বন্ধুরা, আপনাদের অনেক অনেক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আপনাদেরই চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন।

প্রতি আসরের মতো আজও আলোচনা শুরু করবো একটি হাদিস শুনিয়ে। রাসূলে খোদা (সা.) বলেছেন: কেউ কোনো রোগীর সেবায় এগিয়ে গেলে ওই রোগী রোগমুক্ত হোক আর না হোক, সেবাকারী ব্যক্তির সব গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেন।

মূল্যবান হাদিস শুনলাম। এবারে আসরের শুরুতেই যে চিঠি হাতে তুলে নিচ্ছি তা এসেছে বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার সান্তাহার সাহাপুর থেকে। সেখানকার কে পাড়ার সোর্স অফ নলেজ ক্লাব থেকে এটি পাঠিয়েছেন ক্লাবের সভাপতি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। তিনি নিজেকে রেডিও তেহরানের পুরনো এবং অতি একনিষ্ঠ শ্রোতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরো লিখেছেন আমার পরিবারের সকল সদস্য রেডিও তেহরানের নিয়মিত শ্রোতা। এ ছাড়া তার ক্লাবের সবাইও নিয়মিত রেডিও তেহরানের ওয়েব সাইট এবং ফেসবুক পেইজ ভিজিট করে থাকে।  রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান সবার হৃদয় মন ছুঁয়ে যায় বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এ ছাড়া ক্লাবের পক্ষ থেকে এলাকার যুব সমাজের মাঝে রেডিও তেহরান শোনার সুফল বা উপযোগিতা সম্পর্কে জনসংযোগ চালিয়ে থাকে বলেও জানিয়েছেন ভাই রফিকুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন,  এর ফলও খুব পজেটিভ হয়েছে এবং এখন অনেকেই রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শুনছে। আগামীতে শ্রোতা আরো বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বহলুল: এ আশাবাদে আমারও শরীক হচ্ছি ভাই। আর হ্যাঁ আপনাদের ক্লাবের সবাইকে আমাদের অভিনন্দন জানাবেন।

আর হ্যাঁ ভাই খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, পরের চিঠিতে অনুষ্ঠান সম্পর্কে মতামতও কিন্তু আশা করব আমরা। আমাদের কোন অনুষ্ঠান কেমন লাগছে তা জানাতে ভুলবেন না।  এবারে যে ইমেইল হাতে তুলে নিচ্ছি...

বহলুল: না না। এখন আর ইমেইল নয়। দেখুন বিখ্যাত এক ব্যক্তিত্বের অনবদ্য অভিজ্ঞতা শোনার জন্য অপেক্ষা করছি। এবারে তাই শুনবো।

হ্যাঁ আমেরিকায় বসবাসকারী বিশ্বখ্যাত ইরানি আলোকচিত্রী বাবাক তাফরেশি রাতের আকাশের ছবি তোলার জন্য দুনিয়ার নানা জায়গায় ঘুরে বেড়ান। এবারে তার এক দারুণ অভিজ্ঞতার কথা শুনবো। কদিন আগে ইরানে এসেছিলেন তিনি। সে সময় রেডিও তেহরানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ অভিজ্ঞতার কথা শোনান। তিনি বলেন:

 “দেখুন আমার তোলা প্রতিটি ছবির একটি নিজস্ব গল্প আছে। রাতে অনেক কিছুই ঘটে। দিনের বেলায় এ সব ঘটনা সচরাচর ঘটে না। আফ্রিকা মহাদেশের জাম্বিয়াতে ছবি তুলেতে গিয়ে এক দারুণ অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছিলাম। ২০০১ সালে অর্থাৎ ১৭ বছর আগে জাম্বেসি নদীর কাছে রাতে আমি ছায়পথ এবং মঙ্গল গ্রহের ছবি তুলছিলাম। পাঁচ/ছয় মিটার দূরে একদম নদীর পাড়ে একটি বিশাল পাথর দেখা যাচ্ছিল। আমি সে পাথরকে তাক করে টর্চের আলো ফেলতে থাকি।

কিছুক্ষণ পরে নজরে পড়ে পাথরের নিচে দু'টি জায়গা থেকে আলো প্রতিফলিত হচ্ছে এবং ও দুই অংশ নড়াচড়া করছে। এরপরই গোটা পাথর নড়ে উঠতে শুরু করে। এটি আমার দিকে ধেয়ে আসতে থাকে। আর তখনি বুঝতে পারি আমি বিশাল একটি হিপো বা জলহস্তীর কাছে রয়েছি। সাথে সাথে আমি ক্যামেরাসহ সবকিছু নিয়ে ছুটতে থাকি। রাতে বিরক্ত করেছি তাই আমাকে তাড়া করে আসে ৪ বা ৫ টন ওজনের বিশাল এক জলহস্তী।

বহলুল: বাপরে! শুনেই না আমার কর্মকাবার। হাত পা ভয়ে জমে বরফ হয়ে গেছে। ভাগার জন্য যে দৌড়াতেই পারবো না।

না বহলুল ভাই আপনাকে দৌড়াতে হবে না। মানে ভেগে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন আপাতত নেই।  আর হ্যাঁ বাবাক তাফরেশি,অনবদ্য অভিজ্ঞতা শোনানোর জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

বহলুল: এ বারে তা হলে রেডিও তেহরানের ফেসবুকের গ্রুপে পাঠকবন্ধুরা যে সব মন্তব্য করেছেন সে দিকে নজর দেয়া হবে?

