণয়নে দুটি পদ্ধতি আছে। একটি হচ্ছে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নতুন আইন প্রণীত হয়।

তারা মনে করে যে জনগণের জন্য একটা ভালো আইন প্রণয়ন করবেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলন

আরেকটি হচ্ছে আমলাতন্ত্রের মধ্যেও বলা হয় যে অনেক পুরনো আইন আছে যেগুলোর সংস্কার করা দরকার। তবে বছরের পর বছর ধরে পাবলিক সার্ভিস কমিশন তাদের রিপোর্ট মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করছেন। রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সেগুলো পাঠাচ্ছেন। কিন্তু সেগুলো কেউ দেখছেন না। তারা দেখছেন না একথা না বলব তারা এটাকে গুরুতর কোনো সমস্যা বলে মনে করেন নি। আর যখন এটা গুরুতর সমস্যা আকারে আসল তখন বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হলো।

কাজেই আমি মনে করি আইন প্রণয়ন এবং আইন সংস্কারের ব্যাপারে রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটা গাফেলতি আছে। এ ব্যাপারে আপনার সাথে আমিও একমত। আদালতের রায়ের প্রসঙ্গটি কেন এত পরে আসল- আরও আগে আসা উচিত ছিল। তবে আমি মনে করি যে মন্ত্রিসভার গঠিত কমিটি একটা সুপারিশ দেবে। আবার আদালতের একটি পর্যবেক্ষণ আছে যে কোটায় যদি পূরণ না হয় তাহলে এর বাইরের মেধা তালিকা থেকে নিয়ে শূন্যজায়গা পূরণ করা হবে। এটা একটি ভালো দিক।কাজেই আমি পুরোপুরি একটা সুপারিশের কথা বলব যাতে ক্যাডার-নন ক্যাডার, বিসিএস-নন বিসিএসের মধ্যে যে কোটাগুলো আছে সবগুলোর সমন্বয় করে রাষ্ট্রের একটা আইন হবে। ফলে এধরনের একটি পূর্ণাঙ্গ একটা সুপারিশ কমিটির কাছ থেকে আশা করি।

রেডিও তেহরান: প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান অবস্থানকে বিএনপি ইউটার্ন বলছে। অন্যদিকে সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী বলছেন কোটা সংস্কার নিয়ে রাজনীতি চলছে, একটি মহল এই আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। তো এই পাল্টাপাল্টি  বক্তব্য কতটা যৌক্তিক? 

কোটা সংস্কার আন্দোণ

মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল: দেখুন, আপনারা দেখবেন যে বহু ইস্যুই পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্য দিয়ে একসময় হারিয়ে যায়। এখন কোটা সংস্কার নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। আর এই আন্দোলন গড়ে তুলতে গিয়ে তাদেরকে অনেক জটিলতার মধ্যে পড়তে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আমি বলব যখন কোনো রাজনৈতিক দল প্রথা মাফিক একটা আন্দোলন করে তখন তারা কতগুলো ধাপের মাধ্যমে এগিয়ে থাকে। কোটা আন্দোলন যখন শিক্ষার্থীরা শুরু করেছিল তখন তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় আমরা পাই নি। যারফলে আন্দোলনটি কোথা থেকে শুরু, কোথায় একটু শ্লথ হবে আবার কোথায় গিয়ে উচ্চমাত্রায় যেতে হবে সেরকম কোনো ধাপ ছিল না। 

তাছাড়া কোটা সংস্কার আন্দোলনটি তো একদফাভিত্তিক আন্দোলন। এরমধ্যে যাতে অন্যকোনো বিষয় না ঢুকে যায় এসব বিষয় খেয়াল  রাখা দরকার ছিল। কিন্তু মুশকিল হলো একটি পর্যায়ে গিয়ে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসায় হামলা করা হলো তখন একটি বড় ধরনের প্রশ্ন উঠল। সেটি হচ্ছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা কী ভিসির বাসায় হামলার সঙ্গে জড়িত? ভিসি এই প্রশ্নের জবাবে বললেন না, আমাদের শিক্ষার্থীদের বা আন্দোলনকারীদের এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা নয়। তাহলে যে প্রশ্নটি উঠতে পারে সেটি হচ্ছে- কারা তাহলে সেখানে হামলা চালাল। তাহলে এমন কেউ হামলা চালিয়েছে যাদের কাছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের চেয়ে অন্য কোনো এজেন্ডা হয়তো ছিল।

