• তাড়াহুড়ো করে ইভিএম চাপিয়ে দেয়া যাবে না-প্রধানমন্ত্রী

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৩ সেপ্টেম্বর সোমবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • তাড়াহুড়ো করে ইভিএম চাপিয়ে দেয়া যাবে না-প্রধানমন্ত্রী-মানবজমিন
  • নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ-lদৈনিক ইত্তেফাক
  • তারেক রহমান সরকারের আক্রোশের শিকার : ফখরুল-এনটিভিবিডি
  • বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি-কয়লার নামে ৮৫০ কোটি টাকা পানিতে-প্রথম আলো
  • 'সব মহলে গ্রহণযোগ্যতা পেলে ইভিএম ব্যবহার করা হবে' সিইসি-কালেরকণ্ঠ
  • মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে ৭ বছরের কারাদণ্ড-যুগান্তর
  • আন্দোলনে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বিএনপির-নয়াদিগন্ত

ভারতের শিরোনাম:

  • কর্নাটকে ফের ধাক্কা বিজেপির, পুরভোটে এগিয়ে কংগ্রেস-জেডিএস-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
  • তিরুপতি মন্দিরের কোটি কোটি টাকার গয়না উধাও-দৈনিক বর্তমান
  • উত্তরপ্রদেশে গোরক্ষকদের তাণ্ডব, গরুকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে আক্রান্ত বৃদ্ধ

পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার আসরে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।

কথাবার্তার প্রশ্ন (৩ সেপ্টেম্বর)

১. তাড়াহুড়ো করে ইভিএম চাপিয়ে দেয়া যাবে না…..রোববার সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তাহলে কী আগামী জাতীয়  নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হচ্ছে না?

২. ওমানের নিরপেক্ষ অবস্থান নস্যাৎ করতে চায় সৌদি ও আমিরাত। এরকম একটি খবর দিয়েছে আমেরিকার গবেষণা সংস্থা স্টার্টফোর। সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের এই পদক্ষেপের কারণ কী?

জনাব সিরাজুল ইসলাম। আপনাকে আবারো ধন্যবাদ

এবার বাংলাদেশের কিছু খবরের বিস্তারিত তুলে ধরছি:

তাড়াহুড়ো করে ইভিএম চাপিয়ে দেয়া যাবে না-প্রধানমন্ত্রী-মানবজমিন

নির্বাচন ঠেকানোর ক্ষমতা কারো নেই মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইলেকশন হবে। জনগণ যদি সঙ্গে থাকে তাহলে কেউ ইলেকশন বানচাল করতে পারবে না। নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ সমর্থন করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ইভিএম নিয়ে তাড়াহুড়ো করা ঠিক হবে না।

নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা   নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আর কোনো আলোচনা হবে না। নতুন রাজনৈতিক জোটকে স্বাগত জানিয়ে সরকার প্রধান বলেছেন, বিকল্প জোট হিসেবে তারা নির্বাচনে আসতে পারে। গতকাল বিকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। সম্প্রতি নেপালে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন হলেও প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা আসন্ন নির্বাচন, রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদৌ হবে কি না গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের এমন সংশয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, তিনি (কামাল হোসেন) আদৌ নির্বাচন চান কিনা? কামাল হোসেন ও গংয়েরা নির্বাচন চান কিনা?

নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা চাপিয়ে দেয়া যাবে না। কারণ এটা প্র্যাকটিসের ব্যাপার। আমাদের পরীক্ষামূলক দেখতে হবে। তিনি বলেন, ইভিএমে ভোট পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই হয়। ইভিএমটা নিয়ে আসার জন্য আমিই কিন্তু সবসময় পক্ষে ছিলাম। এখনও পক্ষে আছি। আমরা চাচ্ছি, কিছু কিছু জায়গায় শুরু হোক, সীমিত আকারে এটা দেখুক। প্রযুক্তির কোনো সিস্টেম লস হয় কি না, সেটা দেখা যাক। সেটা হলে সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করা হবে। এমন না যে এটাই শেষ কথা। আমরা সীমিত আকারে শুরু করি প্রযুক্তির ব্যবহার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারচুপি করতে পারবে না বলে বিএনপি ইভিএমে আপত্তি জানাচ্ছে। কারণ তাদের জন্মটাই কারচুপির মাধ্যমে। তারা আবার কারচুপির কথা বলে। ইভিএম হলে সেই কারচুপিটা করতে পারবে না। একের বেশি ভোট দিতে পারবে না, সিল মারতে পারবে না- সেজন্য তারা আপত্তি জানাচ্ছে। এটা স্পষ্ট।

নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মাহমুদুল কবির এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে ১১ অক্টোবর খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে চার্জ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এই মামলায় অভিযোগপত্র দেয় দুদক।মামলায় অভিযোগ করা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডার কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করেন। আসামিপক্ষ মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করলে হাইকোর্ট ওই বছরের ৯ জুলাই এই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন এবং রুল দেন। 

তারেক রহমান সরকারের আক্রোশের শিকার : ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকারের আক্রোশের শিকার। আজ সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমন দাবি করেন। তারেক রহমানের ১১তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তারেক রহমানকে নানাভাবে বিপর্যস্ত-বিপন্ন করার জন্য সরকার কূটচাল চালিয়েই যাচ্ছে। তথাকথিত আইনি প্রক্রিয়ার নামে মিথ্যা মামলা ও অন্যায় সাজা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা পূরণের গতি অব্যাহত রেখেছে।’

দেশে অন্ধকার শ্বাসরোধী পরিবেশ বিরাজ করায় ৩ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের ১১তম কারামুক্তি দিবস এবার যথাযথভাবে পালন করা যাচ্ছে না। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নেতৃত্বশূন্য ও বিরাজনীতিকরণের উদ্দেশ্যেই বিএনপির চেয়ারপারসনকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও এ সময় অভিযোগ করেন দলটির মহাসচিব।

আওয়ামী সরকারের বর্ধিতাংশ ১/১১ সরকার—এমনটা মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সুতরাং ১/১১ সরকারের হস্তান্তরের ক্ষমতা ধারণ করার পর থেকে তারেক রহমানের ওপর আরো নানাভাবে নিপীড়ন-নির্যাতনের বহুমাত্রার অভিনব প্রয়োগ দেশবাসী প্রত্যক্ষ করছে। ১/১১ সরকার যে মামলায় তারেক রহমানের নাম অভিযোগপত্রে দিতে পারেনি, ক্ষমতাসীন হওয়ার পর সেই মামলায় সম্পূরক চার্জশিট দিয়ে তারেক রহমানের নাম দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এই নাম দেওয়া সরকারের প্রতিহিংসার চরিতার্থেরই নামান্তর। অর্থাৎ নির্দোষ তারেক রহমান আওয়ামী সরকারের আক্রোশের শিকার।’

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি-কয়লার নামে ৮৫০ কোটি টাকা পানিতে

৫ শতাংশ বেশি আর্দ্রতাসহ কয়লা কিনে প্রায় ৮৪৬ কোটি টাকা গচ্চা দিয়েছে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএমসিএল)। এই খনির কয়লা উত্তোলনকারী চীনের দুই প্রতিষ্ঠানের কনসোর্টিয়ামের কাছ থেকে ৫ দশমিক ১ শতাংশ আর্দ্রতাসহ কয়লা কেনার চুক্তি করা হয়। কিন্তু কয়লা কেনা হয়েছে ১০ শতাংশ আর্দ্রতাসহ।

এদিকে গত জুলাইয়ে হঠাৎ জানা গেছে, খনির ১ লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লার কোনো হদিস নেই। মূলত এই খনির কয়লা দিয়ে চলা বড়পুকুরিয়া তাপভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কয়লার অভাবে বন্ধ হয়ে গেলে এই ‘চুরি’ নজরে আসে। এই কয়লার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৩০ কোটি টাকা। খনি কর্তৃপক্ষ শুরুতে একে সিস্টেম লস বা প্রক্রিয়াগত লোকসান বলে দাবি করে। কিন্তু খনির তদারকি সংস্থা পেট্রোবাংলা তদন্ত করে বলেছে, খনি কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই কয়লার যথাযথ হিসাব রাখেনি। ২০০৫ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে এই খনির কয়লা তোলা হচ্ছে।

'সব মহলে গ্রহণযোগ্যতা পেলে ইভিএম ব্যবহার করা হবে' - কালেরকণ্ঠ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ইভিএম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহার হবে কি হবে না, সে চিন্তা আরো পরে করা হবে। যদি আইন হয়, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয় এবং সব মহলে এর গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া যায়, তার ওপর নির্ভর করবে। আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ইভিএম ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন মহলে ইভিএম নিয়ে উৎকণ্ঠা বা জানার আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক। কারণ, আমরা এটির ব্যবহার, উপকারিতা সম্পর্কে এখনো তাদের জানাতে পারিনি। পর্যায়ক্রমে তারা সব জানতে পারবেন। তিনি বলেন, ইভিএম নিয়ে আমরা এখন প্রস্তুতিমূলক অবস্থানে রয়েছি। এখন এটা আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ব্যাপার। ইভিএম ব্যবহার হবে কিনা সেটা আইন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিসভার আলোচনা হবে।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নির্ভর করবে আইন কানুন, প্রশিক্ষণ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমর্থনের ওপর। নূরুল হুদা বলেন, প্রযুক্তি এখন আর বাক্সে বন্দি নেই। এটি এখন মানুষের হাতে হাতে। মোবাইলের মাধ্যমেই আমরা এখন সব তথ্য আদান-প্রদান করতে পারি। কর্মশালায় ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে ৭ বছরের কারাদণ্ড-যুগান্তর

