ভার্চুয়াল জগত: সম্ভাবনা ও শঙ্কা শীর্ষক ধারাবাহিকের আজকের আসরে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের বেশি মানুষের সঙ্গে ইন্টারনেট তথা ভার্চুয়াল জগতের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

এদের অধিকাংশেরই রয়েছে ফেইসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি ঝোক প্রবণতা। এ প্রবণতার একটি অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে,এখানে এক ধরণের সৃষ্টি-সুখ অনুভব করা যায়। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রত্যেকে ইচ্ছেমতো তথ্য ও ছবি ব্যবহার করে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট, ফেনপেইজ ও গ্রুপ তৈরি করতে পারেন। এর মধ্যদিয়ে একজন ব্যক্তি কোটি কোটি মানুষের এক জগতের সঙ্গে যুক্ত হন। এর ফলে তিনি নিজের মধ্যে এক ধরনের সুখ অনুভব করেন। তার মধ্যে নতুন এক অনুভূতি জাগ্রত হয়। তিনি নতুন একটি জগত আবিস্কারের সুখ পেতে থাকেন। তিনি ভাবতে থাকেন,এটি পেইজটি একান্তই আমার। এখানে যা ইচ্ছা আমি করতে পারি,যা ইচ্ছা বলতে পারি-লিখতে পারি। শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় তৎপর প্রত্যেকেই নিজের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গী প্রকাশ করতে পেরে আনন্দ অনুভব করেন। প্রত্যেকের কাছেই মনে হয়, তিনি এক বিশাল তথ্য-মাধ্যমের অধিকারী হয়েছেন। যা কিছু মূল ধারার মিডিয়ায় লেখা যায় না বা বলা যায় না তা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা বা বলা যায় অবলীলায়। শুধু তাই নয়, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে নিজের বক্তব্য ও মন্তব্যকে করা যায় অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিপূর্ণ। এসবের কারণে ইন্টারনেটের প্রতি দিন দিন মানুষের আগ্রহ ও ঝোক বাড়ছে। কিন্তু ভার্চুয়াল জগতের ওপর যে বাস্তব জগতের চেয়েও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায়, তা অনেকেই জানেন না।  

বিশ্বের জনসংখ্যার এক-পঞ্চাংশ মানুষ যারা ভার্চুয়াল জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই এটাকে বিনোদন হিসেবে নিয়েছেন। বিশেষকরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষদের মধ্যে ইন্টারনেটে অহেতুক সময় কাটানোর প্রবণতা বেশি। তবে অনেকেই ইন্টারনেটকে কেবল বিনোদন হিসেবে না নিয়ে নিজেকে সঠিকভাবে গড়ে তোলা, যোগ্যতা বৃদ্ধি এবং জানার আগ্রহ মেটানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। ইন্টারনেটে যেমন অফুরন্ত খারাপ উপাদান রয়েছে তেমনি রয়েছে শিক্ষণীয় তথ্যের ভান্ডার। অনেকে ভার্চুয়াল জগতকে সৎ মানুষ গড়ে তোলার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। পবিত্র কুরআন শিক্ষার ক্লাস থেকে শুরু করে নামাজ শেখার সব ব্যবস্থা রয়েছে বহু ওয়েবসাইটে। অনেকে আবার নামাজ কীভাবে পড়তে হবে, কোথায় কী বলতে হবে তা ভিডিও আকারে প্রকাশ করছেন ইন্টারনেটে। ইন্টারনেটের একটি বড় ইতিবাচক দিক হলো,এখানে একটি উপাদান আপলোড করলে তা লাখ-কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে স্বল্প সময়েই। ভালো কোনো লেখা ও ভিডিও ইন্টারনেটে আপলোড করার মাধ্যমে একজন মানুষ সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব পেতে পারেন অনায়াসে।

আবার এর উল্টোটাও হতে পারে অনায়াসে। একটি ধ্বংসাত্মক লেখা ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দিলে তা হতে পারে অগণিত পাপের উৎস। যেকোনো খারাপ কন্টেন্ট যতদিন পর্যন্ত ছড়াতে থাকবে এবং যত মানুষ তা দেখবে তার একটা প্রভাব পড়বে প্রথম যিনি তা ছড়িয়ে দিলেন তার ওপর। তিনি পাপের ভাগিদার হবেন। কাজেই ইন্টারনেট ভালো ও খারাপ দুই কাজেরই মাধ্যম হতে পারে। সেটা কে কীভাবে এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে। তবে ইন্টারনেটে আসক্ত হয়ে পড়লে চলবে না। ভালো-খারাপ যে উদ্দেশ্যেই হোক, এই আসক্তিই একটা খারাপ বিষয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দেশগুলোতে ইন্টারনেটের কুপ্রভাবই লক্ষ্য করা যায় বেশি। তরুণদের অনেকেই ইন্টারনেটের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। এ ধরনের তরুণ-তরুণীদের শিক্ষা জীবনের উপর এর কুপ্রভাব পড়ছে সবচেয়ে বেশি। তাদের কেউ কেউ লেখাপড়ায় অগ্রগামী থেকেও আস্তে আস্তে পশ্চাদগামী হয়ে পড়ছে

যুবকদের একটা অংশ ইন্টারনেট ব্যবহারের নেশা থেকে এক পর্যায়ে ইভটিজিং, ধর্ষণ,অপহরণ, খুন, গুম, হত্যাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। কারণ এদের একটা অংশ সারাদিন ফেসবুক,টুইটারসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় রুচিহীন তথ্য ও মন্তব্য আদান-প্রদান করে। অশ্লীল ভিডিও,ছবি লাইক দেয় ও দৃশ্য শেয়ার করে এবং অসত্য মন্তব্য পোস্ট করে। চরিত্রহীন বন্ধু ও ভক্তকে ফ্রেন্ডলিস্টে কনফারমেশন দেয়। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি প্রেম ভালবাসার কথা আপডেট দেয় ও চ্যাটিং করে। ঠাট্টা-মশকরা বিষয় নিয়েই শুধু সারাক্ষণ মেতে থাকে। নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে উঠার পরিবর্তে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাতের ঘটনা ঘটায়। পারিবারিক বন্ধনকে শিথিল করে দেয়। অবৈধ পন্থায় অবাধ জীবন যাপনে এরা অভ্যস্ত হয়ে উঠে। আমরা এর আগেও বলেছি সবাই এই ইন্টারনেট তথা ভার্চুয়াল জগত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না তবে যুবক শ্রেণীর যারা একবার ভুল পথে পা বাড়ায় তাদেরকে ফিরিয়ে আনা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা বুঝতেও পারেন না যে, তাদের সন্তানেরা এ ধরনের পথে পা বাড়িয়েছে। কারণ অনেক অভিভাবকই ভার্চুয়াল জগতের সঙ্গে পরিচিত নন। #

পার্সটুডে/সোহেল আহম্মেদ/মো: আবুসাঈদ/ ১৬

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

২০১৮-০৮-১৬ ১৬:৪৪ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য