ভিসির বাসভবনে হামলা

এ প্রসঙ্গে আমার একটি দাবি ছিল। হামলার পর এতদিন হয়ে গেল অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা  পুলিশের উচিত ছিল সেইসব দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করা। এখন কোটা আন্দোলনের মধ্যে যারা আছেন তাদের মধ্যে যদি  কেউ ঢুকে  এই ধরনের আচরণ করে থাকে! এইজন্যই আমি বলছিলাম যে কোটা আন্দোলন যারা শুরু করেছিলেন তারা তো প্রথামাফিক  কোনোর রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের কোনো নেতা নয়। তারা হয়তো খুব সরল বিশ্বাসে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। কিন্তু এখন কেউ কেউ হয়তো বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে অথবা ভেতরে ঢুকে অন্য রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেস্টা করতে পারে কী না? সেজন্য যারা শুধু একটি মাত্র কোটা ইস্যু নিয়ে খুব ইনোসেন্টলি আন্দোলনে নেমেছে তাদের প্রতি আমার পরামর্শ হচ্ছে যে তারা যেন সচেতন থাকেন যাতে কেউ বাইরে থেকে বা ভেতর থেকে এই আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় বা রাজনৈতিক রুপ দিতে চায়। তাদের থেকে দূরে থাকতে হবে। এরপর হয়তো সামগ্রিক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হবে। হয়তো অ্যাকাডেমিক আলোচনা হবে, রাজনৈতিক আলোচনা হবে নাকি আন্দোলন হবে সেটি পরে ঠিক করা যাবে। আমি বিষয়টিকে এভাবেই দেখি।

রেডিও তেহরান: এ আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে আটক কিংবা অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আপনার কী মনে হয় যে, এ ধরনের ঘটনা সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করবে?

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা

মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল: দেখুন ছাত্রলীগ এসব ঘটনার দায় অস্বীকার করে বলছে তারা করে নি কিন্তু  এ বিষয়ে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই এর দায় ছাত্রলীগের ওপর বর্তায়। কী মিডিয়ায় কী আলোচনায় সব জায়গায় তাদের ওপরই দায় বর্তায়। আমার ধারনা এই ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে, ছাত্রলীগের ক্ষতি হচ্ছে। সরকারি দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও ক্ষতি হচ্ছে।

কাজেই আমি বলব পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে একটি  সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী যখন কোনো আন্দোলন করে তখন যদি তারা কোনো বে-আইনি কাজ করে, অনিয়মতান্ত্রিক কোনো কিছু করে সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী অন্য কোনো বাহিনী বা অন্য কোনো দলের সমর্থকের উচিত হবে না সেখানে হাত বাড়ানো। আমরা ধারনাগতভাবে অনেক কথা বলছি। যদি পুলিশ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করত। কারা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে তা নিয়ে দশজন ছেলেকে তারা গ্রেফতার করত তাহলে বলা যেত- এরা কাজটি করেছে।  তারা ছাত্রলীগের হলে বলা যেত যে ছাত্রলীগ এই কাজ করেছে। এখন আক্রমণ যারাই করুক পুরো দায়টা ছাত্রলীগের ওপর বর্তায়। আর সাধারণ মানুষও সেটা বিশ্বাস করে। গণমাধ্যমও সেটা বিশ্বাস করে। কাজেই ছাত্রলীগের উচিত হবে তাদের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য এখান থেকে সরে আসা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সমাবেশ

আরেকটি বিষয় হচ্ছে সরকারকেও খেয়াল রাখতে হবে এটি নির্বাচনি বছর। এই কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যুর সঙ্গে দলমত নির্বিশেষে তরুণগোষ্ঠী জড়িত। তাদের পেছনে রয়েছে তাদের পরিবারের সমর্থন আছে। আর এই তরুণরা কিন্তু নতুন ভোটার। কাজেই নতুন ভোটারদের মধ্যে যদি এরকম ধারনা জন্মায় যে সরকারি দলের অংগসংগঠন তাদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। অথবা তাদের মনস্তাত্ত্বিক জায়গাটিতে যদি এরকম একটা স্পর্শকাতরতা সৃষ্টি হয় যে তাদের দাবির প্রতি সরকার সহানুভূতিশীল নয়। তাহলে কিন্তু ভোটের রাজনীতিতেও একধরনের বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে।

রেডিও তেহরান:  কোটা সংস্কার নিয়ে যে আন্দোলন চলছে তার যৌক্তিক সমাধান কী বলে আপনি মনে করেন?

মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল: আমি মনে করি দ্রততম সময় কমিটি একটি প্রতিবেদন পেশ করবে। আপনারা জানেন যে কোটা নিয়ে সাবেক সচিব আকবর আলী খান এবং গাজী রকিবউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তারা প্রায় বারো বছর আগে যে রিপোর্টটি দিয়েছিলেন তাতে বলা হয়েছিল এটি একটি জটিল পদ্ধতি। একবারে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে যদি তাদের সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করা হতো তাহলে ১৯৯৭ সালের মধ্যে এটির সমাধান হয়ে যেত বলে আমি একটি রিপোর্টে দেখেছিলাম। তারমানে পদ্ধতিটি জটিল। কারণ এখানে শুধু বিসিএস পরীক্ষার কোটা নয় সবধরনের কোটাকে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। কাজেই এরইমধ্যে যে কমিটিটি গঠন করা হয়েছে তারা যদি দ্রুততার সঙ্গে সুপারিশ দেয় তাহলে সেটি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এইমুহূর্তে যেহেতু নানাধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে ফলে আন্দোলনকারী এইটুকু ছাড় দিতে পারেন যে আমরা কমিটির সুপারিশের জন্য অপেক্ষা করব।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৯

২০১৮-০৭-২৯ ১৯:১৪ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য