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য সংগ্রহের সময় গ্রেফতার রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার ইয়াঙ্গুনের জেলা জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। খবর রয়টার্সের। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত সাংবাদিক কো ওয়া লোন (৩২) ও কায়াও সোয়ে ও (২৮) আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক ইয়ে লউইন বলেন, ওই দুই সাংবাদিক গোপনীয় নথি সংগ্রহ ও প্রাপ্তি উপনিবেশিক যুগের অফিসিয়াল সিক্রেটস আইন ভঙ্গ করেছিল। এ জন্য তাদের দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ডিত করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টিফেন জে অ্যাডলার রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মিয়ানমারের জন্য, রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সো ওর জন্য এবং বিশ্বের সব সংবাদমাধ্যমের জন্য আজ একটি দুঃখের দিন। উল্লেখ্য, কো ওয়া লোন এবং কায়াও সোয়ে ও নামে এ দুই সাংবাদিককে গত ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ইয়াঙ্গনের উপকণ্ঠে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাদেরকে ১৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর নির্যাতন নিয়ে তারা কিছু দলিল জোগাড় করেছিলেন। সে জন্য তাদের অফিসিয়াল সিক্রেটস আইনে গ্রেফতার করা হয়। দুজনই মিয়ানমারের নাগরিক। দুই সাংবাদিক বলেছেন, তারা কোনো ভুল করেননি।

আন্দোলনে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বিএনপির-নয়াদিগন্ত

দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনে নামার আগে রাজধানীতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশাল সমাবেশ বিএনপির আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। দলটির নেতারা বলেছেন, সমাবেশ থেকে তারা দু’টি বার্তা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। এক. খালেদা জিয়া জেলে থাকা সত্ত্বেও তাকে কেন্দ্র করেই বিএনপি এখন আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত। দুই. তারা আগামী দিনে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।

৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শনিবার জনসভা করেছে বিএনপি। সমাবেশে নেতাকর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখ করার মতো। নয়াপল্টনের সামনের প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার পুরোটাই ছিল সমাবেশে আগত মানুষে ঠাসা। নেতাকর্মীদের মধ্যেও লক্ষ করা গেছে তেজোদীপ্ত অবস্থা। সমাবেশ চলাকালে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে সিনিয়র নেতাদের দেয়া বক্তব্যকে তারা সমর্থন করেছেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে।

এবার ভারতের বিস্তারিত খবর তুলে ধরছি

কর্নাটকে ফের ধাক্কা বিজেপির, পুরভোটে এগিয়ে কংগ্রেস-জেডিএস

কর্নাটকে ফের ধাক্কা খেল বিজেপি। কয়েক মাস আগেই সরকার গঠন নিয়ে মুখ পুড়েছে গেরুয়া ব্রিগেডের। এবার কার্যত ধরাশায়ী পুরভোটের ফলেও। আলাদা ভাবে লড়েও ভাল ফল কংগ্রেস এবং জনতা দল সেকুলার (জেডিএস)-এর। তবে ভোটের পরে জোটের কথা ঘোষণা করে দিয়েছে দুই শিবিরই। অন্যদিকে ফলাফলের প্রবণতা দেখেই হার স্বীকার করে নিয়েছেন কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা।

কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধি

এইচ ডি কুমারস্বামীর নেতৃত্বে কর্নাটকে কংগ্রেস-জেডিএস জোট করে সরকার গঠনের পর এই প্রথম বড় কোনও ভোট হল কর্নাটকে। ভোট পরবর্তী জোট করে সরকার গঠন হলেও পুরভোটে আলাদা ভাবেই লড়েছিল কংগ্রেস এবং জেডিএস। গত ২৯ অগস্ট মোট ১০৫টি পুরসভা ও পুর কর্পোরেশনের ভোটগ্রহণ হয়। সোমবার গণনা। সব আসনের গণনা শেষ হয়নি। কিন্তু এর মধ্যেই প্রবণতা দেখে মোটামুটি নিশ্চিত অর্ধেকের বেশি পুরসভা দখল করতে চলেছে কংগ্রেস-জেডিএস জোট। ভোট হওয়া ২৬৬৪ আসনের মধ্যে সোমবার দুপুর একটা পর্যন্ত ঘোষিত হয়েছে ২২৬৭ আসনের ফলাফল। তার মধ্যে কংগ্রেস জিতেছে ৮৪৬টি এবং জেডিএস পেয়েছে ৩০৭টি আসন। সেখানে বিজেপির ঝুলিতে ৭৮৮টি আসন। ২৭৭টি আসনে জয় পেয়েছেন নির্দল প্রার্থীরা।