জ্বি। আমি আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে বসে আছি। তাহলে শুরু করছি। ২৪ মে প্রকাশিত একটি খবরের শিরোনাম এরকম- ইরানকে সিরিয়ায় সামরিক ঘাঁটি করতে দেব না: নেতানিয়াহুর বাগাড়ম্বর। এ খবরে বলা হয়েছে, ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করে বলেছেন,তার সরকার ইরানকে সিরিয়ায় সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করতে দেবে না।

ফেসবুকের গ্রুপে এ খবর বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে এবং এটাই স্বাভাবিক। ভাই আবু তালিব এতে লিখেছেন, সব মুসলিম দেশ একত্রিত হলে কোন শক্তি নাই মুসলিমদের সাথে পারে। অন্যদিকে বন্ধু আবদুস সালিম লিখেছেন,অভিশপ্ত ইহুদিবাদীদের দ্রুত ধ্বংস কামনা করি।

বহলুল: সত্যিই মানুষের সহ্যের সীমা পার হয়ে যাচ্ছে তারা আর মিষ্টি কথার ধার ধারছে না!

সত্যিই তাই। যাক এদিকে আগ্রাসন বন্ধ না হলে তেল আবিবে বোমা হামলা করব: ইসলামি জিহাদ- শীর্ষক খবরটি ২৪ তারিখ প্রকাশিত হয়েছে। এ খবরে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন ইসলামি জিহাদ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে,অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধ না হলে তারা তেল আবিবে বোমা হামলা চালাবে।

ফেসবুকের গ্রুপে এ খবরে অনেক মন্তব্য হবে সেটা সবাই বুঝতে পারছেন। বন্ধু  আবেদ ই আজম লিখেছেন, মুখে বলে হবে না।  কাজে দেখতে চাই এবং ফলাফলে বিজয় দেখতে চাই। এ ছাড়া, পাঠক বন্ধু শহীদুল্লাহ এতে মন্তব্য করেছেন- একেবারে ঠিক কথা। সঠিক সিদ্ধান্ত।

এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আমেরিকাকে সতর্ক করল ফ্রান্স। ২৩ মে প্রকাশিত এ খবরে বলা হয়েছে, ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে মার্কিন সরকারের বের হয়ে যাওয়ার সমালোচনা করে ফ্রান্স বলেছে,তেহরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও চাপ সৃষ্টির নীতি নিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সরকারের এই নীতি মধ্যপ্রাচ্যকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলবে। 

ফেসবুকের গ্রুপে এ খবরে বন্ধু সাজেদুল ইসলামের মন্তব্যের প্রতি সবার নজর পড়বে। তিনি লিখেছেন, আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতি পাগলদের দ্বারা লিপিবদ্ধ করা হয়।

বহলুল: মানুষ না কি করে যেন সত্য কথা টের পেয়ে যায়। কম্বল দিয়ে মুড়িয়েও এ সত্য ঢেকে রাখা যায় না! মন্তব্য শুনে আমাদের দারুণ হাসি পাচ্ছে!

অন্যদিকে সালাউদ্দিন মিনার লিখেছেন, ফ্রান্স, জার্মান, ব্রিটেনকে বিশ্বাস করা ঠিক হবে না, ওরাও আমেরিকার খেলার সাথী নিজ নিজ রোল প্লে করছে! আবদুল সালিম লিখেছেন, বিশ্ব সন্ত্রাসী আমেরিকার সব রাজনীতিবিদ এক এক জন সন্ত্রাসের গডফাদার। ওদেরকে সারা বিশ্ব থেকে বিতাড়িত করা না হলে কোন দেশেই শান্তি আসবে না।

বহলুল: দারুণ দারুণ সব কথা মানুষের মুখে ফুটে উঠছে। একেবারে গরম গরম মুড়ির মতই উপাদেয়। না সবাইকে ধন্যবাদ না জানিয়ে আর কোনো উপায় নেই।  এদিকে আসরের সময় শেষ হয়ে এসেছে।

হ্যাঁ বন্ধুরা এবার বিদায়ের পালা, সবাই ভাল থাকবেন এ কামনা করে আজ এখানেই আসর গুটিয়ে নিচ্ছি।#

২০১৮-০৭-৩১ ১৭:৫৯ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য