২০১৮-১০-১০ ১৮:১১ বাংলাদেশ সময়

বন্ধুরা! সালাম ও শুভেচ্ছা নিন। আশা করি যে যেখানেই আছেন ভালো ও সুস্থ আছেন। আসলে সুস্থ থাকার কথা বললেও সুস্থ থাকা সবসময় ততটা সহজ নয়। সুস্থ থাকতে হলে প্রয়োজন বহু বিষয় জানা এবং মানা।

বিশেষ করে একটি সুস্থ পরিবার কী করে গড়ে তোলা যায় কিংবা অন্যভাবে বলা চলে পারিবারিক সুস্থতার জন্য কী কী কাজ করা প্রয়োজন-সেসব বিষয় নিয়ে আমরা নতুন এই ধারাবাহিকে আলোচনা করার চেষ্টা করবো। এই ধারাবাহিকের নাম 'সুস্থ পরিবার'। আজ থেকেই শুরু হচ্ছে এই আলোচনা। নতুন এই ধারাবাহিকের প্রথম আসরে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি।

একটি সুস্থ পরিবারের প্রাথমিক প্রয়োজনীয়তা হলো শারীরিক সুস্থতা। আর শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রাখে সঠিক খাবার ও খাদ্যাভ্যাস। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত খাবার মানুষের আবশ্যিক নিত্যসঙ্গী। খাবারের ওপর নির্ভর করে মানুষের কায়িক বৃদ্ধি, আয়ু, সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি, আচার-আচরণ,ব্যবহার ও সৃজনশীলতা,শক্তি-সামর্থ্য,প্রজন্মের বিস্তার ইত্যাদি প্রায় সবকিছুই সুস্থ ও যথাযথ খাবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আর যথাযথ খাবারের জন্য প্রয়োজন খাদ্য-নিরাপত্তা। খাদ্য নিরাপত্তা বলতে বোঝায় একটি সমাজের সকল সদস্যের জীবনব্যাপী যথেষ্ট ও নিরাপদ খাবারের নিশ্চয়তা।

অবশ্য নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করার ব্যাপারে পরিবারের অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। খাবার নির্বাচন সঠিক হওয়া যেমন জরুরি তেমনি খাবার তৈরির বিষয়টিও যথাযথ হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।খাবার থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান সঠিকভাবে শরীরে ও কোষে প্রবেশ করানোর বিকল্প নেই।খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি আজকাল বিশ্বজুড়ে নিরাপদ খাবারের বিষয়টিও ব্যাপক গুরুত্বের সাথে আলোচনায় উঠে এসেছে।নিরাপদ খাবার বলতে বোঝায় খাদ্যপণ্য যেন সুস্থ ও স্বাস্থ্যসম্মত হয় এবং সর্বপ্রকার দূষণ থেকে মুক্ত হয়। জীবাণু,পরজীবী সংক্রমণ কিংবা রাসায়নিক দূষণ-সর্বপ্রকার দূষণ থেকে খাদ্যপণ্য মুক্ত হওয়া জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিল্পোন্নত দেশগুলোর তুলনায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্যদূষণের ফলে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হবার পরিমাণ শতকরা ১৩ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

শারীরিক সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় কিংবা বলা ভালো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো সঠিক ও দূষণমুক্ত খাবার গ্রহণ।মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা অপরিসীম।খাদ্য ও পুষ্টিবিদগণ সবসময় পরামর্শ দিয়ে থাকেন, শরীরের প্রয়োজনীয় অ্যানার্জি নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে যেন নিজেদেরকে রোগ-জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও সবসময় নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এসেছে।খাবার যেসব উপাদান থেকে তৈরি হয় সেইসব প্রাথমিক উপাদান যেন ক্ষতিকর না হয়।