তিরুপতি মন্দিরের কোটি কোটি টাকার গয়না উধাও-দৈনিক বর্তমান

কোথায় গেল তিরুপতির বেঙ্কটেশ্বর মন্দিরের রত্নভাণ্ডার ও বহুমূল্যবান গয়না? ভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ, সংস্কৃতি মন্ত্রক, অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার এবং তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম (টিটিডি) মঠ কর্তৃপক্ষের কাছে এমনটাই জানতে চেয়েছে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন। সেই সঙ্গে টিটিডি’র অধীনস্থ মন্দির ও পুরাতাত্ত্বিক নির্দশনগুলিকে জাতীয় সৌধের স্বীকৃতি দিতে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে তা জানাতে বলেছে সিআইসি। শুধু তাই নয়, অবিলম্বে সরকার যাতে একটি আন্তর্জাতিক নীতি তৈরি করে এই ঐতিহাসিক মন্দির ও তার সম্পত্তিকে (এখন যে অবস্থায় রয়েছে) রক্ষা করতে উদ্যোগী হয়, কড়া ভাষায় সেই নির্দেশও দিয়েছেন তথ্য কমিশনার শ্রীধর আচারুলু।

 তিরুপতির বেঙ্কটেশ্বর মন্দির

ষোড়শ শতকে বিজয়নগরের রাজা শ্রীকৃষ্ণ দেবরায় কোটি কোটি টাকার মূল্যবান গয়না ও মণি-রত্ন মন্দিরকে দান করেছিলেন। যার সাক্ষ্য আজও বহন করে চলেছে তিরুমালার বেঙ্কটেশ্বর মন্দিরের থামগুলিতে খোদাই করা লিপিগুলি। কিন্তু, হায়দরাবাদের ডিরেক্টর অব আর্কিওলজি অ্যান্ড মিউজিয়াম ২০১১ সালে একটি রিপোর্ট দিয়ে জানায়, মন্দিরে রাজার দান করা কোনও গয়নারই অস্তিত্ব মেলেনি।

উত্তরপ্রদেশে গোরক্ষকদের তাণ্ডব, গরুকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে আক্রান্ত বৃদ্ধ

উত্তরপ্রদেশে ফের গোরক্ষকদের তাণ্ডব। গোরক্ষকদের হাতে আক্রান্ত বৃদ্ধ। অসুস্থ গরুকে পশু চিকিৎসালয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় আক্রমণের শিকার হলেন কৈলাসনাথ শুক্লা (৭০) নামের ওই বৃদ্ধ। অভিযোগ, গোরক্ষক পরিচয় দিয়ে একদল লোক তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। লাঠিপেটার পাশাপাশি মুখে চুনকালিও দিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। এতেই থামেনি অভিযুক্তরা। গলায় জুতোর মালা পরিয়ে গোটা গ্রাম ঘোরানো হল কৈলাসনাথকে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বলরামপুরে।

জানা গিয়েছে, কৈলাসনাথের একটি গোশালা রয়েছে। দিন দুয়েক আগেই সেই গোশালার একটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়লে পাশের গ্রামে পশু হাসাপাতলে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ওই বৃদ্ধ। পরের দিন যখন গরু নিয়ে হাসপাতালের পথে চলেছেন তখনই ঘটে বিপত্তি। অভিযোগ, গোরক্ষক পরিচয় দিয়ে একদল লোক তাঁকে ঘিরে ধরে। তিনি বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন কোনও মুসলিম ধর্মাবলম্বীকে গরু বিক্রি করতে যাচ্ছেন না। গরুটি অসুস্থ, তাই হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে হামলাকারীদের কানে কৈলাসনাথের বক্তব্য পৌঁছায়নি। অভিযোগ, কোনওকিছু না শুনেই বৃদ্ধকে লাঠিপেটা শুরু করে অভিযুক্তরা। এরপর মুখে চুনকালি দিয়ে গলায় জুতোর মালা পরিয়ে গোটা গ্রাম ঘোরানো হয়।#

পার্সটুডে/বাবুল আখতার/৩

 

 

 

 

ট্যাগ

২০১৮-০৯-০৩ ১৬:৪২ বাংলাদেশ সময়
মন্তব্য