অবশ্য খাদ্যপণ্য স্বাস্থ্য সম্মত হবার জন্য যে বিষয়টি খুবই প্রয়োজনীয় তাহলো খাবার তৈরির সকল পর্যায়েই খাদ্য উপাদানগুলো স্বাস্থ্য সম্মত কিনা-তা নিশ্চিত করা। স্বাস্থ্য সম্মতভাবে খাবার তৈরি করার পর তা সরবরাহ করা এবং খাওয়া পর্যন্ত এই নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। কেননা এগুলোর কোনো একটি পর্যায়েও যদি স্বাস্থ্যসম্মত বৈশিষ্ট্য লঙ্ঘন করা হয় তার প্রভাব সকল পর্যায়েই পড়বে।নিরাপদ খাবারের আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো,যতটা সম্ভব খাবার যেন তার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কিংবা তার কাছাকাছি পর্যায়ে থাকে। এর কারণ হলো খাবারের মধ্যে যে ফাইবার বা আঁশ থাকে তা যেন নষ্ট না হয়ে যায় সেদিকটা রক্ষা করা জরুরি।গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া সকল সচেতন নাগরিকের অবশ্য কর্তব্য। বন্ধুরা! আপনারাও কিন্তু সেই দায়িত্ব থেকে মুক্ত নন।

পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে বিচিত্র সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন ডায়রিয়া হতে পারে, ভাইরাস দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে, শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি বিঘ্নিত হতে পারে, বিচিত্র ক্যানসারসহ আরও বহুবিধ সমস্যা দেখা দিতে পারে।এই সমস্যাগুলো যে কেবল শিশুদের মধ্যেই দেখা দেবে তা নয় বরং দুধের শিশু থেকে শুরু করে বাড়ন্ত শিশু এমনকি বড়দের মধ্যেও দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ অনিরাপদ খাবারের আক্রমণ থেকে কেউই নিরাপদ নয়।এ কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা 'কৃষিক্ষেত থেকে দস্তরখান'পর্যন্ত সকল পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞানীরা নিরাপদ খাবারের ব্যাপারে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন। প্রথম বিষয়টি হলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। বিশেষ করে রান্নঘরের পরিবেশ থাকা চাই একেবারেই দূষণমুক্ত। রান্নাঘরে যেন তেলাপোকা, মাছি কিংবা এ জাতীয় কোনোরকম পোকামাকড় না থাকে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। বিড়াল, কুকুরসহ এ জাতীয় কোনো পশুও যেন ঢুকতে না পারে। রান্না করার সময় হাত পরিষ্কার করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো রান্না করা জিনিস এবং রান্না না করা জিনিস আলাদা আলাদাভাবে রাখা। খাবারকে দূষণ থেকে নিরাপদ রাখার জন্য সামুদ্রিক খাদ্য, মুরগি ও গরুর মাংসকে অপরাপর খাবার থেকে পৃথক করে আলাদা আলাদা পাত্রে রাখা খুবই জরুরি। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিকটি নিয়ে আমরা কথা বলবো খানিক মিউজিক বিরতির পর।

খাবারকে নিরাপদ রাখার জন্য তৃতীয় যে বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি দেওয়া খুবই জরুরি তাহলো,খাবার অবশ্যই পুরোপুরি সিদ্ধ হতে হবে এবং যথাযথ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে।রান্না করা খাবারকে রুমের তাপমাত্রায় দুই ঘণ্টার বেশি রাখা ঠিক নয়।এই নিয়মে সংরক্ষণ করার পরও খাওয়ার সময় অবশ্যই খাবার অবশ্যই গরম করা উচিত।সর্বোপরি খাবার তৈরি করার জন্য স্বাস্থ্যকর ও যথাযথ খাদ্য উপাদান এবং অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে হবে। এই দিকগুলো অনুসরণ করা হলে আশা করা যায় বিশুদ্ধ খাবার তৈরি করা সম্ভব হবে এবং খাবার থেকে দেহের প্রয়োজনীয় উপাদান উপকরণ পাওয়া যাবে। আমরা সচেতন হয়ে উঠি-এই প্রত্যাশায় আজ এ পর্যন্তই। কথা হবে আবারও পরবর্তী আসরে।#

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/আশরাফুর রহমান/১০

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন

ট্যাগ

মন্তব্য